একটি প্রতিষ্ঠানকে একচ্ছত্রভাবে শিক্ষার্থীদের স্কুলের পোশাক সরবরাহের সুযোগ দেওয়ায় রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজকে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন। প্রতিযোগিতা আইন ২০১২ উপেক্ষা করে স্কুলের শিক্ষার্থীদের পোশাক সরবরাহের কাজ দেওয়ার কারণে কমিশন ভিকারুননিসা কর্র্তৃপক্ষকে মেসার্স চৌধুরী এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করারও নির্দেশ দিয়েছে।
প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরির লক্ষ্যে স্বপ্রণোদিত হয়ে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের করা এক মামলায় গতকাল বুধবার এ রায় দেওয়া হয়। রায়ে ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত একচেটিয়া স্কুলের পোশাক সরবরাহের মেসার্স চৌধুরী এন্টারপ্রাইজকে ৭৯ হাজার ৮৯৭ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এ ছাড়া কমিশন ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের তিনটি ক্যাম্পাসের প্রত্যেকটির শিক্ষার্থীদের পোশাক সরবরাহের জন্য কমপক্ষে তিনটি করে টেইলার্স বাছাই করতে বলেছে। এই বাছাই কার্যক্রমে দর্জির দোকান নির্বাচনের জন্য দুটি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে হবে। এর আগে স্কুলের পোশাক, রং, নকশা, মনোগ্রাম ও দাম সম্পর্কে অভিভাবকদের জানাতে হবে। এরপর মনোনীত পোশাক নির্বাচিত তিনটি দর্জি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে জমা দিতে হবে।
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্র্তৃপক্ষ মেসার্স চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘ সময়ব্যাপী শিক্ষার্থীদের পোশাক তৈরির একচেটিয়া ব্যবসার সুযোগ দিয়েছিল। অভিযোগ ছিলÑ ২০১৮, ২০১৯ এবং ২০২০ সালে ওই টেইলার্স থেকে শিক্ষার্থীদের পোশাক বানানো বাধ্যতামূলক ছিল। অন্য কোনো টেইলার্স থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা পোশাক বানাতে পারবে না, যা প্রতিযোগিতামূলক বাজার সৃষ্টির জন্য অন্তরায় এবং প্রতিযোগিতা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তাই কমিশন স্বপ্রণোদিত হয়ে অভিযোগ করেছিল। বিষয়টি পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করে কমিশন এ রায় দেয়।
কমিশনের কর্মকর্তারা বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে অসম প্রতিযোগিতা কমিয়ে সুশাসন নিশ্চিত করা এই কমিশনের কাজ। ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অসমতাবিষয়ক অভিযোগ এলে কমিশন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। এ-সংক্রান্ত বিষয়ে মানুষের আরও সচেতন হওয়া দরকার।
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মামলার আদেশে বলা হয়েছে, এই মামলায় স্কুল কর্র্তৃপক্ষ ও মেসার্স চৌধুরী এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। প্রতিযোগিতা আইনের ধারা ১৫-এর উপধারা ১-এর বিধান লংঘিত হয়েছে।
রায়ে শিক্ষার্থীদের পোশাকের কাপড়, রং, ডিজাইন, মনোগ্রাম, অভিন্ন রাখার উদ্দেশ্যে অভিভাবকদের জানিয়ে নির্ধারিত পোশাকের একটি নমুনা নির্বাচিত দর্জির দোকান বা প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করার কথা বলা হয়েছে।
প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপারসন মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগ ছিল ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের পোশাক একটি প্রতিষ্ঠান থেকে বানাতে হতো। এটি প্রতিযোগিতামূলক করতে রায় দেওয়া হয়েছে। অভিভাবকরা যাতে তাদের ইচ্ছেমতো প্রতিষ্ঠান বা জায়গা থেকে পোশাক তৈরি করতে পারেন, সে জন্য এই রায় দেওয়া হয়েছে।
তবে মেসার্স চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ কর্র্তৃপক্ষের ভাষ্য, ভিকারুননিসার শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিবছর ১২ থেকে ১৩ হাজার পোশাক বানাতে হয়। প্রতিষ্ঠানটির কারখানা পুরান ঢাকার পাটুয়াটুলীতে। তবে কোনো কার্যালয় নেই। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির জন্য ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ১২০০ টাকা এবং উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের পোশাকের দাম ১৪০০ টাকা রাখা হয়।
মেসার্স চৌধুরী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. ইব্রাহিম মোল্লার দাবি, ২০০৩ খ্রিস্টাব্দের পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে দরপত্রের মাধ্যমে তিনি ভিকারুননিসা স্কুলের পোশাক তৈরির কাজ পান। এরপর আর দরপত্র হয়নি। তবে তিনি এই কাজ প্রতিবছর পাচ্ছিলেন।