প্রবীণদের জন্য পুনরায় কেন্দ্রে টিকার নিবন্ধন চালু হতে পারে

দেশের প্রবীণ নাগরিক ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের  জন্য টিকাদান কেন্দ্রে নিবন্ধনের ব্যবস্থা পুনরায় চালু করার চিন্তা করছে সরকার। এই দুই শ্রেণির মানুষ জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে নিয়ে টিকাদান কেন্দ্রে গেলে তাদের নিবন্ধন করে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। গতকাল শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) টিকাদান কার্যক্রম পরিদর্শন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন স্বাস্থ্য সচিব আবদুল মান্নান।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার থেকে দেশের সব টিকাদান কেন্দ্রে টিকার নিবন্ধন বন্ধ করে দেওয়া হয়। তার আগের কয়েক দিন রাজধানীর কয়েকটি কেন্দ্রে নিবন্ধন করা নিয়ে বেশ বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। নিবন্ধন করে টিকা নেওয়ার চাপ বাড়লে নিবন্ধিত মানুষের টিকা নিতে বেশ বেগ পেতে হয়। এমন পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রে নিবন্ধন বন্ধ করে দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।  তখন বলা হয়, এখন থেকে কেউ কেন্দ্রে গিয়ে নতুন করে নিবন্ধন করতে পারবেন না। তবে যারা নিবন্ধন করতে কোনো সমস্যায় পড়বেন কেন্দ্রে নিবন্ধনের ব্যাপারে তাদের সহযোগিতা করা হবে। 

স্বাস্থ্য সচিব বলেন, দেশে এখন পর্যন্ত ১৪ লাখ লোক টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন। ৩৫ লাখ টিকা দেওয়ার পর আমরা পরিসংখ্যান যাচাই করব। যদি দেখা যায় গ্রামের মানুষের মধ্যে টিকা নেওয়ার প্রবণতা কম তাহলে উদ্বুদ্ধ করতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টিকা নিতে গতকালও রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্রে সব শ্রেণির মানুষের দীর্ঘ লাইন ছিল। কয়েকটি কেন্দ্রে কিছু দুর্ভোগও পোহাতে হয়েছে টিকাগ্রহীতাদের। বিএসএমএমইউ টিকা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, সকাল থেকে মানুষের দীর্ঘ লাইন। এ সময় অনেক বয়স্ক মানুষকে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে টিকা নিতে হয়েছে। টিকার লাইনে অপেক্ষমাণ আলী আহসান নামে এক সাবেক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ১০টায় এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। বয়স্কদের জন্য বিশেষ কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। কর্র্তৃপক্ষের উচিত বয়স্কদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা।

একই অবস্থা দেখা যায় রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালে। হাসপাতালের পাঁচতলায় টিকাদান কেন্দ্র হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সব মানুষকে। এই কেন্দ্রে টিকার বুথের কোনো দিকনির্দেশনা নেই । এমনকি প্রয়োজনীয় তথ্য জানতেও কাউকে পাওয়া যায়নি। এই কেন্দ্রে টিকা নিতে আসা নূর মোহাম্মদ (৭০) বলেন, ‘লিফট সমস্যা থাকায় পাঁচতলায় হেঁটে উঠতে হয়েছে। আবার টিকা নিয়ে হেঁটে নামতে হয়েছে। এত কষ্ট হবে জানলে টিকা নিতে আসতাম না।’

এই সমস্যার বিষয়ে জানতে চাইলে ইনস্টিটিউটের কয়েকজন চিকিৎসক জানান, আমরা বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে আলোচনা করেছি। খ্বু দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব সমস্যার সমাধান করা হবে।

দেশে গণটিকা কার্যক্রম শুরুর পর গত ছয় দিনে মোট ৭ লাখ ৩৬ হাজার ৬৮০ জন টিকা নিয়েছেন। এর মধ্যে গতকাল শনিবার এক দিনে টিকা নিয়েছেন ১ লাখ ৯৪ হাজার ৩৭১ জন। সাপ্তাহিক বন্ধ দুদিন হওয়ায় গত শুক্র ও শনিবার সচিবালয় ক্লিনিক, বিএএফ বাশার ও বিএএফ বঙ্গবন্ধুতে টিকা কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এর আগের দিন শুক্রবার দেশের সব সরকারি ও বিশেষায়িত মেডিকেল কলেজ, হাসপাতালসহ দেশের সব স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠান ও টিকাদান কেন্দ্রে টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ ছিল।

ঢাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় টিকা নিলেন ২৬,৫৬৪ জন : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গতকাল এক দিনে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন হাসপাতালে ২৬ হাজার ৫৬৪ জন টিকা নিয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ১৭ হাজার ৬৫৩ ও নারী ৮ হাজার ৯১১ জন। সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ৬৭০ জন রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে টিকা নিয়েছেন। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ১৩০, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৩৩০, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৮৮০ ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯৩০ জন টিকা নিয়েছেন।

বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি টিকা নিয়েছেন ঢাকা বিভাগের মানুষ। গতকাল ঢাকা বিভাগে টিকা নিয়েছেন ৫৪ হাজার ৬৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৩৫ হাজার ৪৩০ ও নারী ১৮ হাজার ৬৩৯ জন। এ ছাড়া ময়মনসিংহে ৮ হাজার ৯০, চট্টগ্রামে ৪৭ হাজার ৭১৮, রাজশাহীতে ২২ হাজার ৭৪, রংপুরে ১৭ হাজার ৫৪২, খুলনায় ২১ হাজার ২৭৮, বরিশালে ৭ হাজার ৫১৩ এবং সিলেট বিভাগে ১৯ হাজার ৪৩৭ জন টিকা নিয়েছেন।