নোয়াখালী, চাঁদপুর, নরসিংদী, মৌলভীবাজার ও জামালপুর জেলার ৭ ব্যক্তির কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন কৌশলে ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানায় এক মাদ্রাসা অধ্যক্ষ মো. ফারুকের মামলার পর ওই চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি।
নোয়াখালী সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার বশির আহমেদ গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে তার কার্যালয়ে সংবাদ ব্রিফিংয়ে সংঘবদ্ধ চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি সাংবাদিকের জানান।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার বালিয়াপাড়া গ্রামের সুরুজ্জামান মিয়া ওরফে কামাল (৫১), যশোরের বাগারপাড়া উপজেলার জামালপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান ওরফে দ্বীপু (২৫) ও নরসিংদী সদর উপজেলার খাদসিয়া পাঁচদোনা গ্রামের রিনা বেগম ওরফে জামেলা বেগম (৪০)।
বশির আহমেদ জানান, নোয়াখালী, চাঁদপুর, নরসিংদী, মৌলভীবাজার ও জামালপুর জেলার ৭ ব্যক্তির কাছ থেকে বিভিন্নভাবে প্রতারণা করে তারা ধাপে ধাপে মোট ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা নিয়ে যায়। জেলার সোনাইমুড়ী থানায় প্রতারণার শিকার একটি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ফারুক বাদী হয়ে এই চক্রের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। সিআইডির এসআই আবু নোমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ মামলাটি প্রায় ৪ মাস তদন্ত করে গত শুক্রবার রাতে ঢাকার মাতুয়াইল মহিলা মাদ্রাসার কাছে একটি ভাড়া বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে।
তিনি আরও জানান, সংঘবদ্ধ এই চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন কৌশলে প্রলোভন দেখিয়ে কাউকে সৌদি আরব সরকারের অর্থায়নে মসজিদ ও মাদ্রাসা বা কাউকে ভবন করিয়ে দেবে বলে টাকা হাতিয়ে নেয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। এসব প্রতারণার শিকার মানুষদের টাকা বিনিয়োগ করার জন্য প্রলুব্ধ করে। মামলার তদন্তকালে সিআইডি জানতে পারে নোয়াখালীসহ ৫ জেলার ৭ ব্যক্তির কাছ থেকে এভাবে মোট ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের খবরে প্রতারণার শিকার আরও লোকজন ইতিমধ্যে সিআইডির সঙ্গে যোগাযোগ করছে। সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম জানান, শনিবার দুপুরে তাদের আদালতে সোপর্দ করে প্রত্যেকের ৫ দিন করে রিমান্ড আবেদন করা হয়। মঙ্গলবার শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে বলে জানান তিনি।