নানা-নাতির হাতে বিষের শিশি তুলে দিল মানবাধিকার সংগঠন

সন্তানরা সম্পত্তি কেড়ে নেওয়ায় এতিম নাতি সুমনকে (৯) নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন মেহেরপুর মুজিবনগর উপজেলার কোমরপুর গ্রামের মুসা করিম (৮০)। এ অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তাদের ‘আত্মহত্যার’ দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মেহেরপুরের মানব উন্নয়ন কেন্দ্র (মউক) নামে একটি মানবাধিকার সংগঠনের বিরুদ্ধে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মউকের নির্বাহী প্রধান আসাদুজ্জামান সেলিম গতকাল বুধবার দুপুরে মুসা করিম, তার নাতি সুমনসহ সংগঠনের কর্মীদের নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। এ সময় সেলিম তার বক্তব্যে বলেন, ‘সম্পত্তি ছেলেরা নিয়ে নেওয়ায় বৃদ্ধ মুসা করিম এতিম নাতিকে নিয়ে পথে পথে ঘুরছেন। সম্পত্তি উদ্ধার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা জেলা প্রশাসনের ওপর চাপ তৈরি করব। স্বেচ্ছায় আত্মহত্যার অনুমতি নিতে ডিসির কাছে যাব।’

তার এ বক্তব্য ফেইসবুকে লাইভ করেন সংগঠনের কর্মীরা। সেলিম বক্তব্য শেষ করেই বিষের বোতল এবং স্বেচ্ছায় আত্মহত্যার একটি অনুমতিপত্র নানা-নাতির হাতে গুঁজে দেন। পরে তাদের নিয়ে ডিসির কাছে যান এবং ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বিচার না পেলে দুজন বিষপানে আত্মহত্যা করবেন, এ অনুমতি ডিসিকে দিতে হবে বলে হুমকি দেন সেলিম।

এ সময় জেলা প্রশাসক মনুসর আলম খান নানা-নাতির হাত থেকে বিষের বোতল কেড়ে নেন এবং এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজন করায় সেলিমের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন হলে আইন আছে। কিন্তু এভাবে কাউকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া বেআইনি ও অপরাধমূলক কাজ। পুলিশ প্রশাসনকে বলেছি, তারা তদন্ত করে মউকের লোকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।’

মুসা করিম বলেন, ‘লোকগুলো আমার সম্পত্তি উদ্ধার করে দেবে বলে এখানে নিয়ে এসেছে। তারা যা করতে বলছে, আমি করছি।’

এ বিষয়ে মউকের নির্বাহী প্রধান আসাদুজ্জামান সেলিম বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তের পাশে দাঁড়িয়ে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য আমরা কাজ করছি। বৃদ্ধ ও তার নাতির বিষয়টি জেলা প্রশাসকের নজরে আনার জন্য এ পরিকল্পনা করি। কিন্তু কৌশলে একটু ভুল হয়ে গেছে।’