আজ ভাসানচরে যাচ্ছে ৩ হাজার রোহিঙ্গা

চতুর্থ দফায় কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ থেকে স্বেচ্ছায় নোয়াখালীর ভাসানচরে যাচ্ছে আরও তিন হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশু। সবকিছু ঠিক থাকলে আজ রবিবার সকালে তারা ভাসানচরের উদ্দেশে চট্টগ্রামে যাত্রা করবে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। রোহিঙ্গাদের চট্টগ্রামে নেওয়ার জন্য শতাধিক বাস ও কাভার্ড ভ্যান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উখিয়া কলেজ মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী ট্রানজিট ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের জন্য বিশাল আকারের প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছে। খাবারের জন্য দুটি গরু জবাই করা হয়েছে। ভাসানচরে যেতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গাদের রাতে ও সকালে খাবার দেওয়া হবে।

গতকাল শনিবার উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নেতা সিরাজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ভাসানচরে যেতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গাদের উখিয়া কলেজ ও ঘুমধুম ট্রানজিট ক্যাম্পে নিয়ে আসা হচ্ছে। গত শুক্রবার ১৫টি সি লাইন ও ৮টি মালবাহী ডাম্পারের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে ৫ শতাধিক রোহিঙ্গাকে উখিয়া কলেজ মাঠে আনা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এবার ভাসানচরে যাবে উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্প নম্বর-৮ (পূর্ব), ৯, ১০, ১১, ১২ ও ১৮ নম্বর ক্যাম্পের বাসিন্দারা। এ  দলটি আজ ভাসানচরের উদ্দেশে বাসে করে চট্টগ্রাম যাবে। সেখান থেকে সমুদ্রপথে জাহাজে তাদের ভাসানচরে নেওয়া হবে। আগামীকাল সোমবার কুতুপালং-১ ইস্ট, ২ ইস্ট এবং ২ ওয়েস্ট ক্যাম্প থেকে আরও অন্তত এক হাজার রোহিঙ্গার আরেকটি দল ভাসানচরের উদ্দেশে রওনা দেবে। তাদের গতকাল বিকেলে ক্যাম্প থেকে ট্রানজিট পয়েন্ট উখিয়া কলেজ মাঠে আনা হয়।

কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি জিয়াউর রহমান বলেন, তার ব্লক থেকে ভাসানচরে যেতে ইচ্ছুক ৬৭ রোহিঙ্গা ইতিমধ্যে ক্যাম্প ইনচার্জের কার্যালয়ে নাম তালিকাভুক্ত করেছে। ক্যাম্প-৪-এর মাঝি সেলিম উদ্দীন বলেন, তার ব্লক থেকে ১৭ জনের নাম দিয়েছে।

আরেক জন মাঝি জানিয়েছেন, রোহিঙ্গারা ভাসানচরে যেতে দিন দিন আগ্রহী হয়ে উঠছে। ইতিমধ্যে স্বেচ্ছায় ক্যাম্প ইনচার্জের কাছে যারা নাম দিয়েছিল তারা আজ ও কাল ভাসানচরে যাচ্ছে। চতুর্থ দফায় দু’দিনে ভাসানচরে যেতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছেন।

এর আগে তিন দফায় রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নেওয়া হয়েছে। আবার সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়াগামী ৩০৬ রোহিঙ্গাকে সাগর থেকে উদ্ধার করে ভাসানচরে পাঠানো হয়। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে পঞ্চম দফায় উখিয়া-টেকনাফের ক্যাম্প থেকে ভাসানচরে যেতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গাদের আরও একটি দলকে স্থানান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।