বনকর্মীদের ধাওয়ায় কাটা সেগুনগাছ রেখে পালাল চোর

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া উদ্যানে প্রবেশের প্রধান ফটকের ৩০০ গজের মধ্যে একটি বিশালাকার সেগুন গাছ কেটে ফেলে সংঘবদ্ধ চোরচক্র।

শনিবার সন্ধ্যায় গাছ পড়ার আওয়াজ শুনে সিপিজি সদস্য ও বনকর্মীরা ধাওয়া করলে গাছ কাটার যন্ত্রাংশ ও কাপড়-চোপড়সহ কাটা গাছ ফেলে পালিয়ে যায় তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন থাকায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রচুর পর্যটক আসেন লাউয়াছড়া উদ্যানে। পর্যটকের ভিড়ে ভেতরে প্রবেশের ব্যবস্থায় সবাই ব্যস্ত থাকার সুযোগে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল গাছ কাটার করাত নিয়ে এসে প্রবেশ পথের প্রধান ফটকের ৩০০ গজ পূর্বদিক থেকে প্রায় শতাধিক ফুট উচ্চার ৫ ফুট বেড়ের একটি সেগুন গাছ কাটে। কাটা সেগুন গাছটি বিকট আওয়াজে মাটিতে পড়লে আওয়াজ শুনে প্রধান ফটকে থাকা কয়েকজন সিপিজি (কমিউনিটি পেট্রোরিং গ্রুপ) সদস্য ও বনকর্মী ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে যান।

এ সময় সংঘবদ্ধ গাছ চোর চক্র উল্টো ধাওয়া করে। পরে অতিরিক্ত লোকজন নিয়ে বন-বিভাগ ধাওয়া করলে গাছ কাটার করাত, গায়ের কিছু কাপড়-চোপড় ও কাটা গাছ ফেলে চোরচক্র পালিয়ে যায়।

লাউয়াছড়া ইকো-টুরিস্ট গাইড শাহীন মিয়া বলেন, প্রকাশে দিবালোকে এত মানুষের উপস্থিতি থাকার পরও বড় সেগুন গাছ কেটে ফেলে শক্তিশালী চোরচক্র। প্রথমে কয়েকজন মিলে দৌড়ে ঘটনাস্থলের দিকে গেলে গাছচোর চক্র ধাওয়া করলেও পরে সিজিপি সদস্য ও বনকর্মী মিলে অতিরিক্ত লোকজন নিয়ে ধাওয়া করলে গাছ চোরচক্র পালিয়ে যায়।

কমলগঞ্জ জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সভাপতি মনজুর আহমেদ মান্না ও সম্পাদক আহাদ মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘লাউয়াছড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বন। আমরা জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কাজ করছি। কিন্তু কারও অবহেলায় প্রধান ফটকের খুব কাছাকাছি জায়গা থেকে সেগুন গাছ চুরির ঘটনায় আমরা ক্ষুব্ধ। বন-বিভাগের কারও জড়িত বা গাফিলতি থাকলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’

লাউয়াছড়া বনবিট কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘ভাবতে অবাক লাগে যে, গাছ চোর চক্র প্রকাশ্যে দিবালোকে এত সাহস করে কীভাবে বড় সেগুন গাছটি কেটে ফেলল। ধাওয়া খেয়ে গাছ চোরচক্র পালিয়ে গেলেও ফেলে যায় কেটে নেওয়া সেগুন গাছটি। ঘটনাস্থল থেকে গাছ চোরদের ব্যবহৃত করাত ও কিছু কাপড়-চোপড় জব্দ করা হয়েছে।’