টানা চার সপ্তাহ ধরে বিশ্বজুড়ে করোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা নিম্নমুখী। দুই সপ্তাহ ধরে কমেছে মৃত্যুর সংখ্যাও। গেল এক বছর ধরে বিশ্বজুড়ে করোনা রোগী শনাক্ত কখনো কিছুটা কমেছে, কখনো বেড়েছে। তারতম্য হয়েছে মৃত্যুর সংখ্যায়। মহামারী রূপ নেওয়া করোনাভাইরাস এক বছরে সাড়ে ১০ কোটির বেশি মানুষকে আক্রান্ত করে ২৩ লাখের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া ভাইরাস কিছুটা দম ধরেছে। গত সপ্তাহে তার আগের সপ্তাহের চেয়ে শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা কমেছে অন্তত ১৭ শতাংশ। আর দুই সপ্তাহের ব্যবধানে মৃত্যু কমেছে ১০ শতাংশের বেশি।
দেশে দেশে যখন করোনার টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে তখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে আসা এসব তথ্য-উপাত্ত ইতিবাচক আশা জাগায়। সংস্থটির ভাষ্য, এখনো বিশ্বের অনেক দেশেই সংক্রমণ বাড়ছে, তবে সাকল্যে এই চিত্র উৎসাহব্যঞ্জক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, চলতি বছরের মধ্যেই ২০০ কোটি ডোজ টিকা তারা বিশ্বের নানা প্রান্তে পৌঁছে দিতে অঙ্গীকারাবদ্ধ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে শিগগিরই এ পরিসংখ্যান আরও ইতিবাচক দেখাবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে গতকাল বুধবার পর্যন্ত বিশ্বে ১০ কোটি ৬৫ লাখেরও বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে অন্তত ২৩ লাখ ৩৩ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দেশে দেশে লকডাউন-কঠোরতায় অর্থনৈতিক ক্ষতিও হয়েছে বিস্তর। লাখো কোটি ডলারের সেই ক্ষতি কাটাতে কয়েক বছর লেগে যাবে কোনো কোনো খাতে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ প্রকাশিত সাপ্তাহিক প্রতিবেদন এসব ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার পথ দেখাচ্ছে।
সংস্থাটির হিসাবে গত সপ্তাহে বিশ্বে ৩১ লাখ মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছিল, যা তার আগের সপ্তাহের চেয়ে ১৭ শতাংশ কম। আর গত বছর অক্টোবরের পর সংক্রমণের হার এখনই সবচেয়ে কম। গত সপ্তাহে কভিড-১৯ আক্রান্ত ৮৮ হাজার জনের মৃত্যু হয়েছে যা আগের সপ্তাহের চেয়ে ১০ শতাংশ কম।
বিশ্বে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যায় এখনো শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র। তবে দেশটিতে নতুন রোগীর হার এক সপ্তাহে ১০ শতাংশ কমেছে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দেখছে। যুক্তরাষ্ট্রে সংক্রমণ কমে যাওয়া এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ যে, বিশ্বে নতুন যত রোগী শনাক্ত হচ্ছে, তার অর্ধেকই এ দেশটির। ব্রাজিল, ফ্রান্স, রাশিয়া ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোতেও সংক্রমণের গতি কমছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান বলছে, এক সপ্তাহে রোগী বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি কমেছে আফ্রিকায় ২২ শতাংশ আর কমেছে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ২ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ায়ও কমেছে ২১ শতাংশের মতো। গত মাসের প্রথম সপ্তাহের চেয়ে চলতি ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নতুন রোগী বৃদ্ধির হার এক-তৃতীয়াংশ কমেছে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের বরাতে সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, মহামারী মোকাবিলায় বৈশ্বিক প্রচেষ্টায় যে সুফল আসতে শুরু করেছে, তা করোনা মহামারী নিয়ন্ত্রণেরই আভাস। বিশেষ করে টিকা প্রয়োগ শুরুর পর থেকেই কমতে শুরু করেছে শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা। আশার কথা শুনিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়াসুসও। গত সপ্তাহেই সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় প্রধান কার্যালয় থেকে এক ওয়েবিনারে তিনি বলেন, বিশ্বের যত মানুষ এখনো করোনায় আক্রান্ত হয়েছে তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি টিকা আছে আমাদের হাতে। এটি শুভ সংবাদ এবং অল্প সময়ের মধ্যে অসাধারণ এক অর্জন। তবে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, টিকার সংখ্যা ভাইরাস সংক্রমণের সংখ্যাকে ছাড়ালেও বিশ্বে মোট টিকার চার ভাগের তিন ভাগই ১০টি দেশের কাছে রয়েছে।