শহীদ মিনারে জুতা পায়ে দুই আ.লীগ নেতা

মহান একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে জুতা পায়ে উঠলেন মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক। উপজেলার রাজদিয়া অভয় পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার বেদিতে জুতা পায়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন ওই আওয়ামী লীগ নেতা ও উপজেলার বালুচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের আরও বেশ কয়েক নেতাকর্মীকেও জুতা পায়ে শহীদ মিনারের বেদিতে দেখা গেছে।

এদিকে, ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে উপজেলার ওই বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন। এ আয়োজনে উপজেলা প্রশাসন, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্তাব্যক্তি ও রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ওই শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। আর সেই শহীদ মিনারের বেদিতে  উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতার জুতা পায়ে ওঠার ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার ঝড় বইছে উপজেলা জুড়ে। মুক্তিযোদ্ধা ও সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

তবে এ ঘটনায় নিজের ভুল স্বীকার করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা না থাকলে এত রাতে শহীদ মিনারে যেতাম না। গভীর শ্রদ্ধাবোধ থেকেই শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করতে গিয়েছিলাম। যারা ঘটনাটি নিয়ে সমালোচনা করছেন তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থেকে এটি করছেন। তারা যদি আমার ভালো চাইতেন, তবে আমাকে শোধরানোর সুযোগ দিতেন।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফয়েজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, এমন ঘটনা আমার দৃষ্টিগোচর হয়নি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও দেখিনি। তবে এমন ঘটনা অপ্রত্যাশিত। এটি কাম্য নয়।

সিংড়ায় জুতা পরেই শহীদ মিনারে আ.লীগ নেতা :  নাটোরের সিংড়ায় জুতা পরে শহীদ বেদিতে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে অশ্রদ্ধা করেছে উপজেলার বিষ্ণুপুর ইতালি মডেল হাই স্কুলের শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটি।

রবিবার সকালে বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে জুতা পরেই ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে যান বিষ্ণুপুর ইতালি মডেল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এবং ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ আব্দুল আজিজ (জাকির)। পরে শহীদ বেদিদে জুতা পরে শ্রদ্ধা জানানোর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এমন ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সচেতন মহল শিক্ষক এবং ম্যানেজিং কমিটির বিচার দাবি করেছে।