জানতে চায় হাইকোর্ট

পাসপোর্ট জব্দের পরও পি কে হালদার কীভাবে বিদেশে

পাসপোর্ট জব্দের আদেশের পরও পি কে (প্রশান্ত কুমার) হালদার কীভাবে বিদেশে পালিয়ে গেলেন তা জানতে চেয়েছে উচ্চ আদালত। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের তিনটি বিভাগে ২০১০ সাল থেকে কর্মরত কর্মকর্তাদের তালিকা দাখিলের পর বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। পি কে হালদার যেদিন দেশত্যাগ করেন, সেদিন বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে দায়িত্বরত এবং এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়িত্বে কারা ছিলেন এর তালিকা দাখিল করতে বলেছে হাইকোর্ট।

এ ছাড়া এই আদেশে পি কে হালদারের মামলার সর্বশেষ অগ্রগতি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তিনটি বিভাগে ২০০৮ সাল থেকে কর্মরতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা দিতে বলা হয়েছে। আদেশগুলো প্রতিপালন করে ১৫ মার্চের মধ্যে প্রতিবেদন আকারে হাইকোর্টে দাখিল করতে বলা হয়েছে।

আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শামীম আজিজ।

গত ২১ জানুয়ারি এক আদেশে বাংলাদেশ ব্যাংকের তিন বিভাগে ২০০৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দায়িত্বরতদের নাম, পদবি, ঠিকানা প্রতিবেদন আকারে দিতে নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। পাশাপাশি ওই সময়ে অর্থ পাচার রোধে এসব কর্মকর্তার ব্যর্থতা রয়েছে কি না এবং ব্যর্থতা থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা জানাতে বলা হয়। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ডিপার্টমেন্ট অব ফিন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন্স অ্যান্ড মার্কেটস-১৪৭ জন, ফিন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন্স ইন্সপেকশন ডিপার্টমেন্ট-৫৭ জন, ইন্টারন্যাল অডিট ডিপার্টমেন্ট-১৯০ জন ২০১০ সালে থেকে কর্মরত আছেন। ২০০৮ ও ২০০৯ সালে ম্যানুয়েল সিস্টেম থাকায় তাদের তালিকা প্রণয়নে সময় চেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ছাড়া জালিয়াতি ও অর্থ পাচারে ব্যর্থতার বিষয়টি তদন্তাধীন এবং এ জন্য আরও সময়ের প্রয়োজন বলে উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গত ১৯ নভেম্বর হাইকোর্ট তার আদেশে পি কে হালদারকে বিদেশ থেকে ফেরাতে এবং তাকে গ্রেপ্তারে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা জানতে চেয়ে স্বপ্রণোদিত আদেশ দেয়। পি কে হালদার প্রথমে রিলায়েন্স ফাইন্যান্স ও পরে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ব্যাংকবহির্ভূত আরও চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিজ কর্তৃত্বে ও নিয়ন্ত্রণে নেন। পরে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণের নামে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ ওঠে পি কে হালদার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। পলাতক পি কে হালদারকে গ্রেপ্তারে ইতিমধ্যে ইন্টারপোলের রেড নোটিস জারি হয়েছে। অর্থ পাচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক।