৫ শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন সিনেমা হল মালিকরা

চলচ্চিত্র শিল্প বিকাশের লক্ষ্যে নতুন সিনেমা হল নির্মাণ ও পুরনো হল সংস্কারে ৫ শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন মেট্রোপলিটন এলাকার হল মালিকরা। মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরের হল মালিকরা ঋণ পাবেন সাড়ে ৪ শতাংশ সুদে।

গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে সিনেমা হল সংস্কারের জন্য গঠিত পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের সুদের হার নির্ধারণ করে নীতিমালা জারি করা হয়। 

নীতিমালায় বলা হয়, বিদ্যমান সিনেমা হল সংস্কার, আধুনিকায়ন ও এ সংশ্লিষ্ট মেশিনারি, যন্ত্রাংশ, প্রযুক্তি কেনা এবং নতুন সিনেমা হল নির্মাণের জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে এই ঋণ বিতরণ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব উৎস থেকে এক হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে। গত ২৬ জানুয়ারি এই তহবিলের অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ।

নীতিমালা অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ১ দশমিক ৫ শতাংশ সুদে এই ঋণ দেবে। ব্যাংকগুলো আবার গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ সুদে এই ঋণ বিতরণ করতে পারবে। একটি সিনেমা হলের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করতে পারবে ব্যাংকগুলো।

প্রথম বছর এই ঋণের কোনো কিস্তি দিতে হবে না হল মালিকদের। ঋণ পরিশোধের জন্য সর্বোচ্চ সময় পাওয়া যাবে ৮ বছর।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা জানান, নব্বইয়ের দশকে দেশে সিনেমা হল ছিল প্রায় এক হাজার ৪০০টি। নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে হলের সংখ্যা দিন দিন কমছে। সুস্থধারার বিনোদনের জন্য সিনেমা হলের আধুনিকায়ন দরকার বলে মনে করেন তারা। এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলচ্চিত্র শিল্পে স্বল্পসুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের জোগান দিতে এই তহবিল গঠন করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে চলচ্চিত্রের বড় ধরনের অবদান রয়েছে। সিনেমা হলে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, শিল্পী-কলাকুশলীদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য এ খাতে স্বল্পসুদে ঋণের জোগান দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।’

২০১২ সালের ৩ এপ্রিল চলচ্চিত্রকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে শিল্প মন্ত্রণালয়। এরপরও খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলতে থাকে এই শিল্প। করোনার মধ্যে সিনেমা হলে দর্শক যাওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে। স্বল্পসুদে ঋণ নিয়ে সিনেমা হল আধুনিকায়ন করা হলে দর্শক আবার হলমুখী হবে বলে মনে করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।