গ্রামীণ টেলিকমের ৩৮ কর্মীকে চাকরিতে পুনর্বহাল করতে আদালতের আদেশ প্রতিপালন না করায় প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও প্রতিষ্ঠানটির এমডি (ব্যবস্থাপনা পরিচালক) মো. আশরাফুল হাসানকে তলব করেছে উচ্চ আদালত। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার প্রশ্নে রুল দিয়েছে হাইকোর্ট। আগামী ১৬ মার্চ ড. ইউনূস ও ওই কর্মকর্তাকে ভার্চুয়ালি আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে। আদালত অবমাননার আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ইউসুফ আলী। গ্রামীণ টেলিকমের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী।
আবেদনকারীদের আইনজীবীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনা না করেই গত বছরের ২৫ অক্টোবর গ্রামীণ টেলিকমের এমডি আশরাফুল আলম স্বাক্ষরিত এক নোটিসে প্রতিষ্ঠানটির ৯৯ জন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এ নিয়ে হাইকোর্টে ৩৮টি রিট আবেদন করা হয়। আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গত বছর ৬ ডিসেম্বর হাইকোর্ট এক আদেশে ৩৮ জনকে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে তাদের চাকরি থেকে অপসারণের আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়।
অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গ্রামীণ টেলিকমের কর্মীদের তিনি (ড. ইউনূস) অবৈধভাবে চাকরিচ্যুত করেছিলেন। হাইকোর্ট শুনানি নিয়ে ওই আদেশ স্থগিত করে তাদের পুনর্বহালের নির্দেশ দেয়। কিন্তু পুনর্বহালের নির্দেশ প্রতিপালন না করায় আদালত অবমাননার আবেদন করা হয়। আদালত ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুলসহ তাকে ভার্চুয়ালি হাজির হতে বলেছে। ওইদিন তিনি কারণ দর্শাবেন যে কেন তিনি আদালতের আদেশ অমান্য করেছেন।’