বিক্ষোভের মুখে আরও কঠোর মিয়ানমারের সেনা সরকার

অভ্যুত্থানবিরোধী গণতন্ত্রপন্থিরা যেমন দিন দিন আরও সংগঠিত হচ্ছে তেমনি তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর হচ্ছে জান্তা সরকার। দশ দিন ধরে চলা বিক্ষোভ দমন করতে প্রায় প্রতিদিনই জারি করছে নতুন নতুন আইন-বিধিনিষেধ। এরই ধারাবাহিকতায় গত রবিবার দেশটির সেনা সরকার জারি করেছে নতুন এক আইন। এর ফলে বিক্ষোভকারীদের এখন ২০ বছর পর্যন্ত কারাবাস করতে হতে পারে। 

এদিকে গতকাল থেকে দেশটির বিভিন্ন শহরে চলমান বিক্ষোভ দমনে সাঁজোয়া যান নামিয়েছে সেনা সরকার। কোথাও কোথাও মোতায়েন করা হয়েছে বাড়তি দাঙ্গা পুলিশও। বিবিসি, রয়টার্সসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে গতকাল সোমবার ইয়াঙ্গুন, নেপিদো, ইরাবতিসহ বেশ কয়েকটি শহরেই বিক্ষোভ হয়েছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে দফায় দফায় হয়েছে সংঘর্ষের ঘটনাও। 

বিবিসি বলছে, নতুন আইনে সশস্ত্র বাহিনীর কাজে বাধা দিলে ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলে অভ্যুত্থানবিরোধীদের হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির জান্তা সরকার। এ ছাড়া নতুন আইনে কেউ অভ্যুত্থানকারী নেতাদের বিরুদ্ধে ‘ঘৃণা বা অপমানসূচক’ কিছু প্রকাশ করলেই দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড বা মোটা অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়তে পারেন বলে জানানো হয়েছে।

সোমবার মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কেউ নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্ব পালনে বাধা দিলে সাত বছর আর জনসাধারণের মধ্যে ভীতি বা অশান্তি ছড়ালে তিন বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।

এতে আরও বলা হয়েছে, কেউ ‘মৌখক বা লিখিত শব্দ’ দিয়ে, কোনো ধরনের প্রতীক ব্যবহার করে বা দৃশ্যমান যেকোনো উপস্থাপনার মাধ্যমে সেনাদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করলে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড বা বড় অর্থদণ্ডের মুখে পড়তে পারেন।

মিয়ানমারে রবিবার টানা দশম দিনের মতো অভ্যুত্থানবিরোধীরা রাস্তায় নামার পরপরই আইনের বেশ কিছু ধারায় এই পরিবর্তন আনল নতুন জান্তা সরকার।

এদিকে গতকাল থেকেই দেশটির রাস্তায় টহল দিচ্ছে সাঁজোয়া যান। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হযেছে, মিয়ানমারের রাস্তায় সেনা টহল বৃদ্ধিকে অভ্যুত্থানবিরোধীদের ওপর সম্ভাব্য জোরজবরদস্তির সবশেষ নমুনা বলে মনে করা হচ্ছে।

এর আগে গত রবিবার দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য কাচিনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালিয়েছে। রাজ্যটির রাজধানী মিতকিনায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষের সময় এই গুলির শব্দ শোনা যায়। তবে সেটি সাধারণ বন্দুকের গুলি নাকি রাবার বুলেট তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিক্ষোভকারীরা অং সান সু চিসহ বন্দি অন্য নেতাদের দ্রুত মুক্তি এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যমতে, ১৫ ফেব্রুয়ারি সু চি’র বন্দিদশা শেষ হওয়ার কথা। তবে সোমবার তার আইনজীবী জানিয়েছেন, এ নেতা আরও দু’দিন বন্দি থাকতে পারেন। এরপর ভিডিওকলের মাধ্যমে সু চিকে নেপিদোর একটি আদালতে হাজির করা হবে।

গত ১ ফেব্রুয়ারি ভোরে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) সরকারকে উচ্ছেদ করে নেত্রী সু চি ও অপর শীর্ষ নেতাদের আটক করে। অভ্যুত্থানের পর থেকে এ পর্যন্ত ৩৮৪ জনেরও বেশি লোককে আটক করা হয়েছে বলে পর্যবেক্ষক গোষ্ঠী ‘অ্যাসিসট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার’ জানিয়েছে। এদের অধিকাংশকেই রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।