দেশে চলমান করোনার টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি। বরং দিন যত যাচ্ছে করোনার টিকার প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। প্রথম দিকে নিবন্ধনে কিছুটা ধীরগতি থাকলেও সরকার বয়সসহ নিবন্ধনের কিছু শর্ত শিথিল করায় নিবন্ধনের পাশাপাশি টিকাগ্রহণে গতি এসেছে। গত পাঁচ দিনে গড়ে প্রতিদিন এক লাখ মানুষ টিকা নিয়েছেন। নিবন্ধনও বাড়ছে দ্বিগুণ হারে।
গত রবিবার টিকাদান কর্মসূচির প্রথম দিন নিবন্ধনের ধীরগতির কারণে সরকার পরের দিন থেকে কেন্দ্রে নিবন্ধনের ব্যবস্থা করে। কিন্তু গত দুদিনে কেন্দ্রে নিবন্ধন নিয়ে রাজধানীর কয়েকটি কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এ সময় অনিবন্ধিত লোকজনের চাপে নিবন্ধিত লোকজনের পক্ষে টিকা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে কেন্দ্রে নিবন্ধন বন্ধ করে দিয়েছে।
পাশাপাশি এখন পর্যন্ত টিকাগ্রহীতাদের মধ্যে বড় ধরনের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গতকাল পর্যন্ত টিকাগ্রহণের পর ৩৬৩ জনের সামান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এদের বেশির ভাগেরই টিকাস্থানে সামান্য ব্যথা, জ্বর জ্বর ভাব, এমনকি কয়েকজনের ১০২ ডিগ্রি পর্যন্ত জ্বরও এসেছে। তবে দু-একদিন পরই জ্বর সেরে গেছে। হাতের ব্যথা সারতে দুই-তিন দিন লাগছে।
এমনকি টিকার সরবরাহ বাড়ার খবরও পাওয়া যাচ্ছে। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে সরকারের কেনা অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তিন কোটি করোনার টিকার দ্বিতীয় চালান অর্থাৎ আরও ৫০ লাখ টিকা এ মাসের শেষের দিকেই চলে আসার কথা রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২১-২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই দ্বিতীয় চালান চলে আসতে পারে। পাশাপাশি এ মাসের শেষে কোভ্যাক্সের আওতায় অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রোজেনেকার আরও তিন লাখ টিকা বিনামূল্যে সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে দেশে চলে আসার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য সচিব আবদুল মান্নান। তিনি বলেন, আমরা আমাদের সেরামের ক্রয়কৃতটা নিয়ে আসছি। একই সঙ্গে কোভ্যাক্স গাভি অ্যালায়েন্স এটাও পাচ্ছি। আরও কিছু ফাইজারের টিকা পাচ্ছি। সব মিলিয়ে আমাদের ভ্যাকসিনের কোনো সংকট হবে না।
এসব দিক বিবেচনায় দেশে চলমান টিকাদান কর্মসূচি বেশ সফলভাবেই এগিয়ে চলছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে সরকার প্রথমে যে ৩৫ লাখ টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তা বাড়িয়ে ৬০ লাখও করতে পারে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মনে করছেন। এ জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চলমান টিকাদান কর্মসূচি দুই সপ্তাহ চলার পর নতুন করে হিসাব-নিকাশ করবে। সেখানে দেখা হবে কতজন লোক টিকা নিলেন এবং টিকার সরবরাহ কেমন। পরবর্তী টিকা সময়মতো পাওয়া নিশ্চিত করা গেলে সরকার চলমান টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে। অর্থাৎ সরকারের হাতে থাকা ৭০ লাখ টিকার মধ্যে ৬০ লাখ প্রথম ডোজ হিসেবেই দিয়ে দেবে।
টিকাদান কর্মসূচি কেমন চলছে- জানতে চাইলে করোনা মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও প্রবীণ ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম গতকাল বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, টিকাদান কর্মসূচিটা আস্তে আস্তে উন্নতি হচ্ছে, প্রসারিত হচ্ছে। লোকজন আসছেন। টিকা নিচ্ছেন। ভালোই সাড়া মিলছে।
কারিগরি কমিটির এই সদস্য বলেন, সরকার ফেব্রুয়ারির মধ্যেই প্রথম দফার কর্মসূচি শেষ করতে চায়। সেক্ষেত্রে টিকার মেয়াদ নিয়ে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কারণ এ ধরনের টিকার তাপমাত্রা যদি সঠিকভাবে মানা হয়, তাহলে ছয় মাসের মতো মেয়াদ থাকে, নষ্ট হয় না। ফলে এই টিকা সংরক্ষণে আমাদের কোনো সমস্যা নেই।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ব্যাপারে এই বিশেষজ্ঞ বলেন, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আমরা পাইনি। পরিচিত, আশপাশের অনেকেই টিকা নিয়েছেন। কারও কাছে কোনো অভিযোগ শুনিনি।
এই সদস্য জানান, এ মাসের ২১ ফেব্রুয়ারির দিকে টিকার আরেকটা ব্যাচ আসবে। সেটা মানুষের মধ্যে ভ্যাকসিনেশন করব। এভাবেই চলবে। রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে। প্রথম ডোজ নেওয়ার পর দ্বিতীয় ডোজের তারিখ দেওয়া হচ্ছে। টিকাদান কর্মসূচি সফল এবং সুষ্ঠুভাবেই হচ্ছে।
এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার লাইন ডিরেক্টর ও মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, টিকা নিয়ে প্রথম দিকে যে জড়তা, দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছিল, সেটা কাটতে শুরু করেছে। মানুষ নিজের বিবেচনা চিন্তা থেকেই টিকা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
তবে এখনো টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে কোনো সার্ভিলেন্স করা হয়নি বলে জানান এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, এটা খুব কঠিন। কারণ এনআইডিনির্ভর সব। এটা করা যাবে দ্বিতীয় ডোজ শেষ হওয়ার পর। তখন যদি সেন্ট্রাল ডাটাবেজ থেকে তথ্য নিয়ে আইইডিসিআর কোনো গবেষণা করে, তখন বের করা যাবে কোন শ্রেণি, পেশা ও বয়সের মানুষ বেশি টিকা নিলেন। এই মুহর্তে এটা করা খুব কঠিন কাজ হবে।
গত রবিবার থেকে সারা দেশে একযোগে এই টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সারা দেশের সরকারি-বেসরকারি ১ হাজার ৫টি হাসপাতালে করোনার টিকা দেওয়া হচ্ছে। প্রথম দফায় অগ্রাধিকারভিত্তিক ১৮ শ্রেণির করোনা সম্মুখযোদ্ধা এবং ৪০ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী নাগরিকদের বিনামূল্যে এই টিকা দেওয়া হচ্ছে। এর আগে এই টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করেছে সরকার। গত ২৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে করোনাভাইরাসের টিকা কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। ওই দিন বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণির ২৬ জনকে টিকা দেওয়া হয়। পরদিন দেওয়া হয় ঢাকার পাঁচ হাসপাতালে পাঁচ শতাধিক মানুষকে। মন্ত্রী, এমপিসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা সেদিন স্বেচ্ছায় টিকা নেন। পরে সাতদিন টিকাগ্রহীতাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। এসব টিকাগ্রহীতাদের মধ্যে কোনো ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। পরে ১০ দিনের মাথায় সেই একই টিকা দিয়ে গত রবিবার এই গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়।
টিকাদান কর্মসূচি সফল হওয়ার পেছনে টিকাগ্রহীতার সংখ্যা ও নিবন্ধনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়াকে কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তথ্য ও প্রযুক্তি যোগাযোগ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহে দেশে নিবন্ধনের সংখ্যা প্রতিদিনই গড়ে দ্বিগুণ হারে বেড়েছে। গত ৬ ফেব্রুয়ারি মোট নিবন্ধিত মানুষের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ দুই হাজার ৮১৩ জন, পরেরদিন ৭ ফেব্রুয়ারি সে সংখ্যা দাঁড়ায় ৪ লাখ ৭ হাজার ১২০ জনে। পরেরদিন গত সোমবার ৫ লাখ ১৫ হাজার ৩২৬, মঙ্গলবার ৭ লাখ ২৬ হাজার, বুধবার ৯ লাখ ৫৪ হাজার ও গতকাল বৃহস্পতিবার মোট নিবন্ধনের সংখ্যা দাঁড়ায় ১২ লাখ ২৫ হাজার ১৪১ জনে।
পাশাপাশি বেড়েছে টিকাগ্রহীতার সংখ্যাও। প্রথমদিন গত রবিবার সারা দেশে মোট টিকা নেন ৩১ হাজার ১৬০ জন, দ্বিতীয় দিন টিকা নেন ৭৭ হাজার ৬৬৯ জন, তৃতীয় দিন সে সংখ্যা এসে দাঁড়ায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৭৩৫ জনে। চতুর্থ দিন টিকা নেন দুই লাখ ৪৬ হাজার ৪২৬ জন। সর্বশেষ গতকাল পঞ্চম দিনে সে সংখ্যা দাঁড়ায় ৫ লাখ ৪২ হাজার ৩০৯ জনে। এরমধ্যে তিন লাখ ৮৬ হাজার ৫৭৮ জন পুরুষ এবং এক লাখ ৫৫ হাজার ৭৩১ জন নারী টিকা নিয়েছেন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার লাইন ডিরেক্টর ও মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, নেই বললেই চলে। যেটুকু অভিযোগ এ পর্যন্ত শুনেছি তাতে দেখা যাচ্ছে যেখানে সুই ফোঁটানো হচ্ছে, সেখানে একটু ব্যথা হচ্ছে। কারও জ্বর জ্বর ভাব হয়েছে, কারও ১০২ ডিগ্রি পর্যন্ত জ্বর হয়েছে। একদিন-দুদিন পরেই আবার জ্বর সেরে গেছে। এ ধরনের পাশর্^প্রতিক্রিয়া হবেই। মৃদু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কিছু হচ্ছে। কিন্তু বড় ধরনের বিরূপ কোনো প্রতিক্রিয়া হচ্ছে না। সাধারণত যে হাতে ইনজেকশন নিচ্ছে সেখানে সর্বোচ্চ এক সপ্তাহ কিছু ব্যথা থাকতে পারে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দুই-তিন দিন থাকে।
এই কর্মকর্তা বলেন, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিতে কোনো ভয় নেই। এমনকি নিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অ্যালার্জি যাদের আছে, তারাও নিতে পারবেন। ভয় ভীতি কেটে যাচ্ছে। মানুষ টিকা নিতে আসছেন।
প্রথম দফার চলমান টিকাদান কর্মসূচি কতদিন চলবে- জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, আমাদের কাছে এখন ৭০ লাখ টিকা আছে। তারমধ্যে দুইটা ভাগ করে ৩৫ লাখ করে দিচ্ছি। প্রয়োজন হলে এই মাসে বা সামনের মাসে প্রথম সপ্তাহে যদি পরবর্তী চালান আসে, তখন ৬০ লাখকে টিকা দেওয়া যাবে। এই দফা প্রথমে দুই সপ্তাহ চালাব। তারপর বিচার-বিশ্লেষন করব। কী পরিমাণ লোক টিকা নিল। তারপর দ্বিতীয় দফা শুরু হবে। যথেষ্ট টিকা আছে। আপাতত কম পড়ার কোনো কারণ নেই।
এ ব্যাপারে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, টিকাদান কর্মসূচি খুবই সফল হচ্ছে। প্রথমদিন ৩০ হাজার, পরের দিন ৪৬ হাজার, তারপরের দিন এক লাখের ওপরে, গত বুধবার ছিল দেড় লাখ, আজ বৃহস্পতিবার দুই লাখের ওপরে মানুষ টিকা নিয়েছেন। মোট পাঁচদিন টিকাদান কর্মসূচি হয়েছে। আজ পাঁচ লাখের বেশি হয়ে গেছে। গড় করলে প্রতিদিন এক লাখ মানুষ টিকা নিয়েছেন। আগামীকাল শনিবার একদিনেই তিন লাখ ছাড়াবে। শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে দুই লাখ করে হলেও ১২ লাখ ছাড়াবে।
প্রথম দফা কতদিন চলবে- জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, আমরা ফেব্রুয়ারিতে ৩৫ লাখ টিকা দিতে চাই। প্রাথমিকভাবে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম প্রথম দফায় ৩৫ লাখ দিয়ে দ্বিতীয় লটের জন্য অপেক্ষা করব। কিন্তু দ্বিতীয় লট যদি ফেব্রুয়ারিতেই চলে আসে, তাহলে আমরা বিরতি না নিয়ে ৭০ লাখ টিকা দিয়ে দিতে পারি।
দ্বিতীয় চালান ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে চলে আসার কথা রয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
এ পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো বিশৃঙ্খলা হয়নি জানিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, ভালোই চলছে। তবে আজ (গতকাল বৃহস্পতিবার) কিছু গ-গোল হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে। সবাই এই কেন্দ্রে, কুয়েতমৈত্রী হাসপাতাল ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে টিকা নিতে চান। এটা একটা সমস্যা। অথচ প্রত্যেক কেন্দ্রের একটি নির্দিষ্ট টিকাদান ক্ষমতা আছে। সেভাবেই কেন্দ্র ভাগ করা হয়। কিন্তু স্পট রেজিস্ট্রেশনের সুযোগে সবাই এসব কেন্দ্রেই ভিড় করছেন। সে জন্য স্পট রেজিস্ট্রেশন বন্ধ করতে হবে।
এই কর্মকর্তা বলেন, টিকাদান দক্ষতার জায়গা আমাদের সব কেন্দ্রেই সমান। আমাদের দক্ষ নার্সরা টিকা দিচ্ছেন। এসব কর্মী আরও জটিল সব ইনজেকশন দেন। সারা দিন হাসপাতালে রোগীদের ইনজেকশন দিচ্ছেন। কিন্তু অনেকেই মনে করেছিলেন ভালো হাসপাতালে যাই, কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে সঙ্গে সঙ্গে ম্যানেজমেন্ট ভালো পাবেন। কিন্তু ম্যানেজমেন্টের ব্যাপারেও আমাদের সব কেন্দ্রে সমান ব্যবস্থা আছে। আর এটা তো এখন প্রমাণিত যে এই টিকার তেমন কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।
এই কর্মকর্তা নিজেও গতকাল টিকা নিয়ে সারা দিন অফিস করে রাতে বাসায় ফিরেছেন এবং তার নিজেরও কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়নি।
এই কর্মকর্তা জানান, এই টিকাদান কর্মসূচি সাফল্যজনকভাবে এগিয়ে চলছে। তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন যে, বিজ্ঞানভিত্তিক বিচার-বিশ্লেষণ করলে, যদি বৈজ্ঞানিক পরামর্শ দিই, তাহলে বলব, এখন সরকারের হাতে যে ৭০ লাখ টিকা আছে, সেখান থেকে ৬০ লাখ ডোজ দিয়ে দেওয়া যায়। তারপরে যখন ৫০ লাখ আসবে, সেখান থেকে দ্বিতীয় ডোজ দিয়ে দিতে পারি। যেহেতু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আজ বলেছে দ্বিতীয় ডোজ ৮-১২ সপ্তাহের মধ্যে দিলে নিরাপত্তার কোনো সমস্যা নেই।