চলে গেলেন সাংবাদিক শাহীন রেজা নূর

চলে গেলেন সাংবাদিক শাহীন রেজা নূর। গতকাল শনিবার বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে কানাডার ভ্যাংকুভারের একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। তিন বছর ধরে অগ্নাশয়ের ক্যানসারে ভুগছিলেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। তিনি স্ত্রি ও দুই পুত্রসন্তান রেখে যান। বড় ছেলে সৌরভ রেজা নূর ও ছোট ছেলে আবির রেজা নূর। শাহীন রেজা নূর শহীদ বুদ্ধিজীবী সিরাজুদ্দীন হোসেনের ছেলে।

তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক শোক বার্তায় রাষ্ট্রপতি প্রয়াতের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

পৃথক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গণ-আন্দোলনে শাহীন রেজা নূরের ভূমিকা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী প্রয়াতের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

ইত্তেফাকের সাবেক সাংবাদিক শাহীন রেজা নূর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবির আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। ‘প্রজন্ম একাত্তর’ গড়ে তোলায় নেতৃত্ব দেন তিনি। জামায়াত নেতা আলী আহসান মো. মুজাহিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে তিনি সাক্ষী ছিলেন। শাহীন রেজা নূর দীর্ঘদিন ধরেই কানাডায় বসবাস করছিলেন। মাঝেমধ্যে তিনি দেশে আসতেন। সর্বশেষ তিনি ২০১৮ সালে বাংলাদেশে এসেছিলেন।

তার পরিবার থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শাহীন রেজা নূরের শেষ ইচ্ছা ছিল দেশের মাটিতে শায়িত হবেন। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী ও কানাডার দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

শাহীন রেজা নূরের জন্ম ১৯৫৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর, মাগুরা জেলার শালিখা থানার শরশুনা গ্রামে। পিতা শহীদ সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেন এ দেশের সাংবাদিকতা জগতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। মা বেগম নূরজাহান সিরাজী ছিলেন গৃহিণী। পিতা-মাতার ৮ সন্তানের মধ্যে শাহীন রেজা নূর ছিলেন দ্বিতীয়।

শাহীন রেজা নূর ১৯৭২ সালে ঢাকা বেতার কেন্দ্রে বার্তা বিভাগে অনুলিপিকারের চাকরির মধ্য দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন এবং অল্প দিনের মধ্যে অনুবাদকের ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭৩ সালের নভেম্বর মাসে দৈনিক ইত্তেফাকের শিক্ষানবিশ সহসম্পাদক পদে যোগ দেন। ১৯৮১ সালে সাংবাদিকতার ওপর কমনওয়েলথের উদ্যোগে আয়োজিত সাংবাদিকতা বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিতে মালয়েশিয়ায় যান। প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফিরে আবার ইত্তেফাকে কাজ শুরু করেন।

‘প্রজন্ম ৭১’–এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন শাহীন রেজা নূর। তার নেতৃত্বে সংগঠনের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি জোরদার করা ও মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণসহ আরও বেশ কিছু বিষয়। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আওতায় ১৯৭১ সালের নৃশংস বুদ্ধিজীবী হত্যাকা-ের বিচারকাজে একজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী।

শাহীন রেজা নূরের মৃত্যুতে ‘প্রজন্ম ৭১’সহ দেশের বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন শোক জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে।