পুলিশ বেষ্টনীর মধ্যে বিএনপির সমাবেশ

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রীয় খেতাব ‘বীরউত্তম’ বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গতকাল বুধবার পুলিশের কড়া বেষ্টনীর মধ্যে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিএনপি। সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য আমান উল্লাহ আমান বলেন, ‘ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারকে আর একতরফা নির্বাচন করার সুযোগ দেওয়া হবে না। আর আগের রাতে ভোট ডাকাতির সুযোগ দেওয়া হবে না। তার আগেই এই সরকারকে বিদায় করতে হবে।’ এ সময় সরকারকে হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল করলে তাদের হাত পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে।’

গতকাল চট্টগ্রাম, খুলনা, ঝিনাইদহ এবং নেত্রকোনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ করেছে বিএনপি। আমান উল্লাহ আমান বলেন, ‘আমরা ’৯০-এর চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এই সরকারপ্রধান ও সরকারকে উৎখাত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করব। সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে একদফা আন্দোলনে শরিক হতে হবে এবং এই সরকারের পতন ঘটিয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’ এসময় তিনি গ্রেপ্তারকৃত সকল নেতাকর্মীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।

এদিকে বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই জাতীয় প্রেস ক্লাবের আশেপাশে অবস্থান নেয় বিপুলসংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। এরই মধ্যে সকাল ১০টা থেকে সমাবেশ শুরু হয়ে শেষ হয় দুপুর ১টার দিকে। বিএনপির এই কর্মসূচি ঘিরে পুলিশ রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড়, আবদুল গনি সড়ক, কদম ফোয়ারা ও সেগুনবাগিচা এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে চলাচল সীমিত করে দেয়। এমনকি সাংবাদিকদেরও কার্ড দেখিয়ে সেখানে যেতে হয়েছে। একই সময়ে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে ব্যারিকেড তৈরি করে রাখে পুলিশ।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান ১৯৭২ সালের পর থেকে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা বলে দাবি করেন। জিয়াউর রহমান হলেন মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক। জিয়াউর রহমান ও শাজাহান কি এক জিনিস? এই শাজাহান খান এখন মিটিং করছেন কীভাবে জিয়াউর রহমানের খেতাব প্রত্যাহার করা যায়।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, আপনাকে প্রস্তুত থাকতে হবে। শাজাহান খান আপনার খেতাব শুধু নয়, আপনার জীবনের জন্যও হুমকি হতে পারে। যদি একটা পটপরিবর্তন ঘটে, এদের ভূমিকা কী হবে জানি না। কারণ ৭২ থেকে ৭৫ আওয়ামী লীগের লোকজনদের খুঁজে খুঁজে মেরেছে এই শাহজাহান। কারণ তিনি একজন গণবাহিনীর নেতা ছিলেন। মাদারীপুরে জাসদের নেতা।’

রিজভী বলেন, ‘শাজাহান খান সভ্যতার ধার ধারে না। পরিবহনের বাস যখন মানুষ চাপা দিয়ে মারে তখন সেটাকে তিনি বৈধ মনে করেন। পরিবহনের বাস শিশুদের থেঁতলে দিয়ে যায়, আর তিনি হাসতে হাসতে বলেন এগুলো কিছুই না। ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম একজন নন্দিত আইনজীবী, এক টকশোতে রফিকুল ইসলামকে এই শাজাহান খান বলেন, এই আপনার চোখ তুলে নেব। যে লোকের মুখ থেকে চোখ তুলে নেব, মারব, রক্তাক্ত করবএই শব্দ বের হয় সে তো ডাকাত, সন্ত্রাসী, মাফিয়া।’

তিনি আরও বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের নাম সবার হৃদয়ে আছে। কয়েকজন সন্ত্রাসী মাফিয়া খেতাব বাতিলের কথা বললে জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক অবদান মুছে যাবে না।’

সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য আবদুস সালাম পুলিশি ব্যারিকেডের কড়া সমালোচনা করে বলেন, ‘আজকে পুলিশের অবস্থান দেখে মনে হচ্ছে পুরো ঢাকা শহর বিএনপির দখলে।’ তিনি পুলিশের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা এভাবে কি আওয়ামী লীগকে রক্ষা করতে পারবেন?’

এর আগে গত শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে যে সমাবেশ হয়েছিল তার চেয়ে লোক সমাগম কম ছিল। বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশের সঙ্গে দলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষও হয়। লোক সমাগম কম হওয়ার বিষয়ে আবদুস সালাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘চারদিকে পুলিশের ব্যারিকেডের কারণে নেতাকর্মীরা ভেতরে ঢুকতে পারেননি।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব-উন নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আযাদ, শহিদুল ইসলাম বাবুল প্রমুখ।