স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে আগামী ৩০ মার্চ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘সুবর্ণজয়ন্তী’ মহাসমাবেশসহ মার্চ মাসে ১৯ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। পহেলা মার্চ উদ্বোধন করা হবে বছরব্যাপী কর্মসূচির। গতকাল বুধবার গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এদিকে বিকেলে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল পুলিশ সদর দপ্তরে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে পালনে পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়। জবাবে বিএনপি নেতাদের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ^াস দিয়েছেন আইজিপি। সন্ধ্যায় পুলিশের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আইজিপি প্রতিটি কর্মসূচি এবং অনুষ্ঠানস্থলের জন্য পৃথক পৃথকভাবে ঢাকায় ও ঢাকার বাইরে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়ার পরামর্শ দেন। অনুমোদিত হলে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় ইনডোরে অনুষ্ঠান আয়োজন এবং চলমান করোনাভাইরাস মোকাবিলায় যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের অনুরোধ জানান।
গুলশানে সংবাদ সম্মেলনে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও গুরুত্বের সঙ্গে দলমত নির্বিশেষ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতা জনগণের প্রস্ফুটিত স্বাধীনতা, এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা, এদেশের জনগণের জন্য জনগণের স্বার্থে এই স্বাধীনতা। তাই আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সবাই উদযাপন করতে চাই। এসব অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা এবং সুষ্ঠুভাবে যাতে করতে পারি সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারের কাছে সহযোগিতা চাওয়া হবে।’
সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে বিএনপি সারা বছরের কর্মসূচি প্রণয়ন করেছে। গতকাল মার্চ মাসের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতি মাস শেষ হওয়ার আগে পরবর্তী মাসের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। মার্চ মাসের ঘোষিত কর্মসূচিসমূহ হচ্ছেÑ ১ মার্চ সুবর্ণজয়ন্তীর কর্মসূচির উদ্বোধন, ২ মার্চ ‘ছাত্র সমাজ কর্তৃক স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন’ শীর্ষক আলোচনা সভা, ৩ মার্চ ‘ছাত্র সমাজ কর্তৃক স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ’ শীর্ষক আলোচনা সভা, ৭ মার্চ আলোচনা সভা, ৮ মার্চ বিশ্ব নারী দিবস পালন, ৯ মার্চ সেমিনার, ১০ মার্চ রচনা প্রতিযোগিতা, ১৩ মার্চ বছরব্যাপী রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন, ১৫ মার্চ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, ২০ মার্চ আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বিষয়ক সেমিনার, ২২ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধ, জেড ফোর্স এবং বীরউত্তম জিয়াউর রহমান শীর্ষক সেমিনার, ২৩ মার্চ জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য মেলা, ২৪ মার্চ নির্বাচিত বিএনপি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে স্বৈরাচারী এরশাদের জোরপূর্বক ক্ষমতা দখল শীর্ষক সেমিনার, ২৫ মার্চ কালরাত্রি শীর্ষক আলোচনা সভা, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শেরে বাংলা নগরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, রক্তদান কর্মসূচি, সারা দেশে র্যালি, ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে গমন ও বগুড়ায় বাগবাড়ি গমন এবং দুই জায়গায় আলোচনা সভা, ২৮ মার্চ মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা, ৩০ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সুবর্ণজয়ন্তী মহাসমাবেশ ও ৩১ মার্চ মুক্তিযুদ্ধের বইমেলা ও চিত্রাঙ্কন প্রদর্শনীর উদ্বোধন।