একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় পার্টিও (জাপা) সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) এমএ হান্নানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বাবু। বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত তিন বিচারকের ট্রাইব্যুনালে গতকাল মঙ্গলবার সাক্ষ্য দেন তিনি। খালিদ বাবু ময়মনসিংহ-৫ আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি।আসামি হান্নান ময়মনসিংহ-৭ আসনের এমপি ছিলেন। খালিদ বাবু তার সাক্ষ্যে জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি দশম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। ওই সময় মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে এম এ হান্নানের ভূমিকা ও অপরাধের বিবরণ দেন তিনি।
সাক্ষ্যগ্রহণের সময় প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন, তাপস কান্তি বল ও রেজিয়া সুলতানা চমন উপস্থিত ছিলেন। খালিদ বাবুকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুস সোবহান তরফদার। প্রসিকিউটর তাপস বল দেশ রূপান্তরকে জানান, ১৯৭১ সালের আগস্টে পাকিস্তানি মিলিশিয়া বাহিনী, আলবদর- রাজাকারদের কয়েকজন তাকে (খালিদ) ময়মনসিংহ শহর থেকে ধরে নিয়ে মারতে মারতে হান্নানের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া, এরপর হান্নানের নির্দেশে তাকে ময়মনসিংহের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে পাকিস্তানি আর্মির নির্যাতন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া, সেখানে আটকদের এবং তাকে নির্যাতনসহ সেখান থেকে দুই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে যাওয়ার পর আর ফিরে না আসার বিবরণ দেন খালিদ বাবু।
ময়মনসিংহের ত্রিশালের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রহমানের স্ত্রী রহিমা খাতুন ২০১৫ সালের ১৯ মে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা করেন। এ মামলায় হান্নান ও তার ছেলেসহ মোট ৮ আসামির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে হান্নান ও তার ছেলে রফিক সাজ্জাদকে ঢাকার গুলশান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন ময়মনসিংহ সদর ও ত্রিশাল থেকে আরও তিন আসামি গ্রেপ্তার হন। আরেক আসামি ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন। এ মামলায় দুই আসামি এখনো পলাতক। আসামিদের বিরুদ্ধে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, আটক, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগসহ ছয় ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে ২০১৬ সালের ৩১ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। পরে ওই বছরের ১১ ডিসেম্বর অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। ২০১৯ সালের ২৭ মে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আসামিদের বিচার শুরু হয়।