সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিশেষ অবদানের জন্য একুশে পদক পেয়েছেন বরেণ্য অভিনেতা রাইসুল ইসলাম আসাদ।এই সম্মাননাপ্রাপ্তির অনুভূতি ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা হলো তার সঙ্গে
একুশে পদক...
পুরস্কার সব সময়ই ভালো লাগার বিষয়। এর বাইরেও ভালো লাগার একটি কারণ আছে। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় পুরস্কার পাচ্ছি, এটা তো বড় পাওয়া। আমার প্রতিটি অর্জনে মুক্তিযুদ্ধের কথা মনে পড়ে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে যখন ফোন করে এ প্রাপ্তির কথা জানানো হয়, তখন মুক্তিযুদ্ধে যাদের হারিয়েছি, সেইসব স্বজনের কথা খুব মনে পড়েছে। আমার এই পুরস্কার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি উৎসর্গ করছি। কারণ, তিনি পদক্ষেপ না নিলে বাংলাদেশের জন্মই হতো না। এ ছাড়া দেশের সূর্যসন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরও এই আনন্দক্ষণে স্মরণ করতে চাই। তাদের সঙ্গেও আমি রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছি। দেশ স্বাধীন হয়েছিল বলেই আজ অভিনেতা হতে পেরেছি। এর আগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছি। এবার ভূষিত হয়েছি একুশে পদকে। আমার কাছে এ পুরস্কারের ব্যাপ্তি আকাশের চেয়েও বড়। এ অর্জনের জন্য পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞ। এ স্বীকৃতির জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অশেষ ধন্যবাদ জানাই। যদিও তার হাত থেকে সরাসরি পদক পাওয়া হয়নি কভিডের জন্য।
দায়বদ্ধতা...
আমি স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসি। অভিনয় জীবনের শুরু থেকে প্রতিনিয়ত ভালো অভিনয়ের স্বপ্ন দেখতাম। এখন রাষ্ট্রীয় এ সম্মানে সে স্বপ্ন আরও প্রস্ফুটিত হলো। শিল্প সাধনার প্রথম দিন থেকে দায়বদ্ধতা নিয়ে অভিনয় করে চলেছি। তবে হ্যাঁ, এ পদক অবশ্যই আমাকে নতুনভাবে প্রাণিত করেছে। আগামীতে নতুন উদ্যমে ভক্তদের আরও নান্দনিক অভিনয় উপহার দিতে চাই।
অভিনয়ে ব্যস্ততা...
অভিনয়ের বাইরে অন্য কোনো কাজ করা হয় না। অভিনয় নিয়েই ব্যস্ত। নাটকে অভিনয় করতে দেখা যায়নি; কারণ করোনার আগে দীপংকর দীপনের ‘অপারেশন সুন্দরবন’ ছবিতে অভিনয় করেছি। সুন্দরবন এবং তার আশপাশের বেশ কিছু জায়গায় ছবির শ্যুটিং হয়েছিল। এরপর করোনা চলে এলো। বাসা থেকে একদমই বের হয়নি। করোনার প্রকোপ কমায় কাজ শুরু করেছি। এখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বায়োপিক ‘বঙ্গবন্ধু’তে অভিনয় করছি। এই ছবিতে আমাকে দেখা যাবে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর চরিত্রে। এই ছবির কাজে কিছুদিন আগে মুম্বাই গিয়েছিলাম। মাত্র এক দিন শ্যুটিং করেছি, শিগগিরই যাব বাকি কাজের জন্য। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও মঞ্চে কাজ করা হয়ে ওঠেনি। আবার কবে মঞ্চে উঠতে পারব, সেটিও নিশ্চিত বলতে পারছি না।
অপ্রাপ্তি...
পৃথিবীতে কোনো মানুষ পূর্ণ নয়। আমি তো অভিনেতাই হতে চাইনি। জোর করে আমাকে অভিনেতা বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এ জীবন নিয়ে কোনো অপ্রাপ্তি নেই। একটি অতৃপ্তি আছে। একটি ভালো অভিনয়ের অপেক্ষায় আছি। তাই অভিনয়ে মগ্ন থেকে সেই ভালো অভিনয়ের জন্য প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে চলছি।