কানাডা থেকে কেনা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ড্যাশ-৮ মডেলের দ্বিতীয় উড়োজাহাজ ‘আকাশতরী’ দেশে এসেছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটি অবতরণ করে। এর আগে মঙ্গলবার কানাডার বিখ্যাত উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ডি হ্যাভিল্যান্ড বোম্বার্ডিয়ার অ্যারোস্পেস থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দেয় উড়োজাহাজটি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ‘আকাশতরী’ বিমানবন্দরের রানওয়ে স্পর্শ করে। ধীরলয়ে এটি সামনের টারমার্কে পৌঁছার সময় দুপাশ থেকে ওয়াটার ক্যানন স্যালুট দেওয়া হয়। উপস্থিত আমন্ত্রিত অতিথিরা করতালি দিয়ে স্বাগত জানান এ উড়োজাহাজটিকে। এ সময় বিমান প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী, বিমান সচিব মো. মোকাম্মল হোসেন, বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান, বিমান চেয়ারম্যান সাজ্জাদুল হাসান ও এমডি মো. মোকাব্বির হোসেনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরকে আধুনিকায়ন করার জন্য কাজ করছেন। তার অংশ হিসেবেই নতুন উড়োজাহাজ ‘আকাশ তরী’ আজ (গতকাল) দেশে এসেছে। আগামী ৪ মার্চ তৃতীয় ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজটি দেশে এসে পৌঁছবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে ইতিমধ্যেই বিমানের বহরে সম্পূর্ণ নতুন ও অত্যাধুনিক ১৩টি নিজস্ব উড়োজাহাজ যুক্ত হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে এই ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজগুলো যুক্ত হওয়ার ফলে বিমান তার অভ্যন্তরীণ ও স্বল্প দূরত্বের আন্তর্জাতিক রুটগুলোতে ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্সি বৃদ্ধি করবে। একই সঙ্গে যাত্রীদের আরও উন্নত ইন-ফ্লাইট সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে।
বিমানের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, কানাডার বিখ্যাত এয়ারক্রাফট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ডি হ্যাভিল্যান্ড নির্মিত অত্যাধুনিক নতুন ড্যাশ ৮-৪০০ ৭৪টি সিট সংবলিত উড়োজাহাজ। পরিবেশবান্ধব এবং অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সমৃদ্ধ এ উড়োজাহাজে রয়েছে হেপা ফিল্টার প্রযুক্তি যা মাত্র ৪ মিনিটেই ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাসসহ অন্যান্য জীবাণু ধ্বংসের মাধ্যমে উড়োজাহাজের অভ্যন্তরের বাতাসকে সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ করে যা সম্মানিত যাত্রীদের যাত্রাকে করে তোলে অধিক সতেজ ও নিরাপদ। এছাড়াও এ উড়োজাহাজে বেশি লেগস্পেস, এলইডি লাইটিং এবং প্রশস্ত জানালা থাকার কারণে ভ্রমণ হয়ে উঠবে অধিক আরামদায়ক ও আনন্দময়।
তিনি আরও বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের নতুন উড়োজাহাজটি বহরে যুক্ত হওয়ার পর উড়োজাহাজের সংখ্যা হবে ২০টি। তার মধ্যে ১৫টি নিজস্ব এবং ৫টি লিজ। নিজস্ব ১৫টির মধ্যে বোয়িং৭৭৭-৩০০ ইআর চারটি, বোয়িং ৭৮৭-৮ চারটি, বোয়িং ৭৮৭-৯ দুটি, বোয়িং ৭৩৭ দুটি এবং ড্যাশ-৮ তিনটি। বাংলাদেশ ও কানাডা সরকারের মধ্যে জিটুজি ভিত্তিতে কেনা তিনটি ড্যাশ-৮ প্লেনের দ্বিতীয় উড়োজাহাজ এটি। ‘আকাশতরী’ ও ‘ধ্রুবতারা’ দিয়ে নিয়মিত দেশের অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। এতে বাণিজ্যিকভাবে বিমান অন্যান্য এয়ারলাইনসের তুলনায় বেশ সফলতা পাবে। ৪ মার্চ তৃতীয় উড়োজাহাজটিও দেশে আসার পর আপাতত আর কোনো উড়োজাহাজ বিমানবহরে যোগ হওয়ার পরিকল্পনা নেই।