দেশে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা কমেছে। গত পরশু এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৮ জনের মৃত্যুর পর গতকাল বুধবার ৫ জন করোনা রোগী মৃত্যুবরণ করেছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গতকালের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করা চারজনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা।
এদিকে গতকাল দেশে নতুন করোনা রোগী শনাক্ত বেড়েছে। এদিন সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪২৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। আগের দিন শনাক্ত হয়েছিলেন ৩৯৯ জন। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এদিন ১৬ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষায় ২ দশমিক ৬৫ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হন। আগের দিনের চেয়ে এদিন পরীক্ষার সংখ্যা বাড়লেও শনাক্তের হার কমেছে।
গতকাল ছিল দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর ৩৫৩তম দিন। অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে ২১৪ পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ২৯টি জিন-এক্সপার্ট, ৬৮টি র্যাপিড অ্যান্টিজেন ও ১১৭টি আরটি-পিসিআর পরীক্ষাগার। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ১৬ হাজার ৪৩৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে পরীক্ষা করা হয় ১৬ হাজার ১৫২ জনের নমুনা।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশে গতকাল পর্যন্ত ৩৯ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৬টি নমুনা পরীক্ষায় ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৫৪৪ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। গড় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৮ হাজার ৩৭৯ জন এবং শেষ ২৪ ঘণ্টায় ৯১১ জনসহ সুস্থ হয়েছেন ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৭৯৮ জন। বাকিরা চিকিৎসাধীন। আক্রান্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার ১ দশমিক ৫৪ এবং সুস্থতার হার ৯০ দশমিক ৬৮ শতাংশ। শেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ চার ও নারী একজন। এ নিয়ে দেশে করোনায় এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৩৩৯ পুরুষ ও ২ হাজার ৪০ জন নারী মৃত্যুবরণ করেছেন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৫ দশমিক ৬৫ ভাগ ও নারী ২৪ দশমিক ৩৫ ভাগ।
শেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করা চারজনই ঢাকা বিভাগের এবং অন্যজন খুলনা বিভাগের। এ নিয়ে করোনায় সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৬৯০ জন মারা গেলেন ঢাকা বিভাগে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১ হাজার ৫২৯, খুলনায় ৫৬০, রাজশাহীতে ৪৭৮, রংপুরে ৩৬৩, সিলেটে ৩১০, বরিশালে ২৫৩ এবং ময়মনসিংহে সর্বনিম্ন ১৯৬ রোগী মারা গেছেন। বয়স অনুযায়ী সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব চারজন এবং ৫১-৬০ বছরের একজন। এদিন সবাই হাসপাতালে মারা গেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪৯ রোগীকে আইসোলেশনে এবং ৪৪৬ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ৯ হাজার ৭৬৯ এবং কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৩১ হাজার ৭৩৪ জন। সারা দেশে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে ১০ হাজার ৩২৩টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিলেন ১ হাজার ৩৩৯টিতে। বাকিগুলো খালি ছিল। এ ছাড়া ৫৮২টি আইসিইউর মধ্যে রোগী ভর্তি ছিলেন ১৫৩টিতে।