যাতায়াতে গতি ফিরছে বেনাপোলে

যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে পাসপোর্টধারীদের ভারত-বাংলাদেশ যাতায়াতে দিন দিন গতি ফিরছে। বাধ্যতামূলক করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিয়ে মেডিকেল ও বিজনেস ভিসায় বন্দরটি দিয়ে ভারতে যাতায়াত শুরু করেছেন বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা। পাশাপাশি এমপ্লয়মেন্ট ও বিজনেস ভিসায় প্রতিদিন বাংলাদেশে আসছেন ভারতীয় যাত্রীরাও।

এতে করোনার কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ফের চালু হওয়ায় বন্দরটি দিয়ে দুই দেশের পাসপোর্টধারীদের যাতায়াত ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে। তবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলেও টু¨রিস্ট ভিসায় যাতায়াত এখনো শুরু হয়নি বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গত বছরের ১৩ মার্চ বাংলাদেশিদের ভারত ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে বন্ধ করা হয়েছিল ভারতীয়দের বাংলাদেশে আসাও। এতে দেশ দুটির পাসপোর্টধারী, বিশেষ করে চিকিৎসা ও বাণিজ্যিক ভিসায় যাতায়াতকারীরাই বেশি দুর্ভোগে পড়েন।

অবশেষে গত ১১ জানুয়ারি থেকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে দুই দেশের পাসপোর্টধারীদের যাতায়াত শুরু হলো।

ভারতগামী বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী মো. ফিরোজ বলেন, নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ায় চিকিৎসা ও ব্যবসার কাজে ভারতে যাচ্ছি। তবে মেডিকেল ভিসার মেয়াদ ৩ মাস থেকে ৬ মাসের জন্য দিলেও এ ভিসায় মাত্র একবার ভ্রমণের সুযোগ আছে। এতে প্রয়োজন মিটবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ে আছেন রোগীরা।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল অফিসার উৎপলা বিশ্বাস জানান, ভারত-বাংলাদেশ যাতায়াতে দুই দেশের যাত্রীদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে করোনা পরীক্ষার নেগেটিভ সার্টিফিকেট প্রয়োজন হচ্ছে। এই সার্টিফিকেট নিতে প্রতিদিন ভিড় বাড়ছে।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ওসি আহসান হাবিব বলেন, আপাতত মেডিকেল, স্টুডেন্ট আর বিজনেস ভিসায় বাংলাদেশিরা ভারতে যেতে পারছেন। আর ভারতীয়রা আসছেন এমপ্লয়মেন্ট ও বিজনেস ভিসায়। এ ছাড়া কূটনৈতিক ভিসায়ও যেতে পারবেন যাত্রীরা। মেডিকেল ভিসায় যারা যাচ্ছেন, তাদের নতুন ভিসা নিতে হচ্ছে। বিজনেস ও স্টুডেন্ট ভিসার ড়্গেত্রে পুরনো ভিসা কার্যকর হচ্ছে। তবে এ ড়্গেত্রে সবার করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক।

বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতি বছর বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত ও বাংলাদেশে প্রায় ৩০ লাখ দেশি-বিদেশি যাত্রী যাতায়াত করেন। তাদের কাছ থেকে ভ্রমণ কর বাবদ সরকারের রাজস্ব আসে কমপক্ষে ১০০ কোটি। গত শুক্রবার (১২ ফেব্রম্নয়ারি) মেডিকেল ভিসায় ভারতে গেছেন ৭০২ জন বাংলাদেশি আর ভারত থেকে এসেছেন ১২১ জন।

এর আগে গত ১১ জানুয়ারি থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ভারতে গেছে প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার পাসপোর্টধারী বাংলাদেশি। এই সময়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে এসেছে প্রায় ১২ হাজার। এই এক মাসে ভ্রমণকর বাবদ সরকারের রাজস্ব এসেছে প্রায় ৯০ লাখ টাকা।