মিয়ানমারের জান্তা সরকার পুনরায় দেশটিতে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিজয়ীদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা দখলের পর গতকাল মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানেই সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাও মিন তুন এ আশ্বাস দেন। এই মুখপাত্র বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য হলো নির্বাচনের আয়োজন করা ও বিজয়ী দলের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।’
দীর্ঘদিনের জন্য ক্ষমতায় থাকার ইচ্ছে নেই বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হলেও কবে নাগাদ এ নির্বাচন হতে পারে, সে সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি। ক্ষমতা দখলের পরপরই দেশটিতে এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করে জান্তা সরকার।
বিবিসি বলছে, অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভরত প্রতিবাদকারীদের প্রতি কঠোর কোনো প্রতিক্রিয়া দেখানো হলে তার ‘গুরুতর পরিণতি’ সম্পর্কে দেশটির সেনাবাহিনীকে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত। মিয়ানমারের সামরিক জান্তার দ্বিতীয় শীর্ষ নেতাকে ফোন করে তিনি এ সতর্কতা জানান বলে জাতিসংঘের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন।
গত রবিবার রাতে মিয়ানমারের প্রধান শহরগুলোতে সাঁজোয়া যান ও সেনা মোতায়েন করা হয়। তা সত্ত্বেও অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়ে ও কারাবন্দি নেত্রী অং সান সু চিসহ অন্যদের মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদকারীরা সোমবার ফের বিক্ষোভ দেখান। তবে আগের দিনগুলোতে হাজার হাজার প্রতিবাদকারী রাস্তায় নেমে এলেও এদিন তাদের সংখ্যা কম ছিল। সোমবারই জাতিসংঘের বিশেষ দূত ক্রিস্টিনা শানার বার্জেনার সামরিক জান্তার উপপ্রধানের সঙ্গে কথা বলেন।
মুখপাত্র ফারহান হক বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ অধিকারকে যেন অবশ্যই পুরোপুরি সম্মান করা হয় এবং বিক্ষোভকারীদের প্রতিহিংসার শিকার যেন না করা হয় তা নিশ্চিত করতে চাপ দেন শানার বার্জেনার। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীকে তিনি জানান, বিশ্ব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং কঠোর কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখানো হলে পরিণতি মারাত্মক হতে পারে।
বার্জেনার সেনাবাহিনীকে মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানানোর পাশাপাশি ইন্টারনেট বন্ধ রাখা নিয়েও সতর্ক করেছেন বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের মুখপাত্র।
এদিকে দেশটির গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চির বিরুদ্ধে এবার ফৌজদারি অপরাধের দ্বিতীয় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার ভিডিওকলের মাধ্যমে সু চিকে রাজধানী নেপিদোর একটি আদালতে উপস্থাপন করা হয়। বিবিসি জানায়, সু চির বিরুদ্ধে নতুন কী অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে খুব সম্ভবত মিয়ানমার পুলিশ তার বিরুদ্ধে ‘নেচারাল ডিজাস্টার ল’ লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে।
এর আগে সু চির বিরুদ্ধে অবৈধ পথে বিদেশ থেকে ওয়াকিটকি আমদানি এবং যোগাযোগের যন্ত্রগুলো বেআইনিভাবে নিজের কাছে রাখার অভিযোগ দায়ের করা হয়। বন্দি করা হয় সু চিকে। সু চিকে কোথায় আটকে রাখা হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। তবে তাকে সম্ভবত রাজধানীতে তার নিজ বাড়িতেই গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে সু চির রিমান্ডের মেয়াদ ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বলা হলেও পরে তা দুই দিন বাড়িয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি করা হয়। বিবিসি জানায়, মঙ্গলবার আদালত থেকে সু চিকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। তাকে বারবার তার আইনি ব্যবস্থার আয়োজন এবং আদালতে কে বা কারা তার প্রতিনিধিত্ব করবেন সে সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয় এবং তিনি তার উত্তর দেন। আগামী ১ মার্চ সু চিকে পুনরায় আদালতে উপস্থাপনের দিন ধার্য করা হয়েছে।