চোখের জটিল স্নায়ুজনিত রোগ

ক্র্যানিয়াল নার্ভ পালসি ((Cranial nerve pals)) চোখের এমন একটি সমস্যা, যেখানে এক বা একাধিক ক্র্যানিয়াল নার্ভ সংযুক্ত থাকে। মাংসপেশি অবশ হয়ে গেলে অথবা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে এ রোগ দেখা দেয়। ফলে মাংসপেশিতে হঠাৎ করে খিঁচুনিসহ নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। ক্র্যানিয়াল নার্ভের সঙ্গে সংযুক্ত মাংসপেশিগুলো সহজেই চিহ্নিত করা যায়। যেমন মুখের মাংসপেশির সঙ্গে যুক্ত থাকে। এ রোগ হলে মুখের আকারের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির হাসতে, চোখ নাড়াতে এবং অন্যান্য মুখভঙ্গি করতে ভীষণ অসুবিধায় পড়তে হয়। ১২ জোড়া ক্র্যানিয়াল নার্ভ সরাসরি মস্তিষ্ক থেকে ফোরমনেস (foramens) নামক মাথার খুলির ছিদ্রের মাধ্যমে মুখের বিভিন্ন অংশে সংযুক্ত থাকে। নার্ভের সাহায্যে যেমন চোখ ও ঠোঁট থেকে শুরু করে মুখের মাংসপেশির সব ধরনের নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ক্র্যানিয়াল পালসিতে আক্রান্ত হলে মুখের এক বা একাধিক মাংসপেশি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এতে মুখের বিভিন্ন অংশ ঝুলে পড়ে, অসাড় বা প্যারালাইজড হয়। কখনো কখনো ঝাঁকুনিরও সৃষ্টি হতে পারে।

কারণ : মুখ ও মাথায় প্রচণ্ড আঘাত থেকে নার্ভ বা স্নায়ু সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হলে এ রোগ হতে পারে। কোনো অপারেশনের সময় অসাবধানতাবশত চিকিৎসক যেকোনো একটি নার্ভ কেটে ফেললেও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। মাল্টি স্কেরোসিসও অনেক সময় নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপ কখনো কখনো এ রোগের জন্য দায়ী।

লক্ষণ : ডাবল ভিশন বা দৃষ্টি, মাথাব্যথা, চোখে কম দেখা, অস্বাভাবিক অনৈচ্ছিক নড়াচড়া, অনুভূতি কমে যাওয়া, চোখের পাতার অস্বাভাবিক নড়াচড়া, চোখের মণির অসমতা, চোখে ব্যথা হওয়া, মুখমণ্ডলে ব্যথা, কথা বলতে কষ্ট হওয়া, মাংসপেশিতে খিঁচুনি বা টান ইত্যাদি। ফেসিয়াল লাসারেশন বা মুখের কোথাও জখম হলে সহজেই এ থেকে ফেসিয়াল অথবা ট্রাইজেমিনাল নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর পাশাপাশি অন্যান্য নার্ভও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যেমন কিউটেনাস নার্ভ।

পরামর্শ : যেসব রোগ থেকে কোনো নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, সেগুলোর ব্যাপারে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। রোগের শুরুতেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হলে এ রোগের ঝুঁকি থেকে অর্থাৎ ক্র্যানিয়াল মনোনিউরোপ্যাথি-৩  (Cranial mononeuropathy-III) অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।