রায়ে পুরো সন্তুষ্ট নন অভিজিতের স্ত্রী বন্যা

ব্লগার ও লেখক অভিজিৎ রায় হত্যা মামলার রায়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা। রায় ঘোষণার পর গতকাল মঙ্গলবার নিজের ভেরিফায়েড ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এ কথা জানান তিনি।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বন্যা ইংরেজিতে লেখা ওই স্ট্যাটাসে বলেন, ‘ছয় বছরের দ্বিধা এবং বিলম্বের পর আমরা আজকে একটি রায় পেলাম। ২০১৫ সালে আমি এবং অভিজিৎ বাংলাদেশে গিয়েছিলাম বইমেলায় অংশ নিতে। সেখানে তার দুটি বই প্রকাশের কথা ছিল। আমরা জঙ্গি হামলার শিকার হলাম এবং অভিজিৎ মারা গেল, আমি কোনো মতে বেঁচে গেলাম। এই মৃত্যুর মিছিল আরও এক বছর অনবরত চলমান ছিল।’

তিনি বলেন, ‘আজকে আদালত রায় দিয়েছেন। হামলাকারীরা বিজ্ঞান, দর্শন এবং ধর্মসম্পর্কিত বই ও ব্লগ লেখার জন্য অভিজিৎকে হত্যা করেছে কি নাআদালত তার বিচার করছিল। এই রায় আমার কিংবা আমার পরিবারের কাছে কোনো অবসান নয়। গত ছয় বছরে এই মামলার তদন্তকারী কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। যদিও আমি একজন প্রত্যক্ষদর্শী এবং হামলার একজন ভিকটিম। জানুয়ারি মাসে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী প্রকাশ্যে মিথ্যা বলেছেন যে, আমি সাক্ষ্য দিতে রাজি নই। আসল কথা হচ্ছে, বাংলাদেশ থেকে সরকারের কেউ কিংবা প্রসিকিউশনের কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।’

বন্যা আরও লিখেছেন, ‘জঙ্গি সংগঠন যারা আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছিল তাদের দুই হোতা সৈয়দ জিয়াউল হক (বরখাস্ত মেজর জিয়া) এবং আকরাম হোসেনকে কোনো সময় আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। গত সপ্তাহে প্রকাশক দীপন হত্যা মামলার রায়ের পর আমরা জানতে পারি, আমাদের ওপর হামলার পর ৮ মাস ধরে হক বাংলাদেশের মুক্তমনা লেখক-প্রকাশকদের হত্যার পরিকল্পনা করে আসছিল। তবু বাংলাদেশ সরকার তাদের আইনের আওতায় আনতে ব্যর্থ হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রকাশক দীপন হত্যা মামলায় একজন হত্যাকারী জবানবন্দিতে বলেছে, ২০১৫ সালে ব্লগার-প্রকাশক এবং সমকামীদের হত্যা করার জন্য প্রচুর টাকা সরবরাহ করা হয়েছিল। আমি জানতে চাই, এই টাকার তদন্ত কেউ করেছে কি না? এই রায়ে কী হবে যদি আমরা জানতেই না পারি, টাকা কোথা থেকে এসেছে অথবা এই হত্যার মূলহোতা কে?’

ফেইসবুকে বন্যা আরও লিখেছেন, ‘২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি আমি এবং অভিজিৎ একদল বিজ্ঞান লেখকের আমন্ত্রণ পেয়েছিলাম। যারা আয়োজক ছিল, তারা আমাদের কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষায় রেখেছিল। অবশেষে সন্ধ্যায় আমরা তাদের দেখা পেলাম। ওই অনুষ্ঠানের পর আমাদের ওপর হামলা হয় এবং অভিজিৎকে হত্যা করা হয়। ওই অনুষ্ঠানের আয়োজকদের কী জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল, হলেও তার ফল কী?’

তিনি আরও বলেন, ‘কয়েকজনকে সাজা দিয়ে উগ্রবাদীদের উত্থানকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া অভিজিৎ হত্যা কিংবা ব্লগার, প্রকাশক, সমকামীদের হত্যার ন্যায়বিচার হতে পারে না। তাই এই রায় আমার পরিবার কিংবা তার পরিবারকে সন্তুষ্ট করতে পারবে না।’