সংবাদ সম্মেলনে রিজভী

ইভিএমে কারচুপি আ.লীগ নেতারাই স্বীকার করছেন

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, এই মেশিন দূর থেকে হ্যাক করা যায়। ভোটের ফল ম্যানিপুলেট করা যায়। এ কথার সত্যতা আজ আওয়ামী লীগের নেতারা নিজেরাই অকপটে স্বীকার করছেন।’ গতকাল শুক্রবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘ইউটিউবে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুর উদ্দিন চৌধুরীকে ৩নং ওয়ার্ডের চর সেকেন্দার সফি একাডেমি মাঠে অনুষ্ঠিত সভায় নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় বলতে শোনা গেছেনৌকার বাইরে ভোট দিলে ইভিএমে ধরি ফেলা যায়। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এভাবে একজন ভোটারকে ধরা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ইভিএম যে একটা ধাপ্পাবাজির মেশিন বিএনপিসহ নানা মত ও পথের এবং বিশে^র গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দলের এই অভিমত এখন আওয়ামী লীগ নিজেরাই জানান দিচ্ছে। ২০১৮ সালে বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার জন্য অনুরোধ জানালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা বলেছিলেনরাজনৈতিক দলগুলো না চাইলে ইভিএম ব্যবহার করা হবে না। কিন্তু সিইসি সেই কথা রাখেননি। তিনি কথা রেখেছেন শেখ হাসিনার। ইভিএমে ভোট ম্যানিপুলেট করা হয়েছে দেদারসে।’

রিজভী বলেন, ‘সিইসিসহ কতিপয় কমিশনারের একের পর এক জাতীয় নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে যে কুকীর্তি করে আসছেন তা গণমানুষের নিকট অজানা নয়। কমিশনের অসদাচরণের পেছনে রয়েছে চাকরি রক্ষা ও দুর্নীতির মাধ্যমে প্রচুর অর্থবিত্তের মালিক হওয়া। দুর্নীতি ও চাকরি রক্ষা করতে গিয়ে সরকারের ইচ্ছা পূরণে এরা দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ক্যাডাররা বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের মেয়র প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় ব্যাপক বাধাদানসহ পোস্টার ছিঁড়ে ফেলছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের মারপিট ও প্রকাশ্যে মাইকের মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রে না আসতে হুমকিধমকি অব্যাহত রেখেছে। প্রশাসনকে এ বিষয়ে অবহিত করা হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। উল্টো বিএনপি নেতাকর্মীসহ ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থক ও ভোটারদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে বানোয়াট ঘটনা সাজিয়ে মিথ্যা মামলা দায়ের ও গ্রেপ্তার অভিযান চালিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। একইভাবে ময়মনসিংহের ফুলপুর পৌরসভা এবং নরসিংদী পৌর নির্বাচনেও একই অবস্থা বিরাজ করছে।