করোনার নতুন ধরন

বিশ্বে প্রতি ৯ দিনে দ্বিগুণ হচ্ছে সংক্রমণ

এক বছরের বেশি সময় ধরে বিশ্বে তান্ডব চালাচ্ছে করোনাভাইরাস। চীন থেকে প্রাদুর্ভাব হওয়া এই প্রাণঘাতী ভাইরাসে কোটি কোটি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। মারা যাওয়ার সংখ্যাও কম নয়। কিন্তু এখনো পর্যন্ত সংক্রমণ কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এর মধ্যে কয়েক হাজারবার রূপ বদলেছে ভাইরাসটি। বিশেষ করে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা খুবই নাজুক। যুক্তরাষ্ট্রে করোনার নতুন একটি ধরন  ছাড়াচ্ছে ভয়াবহ মাত্রায়। সেখানে নতুন ধরনের ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতি ৯ দিনে দ্বিগুণ হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) মনে করছে, মার্চের মধ্যে এই নতুন স্ট্রেইন ভয়ংকরভাবে ছড়িয়ে পড়বে। তখন এটাই করোনার প্রধান ভাইরাস হিসেবে গণ্য হবে। সিডিসির রিপোর্ট বেশ কিছু গবেষক ও বিশেষজ্ঞ মিলে তৈরি করেছেন।

নতুন এক সমীক্ষার রিপোর্টে বলা হয়েছে, অবিলম্বে এই নতুন স্ট্রেইন থামাতে ব্যবস্থা নিতে হবে। না হলে আমেরিকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। কারণ, এই স্ট্রেইন ৩৫ থেকে ৪৫ শতাংশ বেশি ছোঁয়াচে।

জানুয়ারির প্রথম থেকে যুক্তরাষ্ট্রে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে। কিন্তু মৃত্যুর হার এখনো যথেষ্ট বেশি। গড়ে এখনো প্রতিদিন তিন হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন। হাসপাতালের ওপরও চাপ প্রচন্ড রয়েছে। এই অবস্থায় সমীক্ষার রিপোর্ট স্বাস্থ্য অধিকর্তাদের চিন্তা বাড়িয়েছে।

এদিকে জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডমিটারসের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১০ কোটি ৭০ লাখ ৩ হাজার ৫২৬। এর মধ্যে মারা গেছে ২৩ লাখ ৩৬ হাজার ২৪২ জন। ইতিমধ্যেই করোনা থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৭ কোটি ৮৮ লাখ ৪৭ হাজার ৬৪৬ জন।

এখন পর্যন্ত করোনায় সবচেয়ে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে আক্রান্ত ও মৃত্যু সবচেয়ে বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ২ কোটি ৭৭ লাখ ৬২৯। এর মধ্যে মারা গেছে ৪ লাখ ৭৬ হাজার ৪০৫ জন। দেশটিতে করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছে ১ কোটি ৭৫ লাখ ১২ হাজার ৫৮৪ জন।

সংক্রমণে যুক্তরাষ্ট্রের পরেই রয়েছে ভারত। সেখানে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ৮৪ লাখ ৭ হাজার ৭৯০। এর মধ্যে মারা গেছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ১৯৫ জন। দেশটিতে ইতিমধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠেছে ১ কোটি ৫৪ লাখ ৬ হাজার ৯০৫ জন।

এদিকে ব্রাজিলে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৯৫ লাখ ৫০ হাজার ৩০১ জন। দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ২ লাখ ৩২ হাজার ২৪৮ জন। ইতিমধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠেছে ৮৪ লাখ ৪৭ হাজার ৬৪৫ জন।

রাশিয়ায় এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩৯ লাখ ৮৩ হাজার ১৯৭। এর মধ্যে মারা গেছে ৭৭ হাজার ৬৮ জন। দেশটিতে করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছে ৩৪ লাখ ৭২ হাজার ৯১ জন।

যুক্তরাজ্যে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৩৯ লাখ ৫৯ হাজার ৭৮৪। এর মধ্যে মারা গেছে ১ লাখ ১২ হাজার ৭৯৮ জন। ইতিমধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠেছে ১৯ লাখ ৫০ হাজার ৮৮৬ জন।

ফ্রান্সে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৩৩ লাখ ৪১ হাজার ৩৬৫। এর মধ্যে মারা গেছে ৭৯ হাজার ৪২৩ জন। দেশটিতে ইতিমধ্যেই করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৯৯৩ জন।

এদিকে স্পেনে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ২৯ লাখ ৮৯ হাজার ৮৫। এর মধ্যে মারা গেছে ৬২ হাজার ২৯৫ জন। ইতালিতে আক্রান্তের সংখ্যা ২৬ লাখ ৪৪ হাজার ৭০৭। এখন পর্যন্ত মারা গেছে ৯১ হাজার ৫৮০ জন। তুরস্কে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ২৫ লাখ ৩৯ হাজার ৫৫৯। এর মধ্যে মারা গেছে ২৬ হাজার ৯০০ জন। অপরদিকে জার্মানিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ২২ লাখ ৯৬ হাজার ৩২৬। দেশটিতে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৬২ হাজার ৫৯৭ জনের। ইতিমধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠেছে ২০ লাখ ৪১ হাজার ৩০০ জন।