‘জিয়ার খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক নয়’

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা এবং মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডারদের একজন জিয়াউর রহমানের বীরউত্তম খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)। জামুকা ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা বা না করা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভর করছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক গতকাল বুধবার দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, জিয়াউর রহমানসহ যে পাঁচজনের রাষ্ট্রীয় খেতাব জামুকায় বাতিল করার সিদ্ধান্ত হয়েছে তা রাজনৈতিক কারণে নয়। এ ব্যাপারে দালিলিক প্রমাণ সংগ্রহ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গত মঙ্গলবার জামুকার ৭২তম বৈঠকে জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলের ব্যাপারে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় জড়িত থাকা এবং রাজাকারদের রাজনীতিতে পুনর্বাসনসহ নানা অভিযোগ থাকায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত সুপারিশ হিসেবে মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর সেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। এছাড়া বৈঠকে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি শরিফুল হক ডালিম, নূর চৌধুরী, রাশেদ চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দিনের রাষ্ট্রীয় খেতাবও বাতিলের সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় জড়িত থাকা এবং হত্যাকারীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলের সুপারিশ করেছে মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল। এখন দালিলিক প্রমাণ সংগ্রহের জন্য একটি কমিটি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক চিন্তা থেকে বা কোনো পরিস্থিতির কারণে খেতাব বাতিলের বিষয়টি আনা হয়নি। ইতিহাসকে বিকৃত করার জন্য নয়, ইতিহাসের স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার জন্যই এবং ঐতিহাসিকভাবে যা সত্য, তা প্রতিষ্ঠা করার জন্যই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

মোজাম্মেল হক আরও বলেন, ‘তিনি (জিয়াউর রহমান) যদি প্রমাণিত হন যে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সঙ্গে জড়িত নন, তাহলে হয়তো ব্যবস্থা হবে না। তবে তিনি জড়িত মর্মে আলোচনায় যা উঠে এসেছে, তাতে তার জড়িত থাকার বিষয়টিই প্রমাণ হয়। যাই হোক তারপরও আমরা দালিলিক প্রমাণ সংগ্রহ করে তার ভিত্তিতেই রিপোর্ট তৈরি করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।’

এ বিষয়ে জামুকার এক সদস্য এবং সংসদের অনুমিত হিসাব কমিটির সভাপতি আবদুস শহীদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রফেসর ইব্রাহিমকে “নিশানে পাকিস্তান” খেতাব দিয়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ছয় দফা আন্দোলনকে সমর্থন করায় সেটি আবার কেড়েও নিয়েছিল পাকিস্তান। কেউ একবার খেতাব পেলেও পরবর্তীকালে তার কার্যক্রম দেশ ও স্বাধীনতার বিরুদ্ধে গেলে সরকার তো সেটি প্রত্যাহার করতেই পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারা সবকিছু পর্যালোচনা করে এবং মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার প্রতি মানুষের আবেগ-অনুভূতিকে বিবেচনায় নিয়ে সুপারিশ করেছেন। এখন মন্ত্রণালয় দেখবে তারা কতটুকু কী করতে পারে।’

জামুকার সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শাজাহান খান বলেছেন, ‘জামুকার বৈঠকে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত ও দণ্ডপ্রাপ্ত খুনিদের খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে ওই হত্যাকাণ্ডে মদদ দেওয়ার কারণে জিয়াউর রহমানের খেতাবও বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত এখন মন্ত্রণালয়ে যাবে, তবে এটি গ্রহণ করা বা না করার ক্ষমতা মন্ত্রণালয়ের আছে।’

মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকার জন্য পাওয়া খেতাব পরবর্তী সময়ে বাতিলের সুযোগ আছে কি না এ প্রশ্নের জবাবে শাজাহান খান বলেন, ‘একটা কমিটি এ নিয়ে কাজ করবে এবং তারাই এ বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবে।’ কাউন্সিলের ওই বৈঠকে খোন্দকার মোশতাক আহমেদের নাম মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ‘স্মরণীয়-বরণীয়’ ব্যক্তি হিসেবে যে রাষ্ট্রীয় তালিকা, সেখান থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।