যে শহরে জন্ম ও মৃত্যু নিষিদ্ধ

নরওয়ের সালবার্ডের কেন্দ্রে মাত্র দুই হাজার মানুষের বাসস্থান লংইয়ারবিন শহর। এ শহরে জন্ম ও মৃত্যু নিষিদ্ধের আইন রয়েছে। এমনকি শহরে বিড়াল পালনও নিষিদ্ধ। কেন এখানে এমন অদ্ভুত নিয়ম পালন করা হয়, তা নিয়ে লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা



কোথায় এ শহর

স্ক্যান্ডিনেভিয়ানের উত্তর ইউরোপের তিনটি দেশ তথা রাজতন্ত্র-নরওয়ে, সুইডেন ও ডেনমার্কের জন্য দেওয়া নাম। এদের মধ্যে নরওয়ে ও সুইডেন স্ক্যান্ডিনেভীয় উপদ্বীপ গঠন করেছে। দেশ তিনটি ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত দিক থেকে পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই স্ক্যান্ডিনেভিয়ানে একসময় অন্যতম বৃহৎ কয়লাখনি ছিল। এই কয়লাখনিতে কাজ করা শ্রমিকদের জন্য লংইয়ারবিনে একটি জায়গা ঠিক করা হয়। খাড়া পাহাড় আর বেশ কয়েকটি হিমবাহ দিয়ে ঘেরা শান্ত ও নিরিবিলি জায়গা অ্যাডজেন্টফোর্ড। এই অ্যাডজেন্টফোর্ডেরই উপকূলে অবস্থিত লংইয়ারবিন। এই এলাকায় মাত্র ৪০ কিলোমিটারের মতো রাস্তা রয়েছে, যেটি আবার শহরের কেন্দ্র ও নতুন শহর নাইবিনের মধ্য দিয়ে বিভক্ত হয়েছে। উত্তর মেরু থেকে ৭৮ ডিগ্রি অক্ষাংশে এবং নর্থ পোল থেকে মাত্র ১৩১৬ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত এই লংইয়ারবিন। সালবার্ড আর্কিপেলাগোর সবচেয়ে বড় দ্বীপ স্পিটসবার্গের মধ্যে অবস্থিত এ শহরটি। ২০০০ সালের দিকে, যখন এই শ্রমিকরা চলে যাওয়ার বদলে এ জায়গায়ই স্থায়ীভাবে বাস করা শুরু করে, তখন এটি পরিণত হয় ছোট্ট শহরে। ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে পর্যটন নগরী।

মানুষের ভ্রমণের জন্য আকর্ষণীয় হলেও এ শহরের বাসিন্দারা বেশ কয়েকটি কঠিন নিয়ম মানেন। এই নিয়মগুলো নতুন যে কেউ শুনেই স্বাভাবিকভাবেই ভীষণ বিস্মিত হয়। তবে তাদের কাছে এগুলো খুব সাধারণ নিয়ম এবং অবশ্যই যুক্তিযুক্ত। আর এ নিয়মগুলো তৈরি করা হয়েছে এখানকার আবহাওয়ার জন্য। যতই শহর বিকশিত হয়েছে, ততই মানুষ পৃথিবীর শেষ প্রান্তের এ শহরকে খুব সাধারণ জীবনযাপনের জন্য বেছে নিয়েছে। বছরের দীর্ঘ একটা সময় অন্ধকারের কারণে নিরানন্দ লাগলেও সত্যি সত্যি এলাকাটি দারুণ সুন্দর।

শহরের ইতিবৃত্ত

সালবার্ড অর্থ হচ্ছে ‘ঠাণ্ডা উপকূল দিয়ে ঘেরা ভূমি’। ১১৯৪ সালে ঐতিহ্যবাহী আইসল্যান্ড ভূমির নামে এই জায়গাকে উল্লেখ করা হয়। যদিও এ ঘোষণাই সালবার্ডের আবিষ্কার কি না সেটি বলা যায় না। ১৫৯৬ সালে সালবার্ডের আর্কিপেলাগোর আবিষ্কার করেছিলেন ডাচ উদ্ভাবক উইলিয়াম বারেন্ট। সে সময় থেকে শিকার, ফাঁদ, খনন আর অবিশ্বাস্য নানা অভিযানের গল্প নিয়ে সরব ছিল সালবার্দ। বিভিন্ন সময় যেমন আন্তর্জাতিক তিমি শিকারে (১৬০০-১৭৫০), রাশিয়ায় প্রচণ্ড শীতে শিকার আর ফাঁদে (১৭০০-১৮৫০) এবং নরওয়ের প্রচণ্ড শীতে শিকার ও ফাঁদে (১৮৫০-১৯৭৩) সালবার্ডের ইতিহাস যুক্ত ছিল।

১৯০৬ সালে, আমেরিকান ব্যবসায়ী এবং খনি অগ্রদূত জন মুনরো লংইয়ার প্রথম খনি স্থাপন করেন, ভবনগুলো স্থাপন করেন এবং জায়গাটির নাম রাখেন লংইয়ার সিটি। তিনি সালবার্ডে প্রথম ১৯০১ সালে এসেছিলেন ক্রুজের যাত্রী হয়ে। ১৯১৬ সালে, লংইয়ারের উত্তরীয় কয়লা প্রতিষ্ঠান কিনে নেয় দ্য স্টোর নর্স্ক স্পিটসবার্গেন কুলকোম্পানি। পরে এই জায়গার বদলে রাখা হয় লংইয়ারবেন।

এই এলাকায় কয়লা খনন ও মাছ ধরা নিয়ে রাশিয়া প্রশ্ন তোলে। এসব কাজকে নিয়মবহির্ভূত বলেও বলা হয়। সব ধরনের কাজকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে প্যারিসে ১৯২০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি সালবার্ড চুক্তি সই হয়। চুক্তি কার্যকর হয় হয় ১৯২৫ সালের ১৪ আগস্ট থেকে। চুক্তিটি সমর্থন করে নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য, ডেনমার্ক, আমেরিকা, ইতালি, ফ্রান্স, সুইডেন, নরওয়ে ও জাপান। পরে অবশ্য সোভিয়েত ইউনিয়ন (রাশিয়া), কানাডাসহ অনেকগুলো দেশ তাদের সমর্থন করে। এখন পর্যন্ত ৪৪টি দেশ তাদের সমর্থনে আছে। সালবার্ডের এই চুক্তিতে আর্কিপেলাগোও অন্তর্ভুক্ত। এই চুক্তির কারণে সেখানকার জনগণ নানা ব্যবসায়িক কাজ, শিকার ও মাছ ধরার অনুমতি পায়। আর্কিপেলাগোতে নেভাল বা মিলিটারি কোনো কর্মকান্ডের অনুমতি নেই।

১৯৮৯ সাল পর্যন্ত লংইয়ারবিন ছিল শুধুই একটি কোম্পানির শহর। স্টোর নর্স্ক স্পিটসবার্গেন কুলকোম্পানি তাদের সব ধরনের আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র ও সেবা দিত। ১৯৯০ সালে নরওয়ে সরকারের অনুমতি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কর্র্তৃপক্ষ লংইয়ারবিনকে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার একটি এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। এর মধ্যে ছিল সালবার্ড কাউন্সিল। ২০০২ সালে এটি সম্প্রসারিত হয়ে পরিণত হয় লংইয়ারবিন কমিউনিটি কাউন্সিল। এখান থেকেই খনি প্রতিষ্ঠানের ও সরকারের সব দায়িত্ব পালন করা হয়।

সালবার্ডকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে ১৯৭৫ সালে এখানে গড়ে তোলা হয় সালবার্ড এয়ারপোর্ট। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান ও নরওয়েজিয়ান এয়ারলাইনস নিয়মিত লংইয়ারবিনের জন্য ফ্লাইট চালু রাখে। সালবার্ড এমন কোনো জায়গা নয়, যেখানে কোনো পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাস করে। এখানে এমন পরিবারের সংখ্যা খুবই কম। মানুষ আসে, মানুষ যায়, সালবার্ডের ইতিহাসের নিরবচ্ছিন্ন অংশ হয়ে থাকে। প্রতিকূল আবহাওয়া আর কঠিন পরিস্থিতি সামলে থাকতে হয় বলে এখানে বেঁচে থাকাও বেশ কঠিন। তবু এখানে যে একবার আসে, ভালো লাগার অনেক স্মৃতি একসঙ্গে নিয়ে যায়।

অদ্ভুত যত আইন

লংইয়ারবিনের মানুষের বানানো আইনের মধ্যে দুটি উল্লেখযোগ্য আইন হচ্ছে এ শহরে জন্ম ও মৃত্যু দুটিই নিষিদ্ধ। মৃত্যুর বিষয় নিষিদ্ধ কারণ, এখানে বরফের মধ্যে কাউকে দাফন করলে শরীরের পচন ধরতে অনেক সময় লাগে। নব্বইয়ের দশকে গবেষকরা বিষয়টি নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। এক গবেষণায় দেখা যায়, ১৯১৮ সালের ফ্লুতে মারা যাওয়া ও সেখানকার বরফে চাপা দেওয়া লাশের শরীর থেকে ১৯৯৮ সালে এসেও জীবিত ভাইরাসের অস্তিত্ব মিলেছে। আর এ কারণেই এখানকার স্থানীয়রা লাশ না পচে যাওয়া নিয়ে বেশ শঙ্কায় থাকেন। কারণ লাশের শরীর থেকেও জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে পুরো এলাকায়। নরওয়েজিয়ান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির প্রফেসর জ্যান ক্রিশ্চিয়ান বলেন, ‘যদি তারা কোনোভাবে বুঝতে পারে কেউ মারা যাচ্ছে, তবে তাকে অন্য কোনো শহরে পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য তারা সব ধরনের শ্রম দিতে রাজি থাকে।’ ১৯৫০ সাল থেকে এখানে মৃত্যুর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এ বছর থেকে স্থানীয়রা বুঝতে পারেন পারমাফ্রস্ট (ভূমিতে অথবা সমুদ্রের নিচে থাকা যেকোনো জায়গা যা বছরের পর বছর ধরে শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও নিচে থাকে) মৃতদেহে পচন ধরতে দিচ্ছে না। তারা ভয় পাচ্ছিলেন মৃতদেহ থেকে ভাইরাস ছড়াতে পারে। সবার সিদ্ধান্তে শহরের কবরস্থান কমিশনের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং লংইয়ারবিনে মৃত্যু নিষিদ্ধ করা হয়। যদি কেউ গুরুতর অসুস্থ হয় অথবা কারও মধ্যে মৃত্যুর লক্ষণ বোঝা যায়, তবে দ্রুত তাকে ভালো চিকিৎসার জন্য অথবা দাফনের জন্য নরওয়ের দক্ষিণ অংশে নিয়ে যাওয়া হয়।

জন্মের বিষয়টিও নিষিদ্ধ প্রায় একই রকম কারণে। ছোট হাসপাতাল থাকলেও এত অল্প জনসংখ্যার জন্য মাতৃত্বকালীন ভালো কোনো সুবিধা এখানে নেই। প্রসবের সময় যেকোনো ধরনের ঝুঁকি অথবা অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যু এড়াতে গর্ভবতী নারীকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় লংইয়ারবিনের সবচেয়ে কাছের কোনো শহরে। সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরই শুধু তারা শহরে ফিরতে পারেন।

এ শহরে আরও একটি মজার আইন হচ্ছে, এখানে কোনো ধরনের বিড়াল পালারও অনুমতি নেই। বিড়াল যদি কোনো পাখিকে আক্রমণ করে, তবে পাখি কমে যাওয়ার বা বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সে ধরনের ঝুঁকি এড়াতেই সহজ পদ্ধতি হচ্ছে কোনো ধরনের বিড়ালই না পালা। নতুন কোনো পর্যটক বিড়াল না পালার যুক্তি শোনার পর কিছুটা বিস্মিত হন বটে, কিন্তু বুঝতে পারেন শহরের পাশাপাশি এখানকার জীববৈচিত্র্যের জন্য মানুষের ভালোবাসা কতটুকু। এমন অদ্ভুত একটি এলাকায় থাকতে চাইলে কিছুটা ঝুঁকি আর নিয়ম মেনে তো চলতেই হবে। এ এলাকায় প্রায় এক হাজারেরও বেশি পোলার বিয়ার আছে। তারা এই জায়গাকে নিজেদের ঘর বলেই মানে।

এ শহরের আরও একটি মজার ও বেশ আকর্ষণীয় জায়গা হচ্ছে পুরনো কয়লাখনিতে বানানো বীজ ব্যাংক। বিভিন্ন জাতের যত ধরনের গাছ রয়েছে বিশেষ করে যদি কোনো বিলুপ্তপ্রায় গাছের সন্ধান পাওয়া যায়, সেগুলোর বীজ সংগ্রহ করা হয় এই ব্যাংকে। এখানে এখন পর্যন্ত প্রায় আট লাখেরও বেশি ধরনের গাছের বীজ সংরক্ষিত আছে। এ সংখ্যা আরও বাড়ছে। এই ব্যাংক বানানো হয়েছে ভবিষ্যতের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ অথবা নিউক্লিয়ার যুদ্ধের কথা মাথায় রেখে।

পর্যটক ও শিক্ষার্থী

লংইয়ারবিন টিকে আছে পর্বতের গায়ের কয়লাখনির জন্য। এ কারণেই গত শতাব্দী থেকে এখানে গড়ে উঠেছে খনিশিল্প। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত শহরটি সাধারণ খনন শহর হিসেবে পরিচিত থাকলেও ধীরে ধীরে এখানে বিভিন্ন ব্যবসায়িক সম্প্রদায় তৈরি হচ্ছে। কয়লাখনি মূল বাণিজ্য হলেও সাম্প্রতিক কয়েক বছরে কয়লার দাম পড়ে যাওয়ায় খনির কাজও কমিয়ে আনা হয়েছে। স্টোর নর্স্ক স্পিটসবার্গেন কুলকোম্পানি এখনো লংইয়ারবিনের কাছে খননকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ১৯৯০ সালের পর, পর্যটন খুব ধীরে কিন্তু প্রধান শিল্প হয়ে উঠলেও বর্তমানে এটি সেখানকার প্রধান স্তম্ভ হয়ে উঠেছে। ২০১৬ সালে, ১ লাখ ১৫ হাজার পর্যটক লংইয়ারবিনে ভ্রমণ করতে এসেছিলেন, যাদের মধ্যে ৩৫ হাজারই ছিলেন বিদেশ থেকে আসা ক্রুজ শিপের যাত্রী।

গবেষণা আর শিক্ষাও অন্যতম জরুরি শিল্প এখানে। উত্তর মেরুর জীববিজ্ঞান, ভূতত্ত্ব, ভূ-প্রকৃতিবিদ্যা ও প্রযুক্তি নিয়ে পড়াশোনা করতে সালভার্ডের ইউনিভার্সিটি সেন্টারে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া করতে আসেন। লংইয়ারবিনে হাসপাতাল, স্কুল, কিন্ডারগার্টেন, স্পোর্টস হল, চার্চ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রও রয়েছে।

নানা ঋতুতে লংইয়ারবিন

লংইয়ারবিনের প্রতিটি অধিবাসীই মানেন এখানকার ভিন্ন ভিন্ন সব ঋতুই আকর্ষণীয়। কারও কাছে ভালো লাগে শীতের অন্ধকার আলো, আবার কারও কাছে মাঝরাতে আকাশে ওঠা সূর্যের উজ্জ্বল আলো। উত্তর মেরুর সবচেয়ে কাছে এ শহরটির অবস্থান হওয়ায় শীতের সময় প্রায় চার মাস এখানে রাত থাকে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ১২০ দিন পর্যন্ত এই এলাকার মানুষের দিন কাটে প্রাকৃতিক দিনের আলো ছাড়া। তখন এই এলাকায় আলাদাভাবে দিন ও রাতের কোনো পার্থক্য বোঝা যায় না। সূর্য যেহেতু দেখা যায় না, তবু দিগন্তে তার নীল ও লাল উজ্জ্বল আলোর আভা ছড়িয়ে পড়ায় পুরো পরিবেশ খুব সুন্দর নীলচে এক মোহনীয় আবেশ তৈরি করে। ঘড়ি মেনে যে সময়টুকুকে মেরুর রাত বলা হয়, সে সময়ের শুরু আর শেষ হয় গোধূলি আলো হয়ে। সব মিলিয়ে রাত হলেও লংইয়ারবিন যেকোনো পর্যটককে মোহনীয় করে রাখতে সক্ষম। আবার গ্রীষ্মের সময় মধ্যরাতে যখন সূর্য ওঠে, তখন সপ্তাহের ৭ দিন ২৪ ঘণ্টাই চারপাশ সূর্যের আলোয় আলোকিত থাকে।

ঋতুর বৈপরীত্য লংইয়ারবিনের অধিবাসীর প্রতিদিনের জীবনে ও কাজে প্রচুর প্রভাব ফেলে। যখন চারপাশ আলোকোজ্জ্বল আর রৌদ্রময় থাকে, তখন মানুষ প্রচুর সময় বাইরে কাটায়। আবার যখন শীতের অন্ধকার সময় শুরু হয়, তখন স্থানীয়সহ অতিথিদের মধ্যে সামাজিকতা অনেক বেড়ে যায়। এ সময় বিভিন্ন ধরনের উৎসব, কনসার্ট, খেলাধুলার আয়োজনসহ বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে খাবার-দাবারের নানা আয়োজন থাকে। অন্ধকার এই ঋতুতে ক্রিসমাসের সময় পাহাড়ের ওপর মানুষরা বিভিন্ন রঙের টর্চ গায়ে প্যারেড করেন। এই দৃশ্যটি দেখতেও দারুণ লাগে।