বিশ্বে এই মাসে সংক্রমণ নেমেছে অর্ধেকে

বিশ্বজুড়ে চলছে করোনা টিকাকরণ কর্মসূচি। খুব বেশি না হলেও মিলতে শুরু করেছে তার ফল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ করোনা মহামারীর হিসাব রাখা অন্যান্য সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের তথ্য বলছে, গেল প্রায় ৬ সপ্তাহ ধরেই বিশ্বে সংক্রমণ নিম্নমুখী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই পূর্ববর্তী সপ্তাহগুলোর তুলনায় ১৫ থেকে ১৭ শতাংশ হারে কম রোগী শনাক্ত হয়েছে। মৃত্যু আর আরোগ্যে খুব তারতম্য না হলেও গত জানুয়ারি মাসের তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে সংক্রমণ নেমে এসেছে প্রায় অর্ধেক।

আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডমিটারসের হিসাবে জানুয়ারি মাসের প্রথম ২২ দিনে বিশ্বে যেখানে ১ কোটি ৬৯ লাখ ৫৭০ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছিল সেখানে চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ২২ দিনে  শনাক্ত হয়েছে মাত্র ৮৭ লাখ ২৫ হাজার ৫০২ জন। সংস্থাটির হিসাবে গত ৩১ ডিসেম্বর অবধি বিশ্বে শনাক্ত হওয়া মোট করোনা রোগীর সংখ্যা ছিল ৮ কোটি ১৮ লাখ ৩৩ হাজার ৯৫২ জন। ২২ জানুয়ারি সেই সংখ্যা পৌঁছায়  ৯ কোটি ৮৭ লাখ ৩৪ হাজার ৫২২ জনে। অন্যদিকে জানুয়ারির ৩১ তারিখে যেখানে শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ১০ কোটি ৩৫ লাখ ২৯ হাজার ৯৫৭ জন ছিল, সেখানে ২২ ফেব্রুয়ারি সেই সংখ্যা পৌঁছায় ১১ কোটি ২২ লাখ ৫৫ হাজার ৪৫৯ জনে। 

আলোচ্য সময়ে মৃত্যুও কিছুটা কম হয়েছে। জানুয়ারির প্রথম ২২ দিনে যেখানে ২ লাখ ৮৯ হাজার ৩৩০ জন মানুষের মৃত্যু হয়, সেখানে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ২২ দিনে মারা গেছে ২ লাখ ৪০ হাজার ১৭৮ জন। ওয়ার্ল্ডমিটারসের হিসাবে গত ৩১ ডিসেম্বর অবধি বিশ্বে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছিল ১৮ লাখ ৩২ হাজার ৭২২ জনের। ২২ জানুয়ারি সেই সংখ্যা পৌঁছায় ২১ লাখ ২২ হাজার ৫২ জনে। অন্যদিকে জানুয়ারির ৩১ তারিখে যেখানে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ২২ লাখ ৪৪ হাজার ৭৭৩ জন, সেখানে ২২ ফেব্রুয়ারি সেই সংখ্যা পৌঁছায় ২৪ লাখ ৮৪ হাজার ৯৫১ জনে। 

উল্লিখিত সময়ে আরোগ্যও কিছুটা কমেছে। জানুয়ারির প্রথম ২২ দিনে যেখানে ১ কোটি ৮ লাখ ৫৫ হাজার ৬৫১ জন করোনা থেকে সেরে উঠেছে, সেখানে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ২২ দিনে আরোগ্য লাভ করেছে ১ কোটি ৩ লাখ ৬৩ হাজার ১৫৩ জন। ওয়ার্ল্ডমিটারসের হিসাবে গত ৩১ ডিসেম্বর অবধি বিশ্বে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে আরোগ্য লাভ করেছিল মোট ৬ কোটি ২১ লাখ ৬২ হাজার ৬৭৬ জন। ২২ জানুয়ারি সেই সংখ্যা পৌঁছায় ৭ কোটি ৩০ লাখ ১৮ হাজার ৩২৭ জনে।  অন্যদিকে জানুয়ারির ৩১ তারিখে যেখানে আরোগ্যের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৭৪ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ জন, সেখানে ২২ ফেব্রুয়ারি সেই সংখ্যা পৌঁছায় ৮ কোটি ৭৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬৬৪ জনে। 

এদিকে গত সপ্তাহে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ তথ্য-উপাত্ত ঘেঁটে দেখা যায় আগের পাঁচ সপ্তাহ ধরে সংক্রমণের হারে নিম্নগতি। কমেছে মৃত্যুর হারও। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদিও এখনো বিশ্বের অনেক দেশেই সংক্রমণ বাড়ছে, তারপরও এই প্রবণতা উৎসাহব্যঞ্জক।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে সার্স জাতীয় এই ভাইরাস মানবদেহে বাসা বাঁধার পর দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে দেশে দেশে। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে। পরে ভাইরাসটি নতুন করোনাভাইরাস হিসেবে পরিচিতি পায়, আর এর সংক্রমণের ফলে সৃষ্ট রোগ নাম পায় কভিড-১৯। 

ওয়ার্ল্ডমিটারসের হিসাবে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত বিশ্বের ২১৯টি দেশ ও অঞ্চলে শনাক্ত হওয়া মোট করোনা রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছে ১১ কোটি ২৩ লাখ ৩৬ হাজার ১৫৭ জনে। এই সময় পর্যন্ত মারা গেছে ২৪ লাখ ৮৭ হাজার ২৩৬ জন। এই সময়ে আরোগ্য লাভ করেছে ৮ কোটি ৭৮ লাখ ৬৫ হাজার ৫১৭ জন।