মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ঘাটে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎ করে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পাঁচ ঘণ্টা বন্ধ থাকায় সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা চরম দুর্ভোগের শিকার হন।
যাত্রী, চালক ও ঘাটের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অর্ধশতাধিক গাড়িবহর নিয়ে গতকাল সকাল ৭টার দিকে ঢাকা দক্ষিণ এবং উত্তর সিটি করপোরেশনে বিএনপির পরাজিত মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন ও তাবিথ আউয়াল আসার পরপরই শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। নেতাকর্মীদের নিয়ে এ দুই নেতা নির্বাচনে ভোট কারচুপি ও জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধের খেতাব বাতিলের প্রতিবাদে বরিশালে বিএনপির প্রথম বিভাগীয় মহাসমাবেশে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। এ সময় যোগাযোগ করেও বিআইডব্লিউটিসির কোনো কর্মকর্তাকে তারা পাননি। অগত্যা সকাল ৯টার দিকে এমভি মাসুম-২ লঞ্চে ইশরাক এবং স্পিডবোটে পদ্মা নদী পার হন তাবিথ আউয়াল। সমাবেশে ইশরাক-তাবিথের যোগদান ঠেকাতেই হঠাৎ ফেরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ বিএনপির নেতাকর্মীদের।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাটের উপমহাব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নৌরুটে সবসময় ফেরি চলাচল করেছে, কোনো ফেরি বন্ধ করা হয়নি। সত্য হচ্ছে, সকাল থেকে ফেরিগুলো শিমুলিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে যায়। এতে সব ফেরি বাংলাবাজার ঘাটে অবস্থান করছিল। এজন্য কিছু সময় শিমুলিয়া ঘাটে কোনো ফেরি ছিল না। বিএনপির নেতাকর্মীরা ধৈর্য না ধরে লঞ্চ ও স্পিডবোটে নদী পার হন। এটি তাদের ব্যক্তিগত বিষয়, আমাদের কিছু বলার নেই।’
পদ্মা পাড়ি দেওয়ার আগে ইশরাক হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ঘাটে আসার পরই ফেরির সব স্টাফ চলে যান। ফেরিগুলো নদীর ওপারে পাঠিয়ে দিয়ে পারাপারে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট সবারই জানা। গণতন্ত্র নেই, ভোটের অধিকার নেই। বর্তমান বেহায়া সরকার যে পরিমাণ দুর্নীতি, অপকর্ম করেছে, তা আন্তর্জাতিক ও দেশীয় গণমাধ্যমে ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। এসব থেকে জনগণের দৃষ্টি ফেরাতেই তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধের খেতাব বাতিলের ষড়যন্ত্র করছে।’
এদিকে যাত্রীরা অভিযোগ করেন, পূর্বঘোষণা ছাড়া সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। দীর্ঘক্ষণ ফেরি বন্ধ থাকায় ঘাট এলাকায় পারাপারের অপেক্ষায় হাজারো সাধারণ যাত্রী ও যানবাহন চালক দুর্ভোগে পড়েন। দুপুরে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হলেও যানবাহনের বাড়তি চাপ দেখা যায়। সন্ধ্যা পর্যন্ত ছোট-বড় পাঁচ শতাধিক যানবাহন নদী পারের অপেক্ষায় ছিল বলে জানা গেছে।