চসিকের নতুন মেয়র ও কাউন্সিলরদের শপথগ্রহণ আজ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) নবনির্বাচিত মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী ও নবনির্বাচিত ৫৪ কাউন্সিলরের শপথ গ্রহণ আজ বৃহস্পতিবার। সকাল ১১টায় ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে নবনির্বাচিত মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীকে ভার্চুয়ালি শপথবাক্য পাঠ করানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। এছাড়াও নির্বাচিত কাউন্সিলরদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। এসব বিষয় নিশ্চিত করেছেন নবনির্বাচিত সিটি মেয়র ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরী নিজেই।

গত ২৭ জানুয়ারি ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২৪৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে সিটি মেয়র  নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মেয়রপ্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন পেয়েছেন মাত্র ৫২ হাজার ৪৮৯ ভোট। চসিক মেয়রের চেয়ারে বসে প্রথমে কোন কাজকে অগ্রাধিকার দেবেন এ প্রশ্নের জবাবে বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম চৌধুরী গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শুরুতেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তিনিই আমাকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দিয়েছেন বলেই নগরবাসী আমাকে বিপুল ভোটে মেয়র নির্বাচিত করেছেন। অনেক প্রত্যাশা নিয়ে নগরবাসী আমাকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়ের মালা পরিয়েছেন। তাই নগরবাসীর জন্য অনেক কিছু করার আছে। এ লক্ষ্যে আমি ৩৭ দফা নির্বাচনী ইশতেহারও দিয়েছি। শুরুতেই আমি নগরীর মশক নিধন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং রাস্তাঘাট সংস্কারকাজে হাত দিতে চাই। কেননা, বর্তমানে মশার যন্ত্রণা, অপরিচ্ছন্ন নগরী ও ভাঙাচোরা সড়কের কারণে নগরবাসী অতিষ্ঠ। শুরুতেই এসব কাজকে ত্বরান্বিত করতে চাই। পরে আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ক্রমান্বয়ে ৩৭ দফা ইশতেহার বাস্তবায়ন করব।

তিনি বলেন, আমার ৩৭ দফার ইশতেহারে জলাবদ্ধতা নিরসন, ১০০ দিনের অগ্রাধিকার, যানজট নিরসন, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, খাল-নদী ও নালা-নর্দমা দখলদার উচ্ছেদ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পর্যটন স্পট গড়ে তোলা, হোল্ডিং ট্যাক্সকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর বাইরেও আমার বিশেষ কিছু পরিকল্পনা আছে। যা সুধীজনদের সঙ্গে পরামর্শ করে বাস্তবায়ন করব।’ রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘শপথ গ্রহণ শেষে ৩২ নম্বর ধানমন্ডিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করব। পরদিন শুক্রবার সকালে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর মাজার জিয়ারত করব। সোমবার সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট হলে সুধী সমাবেশ করব। সেখানে সবার পরামর্শ নিয়ে করপোরেশনে গিয়ে মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করব।

চিরসবুজ এই চট্টগ্রাম নগরীকে আকর্ষণীয়ভাবে সাজাতে আমার অনেক পরিকল্পনা আছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর বিস্তারিত আপনাদের (সাংবাদিকদের) জানাব।’

এদিকে, শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রেজাউল করিম সপরিবারে গতকাল বিকেলে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে একটি ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছেন। পাশাপাশি দুপুর দুইটার দিকে নগরীর জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ মাঠ থেকে সোহাগ পরিবহনের এসি বাসযোগে কাউন্সিলর, তাদের আত্মীয়-স্বজন এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা রওনা হন। এ ছাড়া ব্যক্তিগত গাড়িতে করে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যান চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের শতাধিক শীর্ষ নেতাও শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় গেছেন।

 সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর সঙ্গে আজ শপথ গ্রহণ করবেন ১৪ জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর এবং ৪০ জন সাধারণ কাউন্সিলর। ৪১ ওয়ার্ডের মধ্যে ৩১ নম্বর আলকরণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী তারেক সোলেমান সেলিমের মৃত্যুর কারণে নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। এই ওয়ার্ডে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি কাউন্সিলর পদে ভোটগ্রহণ হবে।