অর্থ ও মানব পাচারের মামলায় দণ্ডিত হয়ে কুয়েতে কারান্তরীণ লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের স্ত্রী সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলাম ও মেয়ে ওয়াফা ইসলামের জামিন বাতিল প্রশ্নে রুল দিয়েছে উচ্চ আদালত। তাদের বিচারিক আদালতের দেওয়া জামিন কেন বাতিল করা হবে না রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। দুজনের জামিন বাতিল চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল সোমবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেয়।
আগামী ১০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ ও বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে দুদকের পক্ষে মো. খুরশীদ আলম খান এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক শুনানিতে অংশ নেন।
পাপুলের স্ত্রী ও মেয়ের জামিন আবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তার নথি জালিয়াতির বিষয়টি প্রতীয়মান হয়েছে উল্লেখ করে গত ১১ ফেব্রুয়ারি এক আদেশে বিষয়টি তদন্ত করে দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে দুদককে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। গত বছর ২৭ ডিসেম্বর ঢাকার সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে পাপুলের স্ত্রী ও মেয়েকে জামিন দেয় আদালত। এর আগে ১০ ডিসেম্বর হাইকোর্ট দুজনের জামিনের আবেদন খারিজ করে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়।
২ কোটি ৩১ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ ও ১৪৮ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে শহিদ ইসলাম পাপুল, তার স্ত্রী, কন্যা ও শ্যালিকার বিরুদ্ধে গত বছর ১১ নভেম্বর মামলা করে দুদক। পরে ২৬ নভেম্বর হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেন পাপুলের স্ত্রী ও মেয়ে। ওই আবেদনে নথি জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে তাদের বিরুদ্ধে। জামিন আবেদনের সঙ্গে অর্থ পাচার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক উপপরিচালকের স্বাক্ষরিত নথি দাখিল করা হয়। জামিন আবেদনে বলা হয়, এ নথি তারা এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক থেকে পেয়েছেন। পরে ২২ ডিসেম্বর ওই নথিতে স্বাক্ষরকারী বাংলাদেশ ব্যাংকের উপপরিচালক মো. আরেফিন আহসান মিঞাকে তলব করে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট। গত ১২ জানুয়ারি এনআরবি ব্যাংক হাইকোর্টকে এই বলে অবহিত করে যে, তারা এ ধরনের নথি দেয়নি। হাইকোর্ট এ সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের সব নথি তলব করে। নথি উপস্থাপন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনজীবী আদালতকে জানান, দুজনের জামিনের আবেদনে দেওয়া নথির সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নথির মিল নেই। এতে জালিয়াতি করা হয়েছে।