জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

‘আতঙ্ক’ নিয়ে মেসে ফিরেছেন শিক্ষার্থীরা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) প্রশাসনের নির্দেশে হল ছেড়েছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। গত মঙ্গলবার রাতের মধ্যেই হল ছেড়ে ক্যাম্পাসের আশপাশের মেস ও বাসাবাড়িতে ওঠেন তারা। তবে ভুক্তভোগীদের দাবি, যেসব শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস সংলগ্ন গেরুয়া এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বা মেসে থাকতেন, তাদের অনেকেই আতঙ্ক নিয়ে ফিরে গেছেন। অনেকে আবার গেরুয়া ছেড়ে অন্যত্র উঠেছেন। এর আগে শিক্ষার্থীরা ছেড়ে যাওয়ার পরপরই হলগুলোর গেটে ফের তালা লাগিয়ে দেয় সংশ্লিষ্টরা।

রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সানিমুল হাসান বলেন, ‘টিউশনির কারণে ক্যাম্পাস বন্ধের এই সময়ে গেরুয়ায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতাম। সংঘর্ষের পর নিরাপত্তাহীনতার কারণে বাসা ছেড়ে হলে উঠেছিলাম। তবে প্রশাসন থেকে বারবার নির্দেশ দেওয়ায় হল ছেড়ে আবারও গেরুয়ায় এসেছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভাপতি মো. মোতাহার হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতের মধ্যেই নয়টি হলে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের চলে যেতে বলে প্রশাসন। পরে হলগুলোতে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে হলের শিক্ষার্থীদের জরুরি জিনিসপত্র নেওয়ার জন্য প্রবেশের ব্যবস্থা করবেন সংশ্লিষ্ট হলের প্রাধ্যক্ষরা।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, ‘নিরাপত্তা নিশ্চিতে গেরুয়ায় পুলিশ মোতায়েন আছে। আমরা পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছি।’

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী গেরুয়ায় স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় ৪০ শিক্ষার্থী আহত হন। এর জেরে নিরাপত্তাহীনতার কথা বলে গত শনিবার হল খোলার দাবি জানান শিক্ষার্থীরা। সেদিন দুপুরে তালা ভেঙে হলে প্রবেশ করেন তারা। এরপর ছাত্রীদের হলে তালা লাগিয়ে দেয় প্রশাসন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬টি আবাসিক হলের মধ্যে ছাত্রদের আটটি হলেই অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। গত সোমবার বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের ছাত্রীরা আবারও তালা ভেঙে হলে ওঠেন। তবে প্রশাসনের নির্দেশে মঙ্গলবার রাতে সবাই আবার হল ছেড়েও দেন।

এদিকে জাবি শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে গতকাল বুধবার কোনো কর্মসূচি পালন করেননি তারা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র সিরাজুল হক বলেন, ‘পারিবারিক কাজে ব্যস্ত থাকায় অন্যদের সঙ্গে আমার যোগাযোগ নেই। তাই এ বিষয়ে আমি কিছুই বলতে চাচ্ছি না।’