জননিরাপত্তা নিশ্চিতে বিমানবাহিনীকে রাষ্ট্রপতির নির্দেশ

দেশের সেবা এবং জনগণের কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর (বিএএফ) সদস্যদের একনিষ্ঠভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। গতকাল সোমবার বিকেলে বঙ্গভবন থেকে এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিমানবাহিনীর বরিশাল রেডার ইউনিট এবং হেলিকপ্টার সিমুলেটর ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের উদ্বোধনকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এ দেশের সন্তান হিসেবে, আপনারাও দেশের মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নার সমান অংশীদার। তাই পেশাদারিত্বের নিপুণতা বজায় রাখার পাশাপাশি জনগণের প্রয়োজনে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আপনাদের কাজ করতে হবে।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘মনে রাখবেন, পরিশ্রম ও সততার কোনো বিকল্প নেই। সুদৃঢ় মনোবল, কঠোর পরিশ্রম, সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার ও দেশপ্রেমই আপনাদের পেশাগত জীবনে উৎকর্ষের শিখরে পৌঁছে দিতে পারে। পূর্বসূরিদের আত্মত্যাগের সার্থকতা আসবে আপনাদের একনিষ্ঠ দেশপ্রেম ও কর্তব্যনিষ্ঠার মাধ্যমে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমানবাহিনীকে একটি অত্যাধুনিক ও চৌকস বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নতুন নতুন বিমান ঘাঁটি স্থাপন এবং যুদ্ধবিমান, পরিবহন বিমান, হেলিকপ্টার, এয়ার ডিফেন্স রেডার, ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য যুদ্ধ উপকরণ সংযোজন করে চলেছেন। হেলিকপ্টার সিমুলেটর ট্রেনিং ইনস্টিটিউট স্থাপন ভবিষ্যতে বিমানবাহিনীকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ২১ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বর্তমান সরকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রণীত প্রতিরক্ষা নীতির আলোকে একটি কার্যকরী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ও ‘ফোর্সেস গোল-২০৩০’ প্রণয়ন করেছে যা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু একটি আধুনিক, শক্তিশালী ও পেশাগত বিমানবাহিনীর স্বপ্ন দেখেছিলেন। আর এ লক্ষ্যে, তার শাসনকালের অতি অল্প সময়ের মধ্যেই বিমানবাহিনীতে সে সময়ের অত্যাধুনিক মিগ-২১ সুপারসনিক ফাইটার বিমানসহ পরিবহন বিমান, হেলিকপ্টার ও এয়ার ডিফেন্স রেডার যুক্ত হয়।’

তিনি বলেন, বরিশাল রেডার ইউনিট স্থাপন বরিশাল অঞ্চলে আকাশসীমা পর্যবেক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এগুলো সমুদ্র ও উপকূলীয় অর্থনৈতিক কর্মকা-, উদ্ধার-তৎপরতা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগকালে ত্রাণ-কার্যক্রমে সহায়ক হবে।