সম্পদের লোভ নিয়ে রাজনীতিতে টেকা যায় না : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা না করে অর্থ-সম্পদের লোভ নিয়ে বেশিদিন রাজনীতিতে টিকে থাকা যায় না। গতকাল বুধবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুবলীগের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন তিনি।

যুবলীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে আমাদের চলতে হয়েছে, চলতে হবে এটা স্বাভাবিক। তবু আমি যুবলীগের নেতাকর্মীদের বলব, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ যদি কেউ বুকে ধারণ করে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করে রাজনীতি করে তাহলে সে রাজনীতিতে টিকে থাকা যায়। কিন্তু যে রাজনীতি করতে গিয়ে লোভের বশবর্তী হয়, অর্থ সম্পদটা যার কাছে বড় হয়ে যায় তারা কিন্তু বেশিদিন টিকতে পারে না এটা বাস্তবতা। এটা শুধু আমাদের দল বলে না। আমি সমগ্র বাংলাদেশের অন্য সব রকম রাজনৈতিক দলের কথাই যদি চিন্তা করি তাহলে আমরা সেটাই দেখব।’

তিনি বলেন, ‘সংগঠনকে শক্তিশালী করে আদর্শভিত্তিক সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সব সময় এটা মনে রাখতে হবে যে আমাদের রাজনীতি যেন আমাদের দেশের মানুষের জন্য হয়, কল্যাণের জন্য হয়। সেই রাজনীতিটাই হচ্ছে সঠিক রাজনীতি। আর রাজনীতি করতে আসে যারা ভাগ্য তৈরি করতে, হয়তো তারা কিছু টাকা-পয়সা বানাতে পারে। কিন্তু তারপরে আর তার অস্তিত্ব থাকে না এটা আজ প্রমাণিত সত্য।’ তরুণদের কল্যাণে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি দেশের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘জাতির পিতাকে হত্যার পর যারা সংবিধান লংঘন করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছিল, তারা ক্ষমতাকে ভোগের বস্তু হিসেবে নিয়েছিল বলে আজ জনগণের কাছে তাদের কোনো স্থান নেই। আমি জিয়াউর রহমানের কথা বলি, এরশাদের কথা বলি, খালেদা জিয়ার কথা বলিৃ যারাই ক্ষমতায় এসেছে তারাই নিজেদের ভাগ্য নিয়েই ব্যস্ত ছিল; নিজেরা অর্থ-সম্পদ নিয়েই ব্যস্ত। মানুষের জন্য করেনি। মানুষের জন্য করলে যে করা যায় সেটা আওয়ামী লীগ প্রমাণ করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষের জীবনকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েই সরকার করোনাভাইরাসের টিকা আনার পদক্ষেপ নিয়েছে। যারা এর সমালোচনা করছে, তাদের কথায় গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই। করোনাভাইরাসের সময়ে আমরা ইতিমধ্যে টিকা দেওয়া শুরু করেছিৃ অনেক কথা শুনতে হয়। এসব কথায় কান দিলে চলে না। অনেকেই তো বলেছে, বাংলাদেশে ভ্যাকসিন আসবে না। অনেক উন্নত দেশও কিন্তু আনতে পারেনি। আমি কিন্তু কোনো দিকে তাকাইনি। আমার কাছে মানুষ সব থেকে বড়, মানুষের জীবন বড়।’

বাংলাদেশ যাতে দ্রুত করোনাভাইরাসের টিকা পায়, তা নিশ্চিত করতে সরকারের চেষ্টার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি যখন প্রথম ভ্যাকসিনের জন্য টাকা দিই, এক হাজার কোটি টাকা আলাদা রেখেৃ আমি সঙ্গে সঙ্গে অ্যাডভান্স করে দিয়েছিলাম যে যখনই ভ্যকসিন তৈরি হবে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যখনই অনুমোদন দেবে, সবার আগে যেন বাংলাদেশ পায় এবং সেটাই আজ প্রমাণিত সত্য।’

সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে সরকারের কেনা তিন কোটি ডোজ টিকার মধ্যে ৫০ লাখ ডোজ ইতিমধ্যে দেশে এসেছে। এছাড়া আরও ২০ লাখ ডোজ টিকা উপহার হিসেবে পাঠিয়েছে ভারত সরকার। ভ্যাকসিন উপহার দেওয়ায় ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন আরও অনেকেই দিতে চাচ্ছেন। কিন্তু আমাদের যেটা প্রয়োজন, আমরা কিন্তু নিয়ে এসেছি।’ টিকা নিয়ে অনেকের মধ্যে শুরুতে কিছুটা দ্বিধা থাকলেও এখন তা কেটে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

টিকা পাওয়ার পরও সবাইকে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘টিকা নেওয়ার পরেও কিন্তু স্বাস্থ্য সুরক্ষার নিয়মগুলো মেনে চলতে হবে। মাস্ক ব্যবহার করতে হবে, হাত পরিষ্কার করতে হবে এবং সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবেৃ এটা সবাইকেই নজরে রাখতে হবে এবং এটা যুবলীগ করবে, সেটা আমি চাই।’

রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তন প্রান্তে এ সময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, যুবলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ হুমায়ুন, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে সামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।