ক্ষতি পোষাতে শূকরের খামারের দিকে ঝুঁকল হুয়াওয়ে

স্মার্টফোন বিক্রিতে ধস নামায় চীনা টেলিকম জায়ান্ট হুয়াওয়ে এখন শুঁকর খামারের প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি দাবি করে ট্রাম্প প্রশাসন কড়াকড়ি আরোপ করলে দেশটিতে হুয়াওয়ের গুরুত্বপূর্ণ অনেক পণ্য ও উপাদান প্রবেশ বন্ধ হয়ে যায়।

এতে স্মার্টফোন বিক্রিতে বড় ধরনের ধাক্কা খায় চীনা প্রতিষ্ঠানটি। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শূকরের খামার মালিকের জন্য প্রযুক্তি নিয়ে এসেছে তারা। কয়লা খনি শিল্প নিয়েও কাজ করছে হুয়াওয়ে।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, হুয়াওয়ে তার ভোক্তাদের ব্যক্তিগত তথ্য চীনা সরকারের কাছে ফাঁস করে দিতে পারে। যদিও বিষয়টি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে টেলিকম জায়ান্টটি।

এরপরেও যুক্তরাষ্ট্রে ফাইভ জি প্রযুক্তির সামগ্রী ও পণ্য আমদানিতে বাধার মুখে পড়ে হুয়াওয়ে। যার ফলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় টেলিকম প্রতিষ্ঠানটি ফোরজি প্রযুক্তিতে আটকে থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রকে অনুসরণ করে যুক্তরাজ্যসহ আরও কয়েকটি দেশ ফাইভজি প্রযুক্তিতে হুয়াওয়েকে প্রত্যাখ্যান করে।

২০২০ সালের শেষ তিনমাসে হুয়াওয়ের স্মার্টফোন বিক্রি ৪২ শতাংশ পড়ে যায়। নিষেধাজ্ঞার কারণে ফোনের মাইক্রোচিপ আমদানি করতে পারেনি তারা। ধারণা করা হচ্ছে, এ বছর স্মার্টফোন উৎপাদন ৬০ শতাংশ কমিয়ে দিতে হবে প্রতিষ্ঠানটিকে।

এমন পরিস্থিতিতে আয় ধরে রাখতে ক্লাউড কম্পিউটার সার্ভিস, স্মার্ট গাড়ি, ওয়্যারেবল ডিভাইসসহ নানা ধরনের পণ্য ও সুবিধা নিয়ে আসছে হুয়াওয়ে। যদিও অন্যান্য টেক জায়ান্টেরও এমন পণ্য ও সুবিধা আছে।

এর মধ্যে একেবারে সবার থেকে আলাদা হয়ে শূকর খামারের দিকে ঝুঁকল চীনা প্রতিষ্ঠানটি। শূকর লালনপালনে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শিল্প চীনে এবং বিশ্বের অর্ধেক জীবিত শূকর বাসস্থান বলা হয়ে থাকে দেশটিকে।

শূকর খামারিদের জন্য হুয়াওয়ে এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেবা নিয়ে এসেছে যাতে পশু লালনে পালনে সুবিধা এনে দেবে তাদের। শূকরদের অবস্থান চিহ্নিত করা, তাদের রোগ  শনাক্ত, তাদের ওজন, খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়াম ঠিক রাখবে।