ভোটকেন্দ্রে সহিংসতা, বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ, ভোট বর্জন ও ফল প্রত্যাখ্যানের মধ্য দিয়ে গতকাল রবিবার সারা দেশে চতুর্থ ধাপের পৌরসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হলো। চতুর্থ ধাপে ৫৫টি পৌরসভার মধ্যে ৯টি পৌরসভায় বিএনপির ৮ জনসহ ১২ মেয়র প্রার্থী নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। ভোট নিয়ে তাদের অভিযোগ, ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারছেন না। এজেন্টদের বের করে দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভা নির্বাচনে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে এক কাউন্সিলর প্রার্থীর ছোট ভাই নিহত হয়েছেন। গতকাল দুপুরে পটিয়ার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গোবিন্দারখীল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। সেখানে এক কাউন্সিলর প্রার্থী নিখোঁজ হওয়ার খবরও ছড়িয়েছে। ওই ঘটনায় দুই কাউন্সিলর প্রার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষিপ্ত ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত আরও ১২ জন।
এদিকে গতকাল রাত ১টা পর্যন্ত পাওয়া ৩৫ পৌরসভার ফলে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক জিতেছে ৩১টি, বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক একটি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তিনটিতে জয় পেয়েছেন।
আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বিস্তারিত :
নিহত ১
দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভা নির্বাচনে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে আবদুল মাবুদ (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুল মান্নানের ছোট ভাই। বিভিন্ন কেন্দ্রে বিক্ষিপ্ত ঘটনায় আরও ১২ জন আহত হন। দুই কাউন্সিলর প্রার্থী আটক ও এক কাউন্সিলর প্রার্থী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
গতকাল দুপুরে পটিয়ার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গোবিন্দারখীল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। এছাড়াও সকালে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুল খালেক মসজিদ থেকে ফজরের নামাজ শেষে শাহ্ আশরাফ আউলিয়ার মাজার জিয়ারত করে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন বলে তার ভাই নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, সাদা পোশাকধারী একদল সন্ত্রাসী তার ভাইকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে পটিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
পটিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিক রহমান জানান, এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
গতকাল সকাল ৮টায় পটিয়া পৌরসভার ১৮টি কেন্দ্রে একযোগে শুরু হয় ভোটগ্রহণ। প্রত্যেকটি কেন্দ্রে বিপুলসংখ্যক পুরুষ ও নারী ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। দুপুর ২টায় জাপার মেয়রপ্রার্থী শামসুল আলম মাস্টার নির্বাচনে সরকারদলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন এবং পুনঃনির্বাচন দাবি করেন। এছাড়াও বিএনপি প্রার্থী নুরুল ইসলাম এবং ইসলামী ফ্রন্ট প্রার্থী আলী হোসাইন নির্বাচনে তারা সমান সুবিধা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ আনলেও শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে ছিলেন।
ভোটকেন্দ্রে সহিংসতা
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী পৌরসভা নির্বাচনে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বেলা ১১টার দিকে সোনাইমুড়ীর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আলোকপাড়ার ভাঙা পুলসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে একজন গুলিবিদ্ধসহ তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতরা হলেন বাহারকোট গ্রামের আবদুল হকের ছেলে মোহন (১৮), আমিরাবাদ গ্রামের আবুল হাসেমের ছেলে সালাউদ্দিন (২৭) ও উলুপাড়া গ্রামের স্বপনের ছেলে মনির (২২)। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, শুনেছি কেন্দ্রের বাইরে বিচ্ছিন্নভাবে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
লালমনিরহাট ও পাটগ্রাম পৌরসভা নির্বাচনে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে লালমনিরহাটে গতকাল সকাল ৮টার দিকে ভোটগ্রহণ শুরুর পরপরই কয়েকটি কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী সমর্থক ও বিএনপি সমর্থদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এছাড়া দুর্বৃত্তরা একটি ভোটকেন্দ্রের ইভিএমের চিপ খুলে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা।
টাঙ্গাইলের কালিহাতী পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-বিএনপির কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয়পক্ষে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হরিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে এ ঘটনা ঘটে। পরে আহতদের মধ্যে দুজনকে কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। কালিহাতী থানার ওসি সওগাতুল আলম জানান, অন্যরা স্থানীয় বেসরকারি ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
নরসিংদী পৌরসভা নির্বাচনে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়া, ককটেলসদৃশ বস্তু নিক্ষেপ ও ব্যালট পেপারে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগে চারটি কেন্দ্রে নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন।
বিভিন্ন স্থানে ভোট বর্জন
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর পৌরসভা নির্বাচনে কেন্দ্র দখল ও পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়াসহ নানা অভিযোগ এনে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। গতকাল বেলা পৌনে ৩টার দিকে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার এক ঘণ্টা আগে সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন দলটির মেয়রপ্রার্থী আবুল নঈম শামসুর রহমান ওরফে মিন্টু।
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে নির্বাচনে অনিয়ম, কারচুপি ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে ভোট শুরুর দুই ঘণ্টা পর ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয় বিএনপির মেয়রপ্রার্থী ইমাম হোসেন। তার দাবি, বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা ভোট দিতে গেলে তাদের কাছ থেকে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে নৌকা মার্কায় সিল মারা হয়।
বাগেরহাট পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে জোর করে ভোট আদায়ের অভিযোগ এনে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার দুই ঘণ্টা আগে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন বিএনপির মেয়রপ্রার্থী মো. সাইদ নিয়াজ হোসেন শৈবাল।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর নির্বাচনে নানা অনিয়ম ও ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন স্বতন্ত্র মেয়রপ্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম খান। তার দাবি, কয়েকটি কেন্দ্রে এজেন্টদের বের করে দেওয়া ও প্রকাশ্যে ভোট দিতে বাধ্য করা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুরের রামগতি পৌরসভায় গোপন কক্ষ ওপেন করতে বাধ্য করা, বহিরাগতদের এনে ভোটে প্রভাব বিস্তার, কেন্দ্র থেকে এজেন্ট বের করে দেওয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে গতকাল বেলা ১১টার দিকে একসঙ্গে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন মেয়র পদের বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়া, কেন্দ্র দখলসহ নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে বেলা ১১টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন বিএনপি প্রার্থী মো. এহেসান কুফিয়া।
মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিম পৌর নির্বাচনে ভোট কারচুপি ও বহিরাগতদের প্রভাব বিস্তারসহ নানা অভিযোগ তুলে বেলা ৩টার দিকে ভোট বর্জন করেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী মিজানুর রহমান।
বিজয়ী হলেন যারা
সাতক্ষীরা পৌরসভা : সাতক্ষীরা পৌরসভা নির্বাচনে ২৫ হাজার ৮৮ ভোট পেয়ে মেয়র পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির তাজকিন আহমেদ চিশতী। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী নাছিম ফারুক খান মিঠু (নারিকেল গাছ) পেয়েছেন ১৩ হাজার ২২১ ভোট। আওয়ামী লীগের শেখ নাসেরুল হক (নৌকা মার্কা) পেয়েছেন ১৩ হাজার ৫০ ভোট।
কলাপাড়া পৌরসভা : পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌরসভা নির্বাচনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের বিপুল হাওলাদার। তিনি পেয়েছেন ৩ হাজার ৬৬৯ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জগ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী দিদার উদ্দিন আহমেদ মাসুম বেপারীর চেয়ে ৪৫৪ ভোট বেশি পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন বিপুল।
বাগেরহাট পৌরসভা : বাগেরহাট পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী খান হাবিবুর রহমান ১৯ হাজার ২৩৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মো. সাঈদ নিয়াজ হোসেন শৈবাল পেয়েছেন ৩৫৯ ভোট।
শিবগঞ্জ পৌরসভা : চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সৈয়দ মনিরুল ইসলাম বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১৫ হাজার ৭৪১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের প্রার্থী ওজিউল ইসলাম ওজিল পেয়েছেন ৯ হাজার ৯৯৯ ভোট।
আখাউড়া পৌরসভা : আখাউড়া পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. তাকজিল খলিফা কাজল ১৫ হাজার ১৪৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী জয়নাল আবেদীন আব্দু ৭৭৮ ভোট পেয়েছেন।
ঠাকুরগাঁও পৌরসভা : ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আঞ্জুমান আরা বেগম বন্যা ২৬ হাজার ৫০২ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী শরিফুল ইসলাম শরিফ পেয়েছেন ৫ হাজার ৩৩৩ ভোট।
রানীশংকৈল পৌরসভা : ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক ২ হাজার ৯৯৩ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মোকারম হোসেন পেয়েছেন ২ হাজার ৩৭৯ ভোট।
গোপালপুর পৌরসভা : টাঙ্গাইলের গোপালপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী রকিবুল হক ছানা ১৮ হাজার ৯৬৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার কেএম গিয়াস উদ্দিন পেয়েছেন ৪ হাজার ২৮৭ ভোট।
কালিহাতী পৌরসভা : টাঙ্গাইলের কালিহাতী পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুন্নবী সরকার ১১ হাজার ৩১০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী আলী আকবর জব্বার পেয়েছেন ৭ হাজার ৭৯ ভোট।
কানাইঘাট পৌরসভা : সিলেটের কানাইঘাট পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী লুৎফুর রহমান মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৩ হাজার ৮২৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সোহেল আমিন পেয়েছেন ৩ হাজার ৬৮৬ ভোট।
কালাই পৌরসভা : জয়পুরহাটের কালাই পৌরসভা নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগের প্রার্থী রাবেয়া সুলতানা পেয়েছেন ৯ হাজার ১৭৭ ভোট, বিএনপি প্রার্থী সাজ্জাদুর রহমান তালুকদার ৮০০ ভোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুনুর রশিদ পেয়েছেন ১১৯ ভোট।
আক্কেলপুর পৌরসভা : জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শহিদুল আলম চৌধুরী ৮ হাজার ২৫৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী পেয়েছেন ৪ হাজার ৫৮১ ভোট।
মিরকাদিম পৌরসভা : মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিম পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হাজি আবদুস সালাম ২০ হাজার ৫৫৯ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মিজানুর রহমান পেয়েছেন ৮৬৮ ভোট।
কচুয়া পৌরসভা : চাঁদপুরের কচুয়া পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী নাজমুল আলম স্বপন। তিনি ১০ হাজার ২১২ ভোট পেয়েছেন এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী আহসান হাবিব প্রাণজল পেয়েছেন ১ হাজার ৫১ ভোট।
রাঙ্গামাটি : রাঙ্গামাটি পৌরসভায় নির্বাচিত আওয়ামী লীগ প্রার্থী আকবর হোসেন চৌধুরী২২ হাজার ৮০৪ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মামুনুর রশীদ মামুন পেয়েছেন ৬ হাজার ৯৩৫ ভোট।
চুনারুঘাট পৌরসভা : হবিগঞ্জের চুনারুঘাট পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাইফুল আলম রুবেল ৬ হাজার ৭৮২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী নাজিম উদ্দিন শামসু পেয়েছেন ৩ হাজার ৫৭৫ ভোট।
দাউদকান্দি পৌরসভা : কুমিল্লার দাউদকান্দি পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নাইম ইউসুফ সেইন পুনরায় মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১৪ হাজার ৪৩৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আবু মুছা পেয়েছেন ১ হাজার ৩৬ ভোট।
নেত্রকোনা পৌরসভা : নেত্রকোনা পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম খান ২৯ হাজার ৫৬৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আবদুল্লাহ আল মামুন খান রনি ৯ হাজার ৯৯৫ ভোট পেয়েছেন।
চাটখিল পৌরসভা : নোয়াখালীর চাটখিল পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. নিজাম উদ্দিন ১১ হাজার ৪৭৮ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মোস্তফা কামাল পেয়েছেন ২ হাজার ৮৬১ ভোট।
সোনাইমুড়ী পৌরসভা : নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী নুরুল হক চৌধুরী পেয়েছেন ৯ হাজার ৬০৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মো. মোতাহার হোসেন পেয়েছেন ৪ হাজার ৩৩১ ভোট।
গোয়ালন্দ পৌরসভা : রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে ৬১৭ ভোট বেশি পেয়ে জয়লাভ করেছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী নজরুল ইসলাম ম-ল। তিনি পেয়েছেন ৬ হাজার ৯০৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ. মো. নজরুল ইসলাম পেয়েছেন ৬২৮৭ ভোট।
রাজবাড়ী পৌরসভা : জেলার সদর পৌর নির্বাচন নৌকার প্রার্থী মহম্মদ আলী চৌধুরীকে পরাজিত করে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আলমগীর শেখ তিতু মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তিতু ভোট পান ১৫ হাজার ১০২। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মহম্মদ আলী ভোট পান ৭ হাজার ৩৪৮।
ফরিদগঞ্জ পৌরসভা : চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে জয়লাভ করেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটোয়ারী। তিনি পেয়েছেন ১৭ হাজার ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী ইমাম হোসেন পাটওয়ারী পেয়েছেন ১ হাজার ৭০৬ ভোট।
পাটগ্রাম পৌরসভা : পাটগ্রাম পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী রাশেদুল ইসলাম সুইট ১২ হাজার ৬১১ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির সালাউজ্জান ওপেল।
লালমনিরহাট পৌরসভা : লালমনিরহাট পৌরসভায় স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম স্বপনের প্রাপ্ত ভোট ১১ হাজার ৩৬। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোফাজ্জল হোসেন পেয়েছেন ৯ হাজার ৫৫ ভোট।
চন্দনাইশ পৌরসভা : চট্টগ্রামের চন্দনাইশ পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আলহাজ মু. মাহাবুবুল আলম খোকা পেয়েছেন ১৫ হাজার ৯৫৮ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আইনুল কবির পেয়েছেন ১ হাজার ৯১৬ ভোট।
হোমনা পৌরসভা : জেলার হোমনা পৌরসভায় ১১ হাজার ৪৬২ ভোট পেয়ে মেয়র পদে আবারও নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান মেয়র ও আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আবদুল লতিফ পেয়েছেন ৩ হাজার ২৮৮ ভোট।
পটিয়া পৌরসভা : দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভা নির্বাচনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী আইয়ুব বাবুল। তিনি পেয়েছেন ১৪ হাজার ৮৩৬ ভোট। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের নুরুল ইসলাম সওদাগর পেয়েছেন ১ হাজার ৪৯৪ ভোট।
জীবননগর পৌরসভা : চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের রফিকুল ইসলাম ১৩ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী বিএনপির শাহাজান কবির পেয়েছেন ৭৭৬।
তানোর : তানোর পৌরসভায় প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগ মনোনীত ইমরুল হক ১২ হাজার ৬৩২ ভোট পেয়ে মেয়রপদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বর্তমান মেয়র মিজানুর রহমান মিজান পেয়েছেন ৭ হাজার ২১৭ ভোট।
গোদাগাড়ী : গোদাগাড়ী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মনিরুল ইসলাম বাবু আবারওমেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৮ হাজার ৮১৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির গোলাম কিবরিয়া রুলু পেয়েছেন ৬ হাজার ৭৯২ ভোট। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী অয়েজ উদ্দিন বিশ্বাস পেয়েছেন ৪ হাজার ১১৫ ভোট।
তাহেরপুর : বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১০ হাজার ৮৪০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আবু নঈম শামসুর রহমান মিন্টু পেয়েছেন ৯০৩ ভোট ।
নওহাটা : পবা উপজেলার নওহাটা পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাফিজুর রহমান হাফিজকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি পেয়েছেন ১৪ হাজার ৪৫১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল বারি পেয়েছেন ১৩ হাজার ৯৮৬ ভোট।
চৌগাছা : চৌগাছা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের নুর উদ্দীন আল মামুন হিমেল বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ৬ হাজার ৫৪২ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মাস্টার কামাল আহমেদ পেয়েছেন ৩ হাজার ১৭ ভোট।