ভোটে কারচুপির অভিযোগ

সিইসি-মেয়রসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে শাহাদাতের মামলা

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে ফলাফলের গেজেট বাতিল ও পুনর্নির্বাচন চেয়ে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন পরাজিত মেয়রপ্রার্থী চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন।

গতকাল বুধবার সকালে ট্রাইব্যুনালের দায়িত্বে থাকা চট্টগ্রাম যুগ্ম জেলা জজ খাইরুল আমিনের আদালতে এ মামলা করেন তিনি। আদালতে ডা. শাহাদাত হোসেনের পক্ষে মামলাটি রুজু করেন বার কাউন্সিলের সদস্য দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী ও আরশাদ হোসেন। মামলায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা, চসিকের নবনির্বাচিত মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী, সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার, নির্বাচন কমিশনের সচিব এবং মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী আবুল মনজুর, এমএ মতিন, খোকন চৌধুরী, মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ ও মোহাম্মদ জান্নাতুল ইসলামকে বিবাদী করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে নির্বাচনের আগে এবং ভোটের দিনের নানা অনিয়ম তুলে ধরে বলা হয়, গত ২৭ জানুয়ারি চসিকে পূর্বপরিকল্পিত তামাশার নির্বাচন হয়েছে। এটি ছিল ক্ষমতাসীন দলের মেয়রপ্রার্থীকে নির্বাচিত ঘোষণা করার কৃত্রিম আনুষ্ঠানিকতা। ইভিএমে ভোটগ্রহণ করা হলেও মেয়রপ্রার্থী ডা. শাহাদাত কিংবা তার অনুমোদিত প্রতিনিধিদের কাছে ফলাফলের ইভিএমের প্রিন্টেড কপি দেওয়া হয়নি। গত ৩১ জানুয়ারি রিটার্নিং অফিসারের কাছে ৭৩৩টি কেন্দ্রের ফলাফলের প্রিন্টেড কপি ও প্রতিঘণ্টায় ভোটগ্রহণের চিত্র সরবরাহের লিখিত আবেদন করা হলেও তা দেওয়া হয়নি। অন্যায় ও বেআইনিভাবে রেজাউল করিম চৌধুরীকে মেয়র নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ডা. শাহাদাত হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নির্বাচনে মোট ৪৮৮৫টি বুথে ইভিএমে ভোটগ্রহণ করা হলেও মাত্র ২০টি বুথের প্রিন্টেড ফল এবং বাকিগুলোর হাতে লেখা ফল প্রকাশ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ২২টি কেন্দ্রে আমাকে শূন্যভোট এবং ১৭৮টি কেন্দ্রে ১০টির কম ভোট দেখিয়েছে, যা সম্পূর্ণ অবাস্তব ও জালিয়াতির জ্বলন্ত নমুনা। এসবের প্রতিকার চেয়ে আমি আদালতে মামলা করেছি।’

তিনি দাবি করেন, ‘নির্বাচনে ভোটের দিন দুপুর ২টা পর্যন্ত ৪-৬ শতাংশ ভোট পড়েছে। অথচ দিন শেষে দেখানো হয় সাড়ে ২২ শতাংশ। নির্বাচনের দিনের প্রতিঘণ্টার ভোটের হিসাব দেখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ইভিএমে ভোট হলেও ফলাফলে সনাতন পদ্ধতির চেয়ে বেশি সময় লাগা রহস্যজনক। এলাকা ভেদে ভোটের ব্যবধানও ছিল অস্বাভাবিক। কোনো কেন্দ্রে প্রাপ্ত ভোট ১ শতাংশ; আবার কোনো কেন্দ্রে ৯৪ শতাংশ। একই ভবনে দুটি কেন্দ্রের একটিতে ৮৪; অন্যটিতে মাত্র ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ ভোট দেখানো হয়েছে।’