জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যায় আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক সাজার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তার বাবা ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক। তবে উচ্চ আদালতে এ মামলার বিচার দীর্ঘায়িত হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি ও রায় কার্যকরের দাবি জানান তিনি।
গতকাল বুধবার রায়ের প্রতিক্রিয়ায় দেশ রূপান্তরকে অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশকে বলা হতো বিচারহীনতার সংস্কৃতির দেশ। এখন বিভিন্ন মামলা চলছে, রায় হচ্ছে। দীপন হত্যার বিচারের রায়ও হয়েছে, এটি একটি ভালো দিক। বিচারের যে রায় হয়েছে তাতে বিচারকই বলেছেন, এটি একটি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তবে আসামিরা হাইকোর্টে আপিল করবে। এরপর মামলা যাবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে। সামনে এ বিচার দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি করে রায় তাড়াতাড়ি কার্যকর হবে অবশ্যই এটি চাই।’
তিনি বলেন, ‘দীপন নেই, আমরা বেঁচে আছি, আমরা দীপনকে বাঁচাতে ব্যর্থ হয়েছি এবং দীপনকে কোনোদিনও পাওয়া যাবে না এজন্য কষ্টের যন্ত্রণার অন্ত নেই। বাবা হিসেবে এই বোধ দারুণভাবে যন্ত্রণা দেয়। তবে এ রায়টি আমাদের কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে। আমাদের এখন পারিবারিকভাবে এই সান্ত¡না ছাড়া আর কিছু নেই। দেশে আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য যেকোনো অপরাধের বিচার হওয়া উচিত এবং যারা প্রকৃত অপরাধী তাদের যেন শাস্তি হয়।’ আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেন, ‘দীপনের মৃত্যুর পর শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা দুনিয়াতেই একটা আলোড়ন হয়। জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল বিবৃতি দিয়ে বলেন যে, বই প্রকাশের কারণে যদি কাউকে হত্যা করা হয় তাহলে সেই ঘটনা একেবারেই নতুন ও অদ্বিতীয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান ও মন্ত্রীরাও বিবৃতি দিয়ে হত্যাকা-গুলোর বিচার করতে সরকারকে চাপ দিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘জঙ্গিবাদী সংগঠনগুলো গুপ্তহত্যাসহ বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে। নিজেদের গোপন রেখে কিছুদিন নাম পরিবর্তন করে অন্য নামে আবার কিছুদিন আরেক নামে অপরাধ করে। তারা এই চর্চা করতে করতে একটা অবস্থা তৈরি করে মানুষকে হত্যা করে। জঙ্গিবাদীরা ইসলামের নামে মানুষকে হত্যা করে। কিন্তু ইসলাম তো শান্তির ধর্ম। এ ধরনের গুপ্তহত্যা, জঙ্গিবাদ ইসলাম সমর্থন করে না। গোপনে কাউকে হত্যা করে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করার যে চিন্তা এটি সম্পূর্ণ ভুল।’ ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক এ শিক্ষক বলেন, ‘কোনো কারণে যদি ধর্মবিরোধী শক্তি দেখা দেয় তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সেটা দমন করার চেষ্টা করতে হবে। যদি সর্বজনীন গণতন্ত্রের আদর্শ অবলম্বন করা হয় তাহলে অনেক অনাচার-দুরাচার বন্ধ করা যাবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ব্লগার লেখক অভিজিৎসহ আরও অনেকের হত্যা মামলার বিচারের রায় হবে। যারা প্রকৃত অপরাধী তাদের শাস্তির বিধান করলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। আর অপরাধীদের শাস্তির বিধান যথাযথ সময়ে না করলে আইনের শাসনও দুর্বল হয়ে যায়।’
এদিকে দীপনের স্ত্রী ও মামলার বাদী রাজিয়া রহমান জলি রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। জঙ্গিদের দ- ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এজলাসে অঝোরধারায় কাঁদেন তিনি। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন দীপনের স্ত্রী।