লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে পৌরসভা নির্বাচনে ‘ফ্রি স্টাইলে’ চলছে আচরণবিধি লঙ্ঘন। কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছেন না প্রার্থী ও সমর্থকগণ। প্রার্থীদের গণসংযোগ থেকে মাইকিং সর্ব ক্ষেত্রেই আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে অহরহ।
এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সংশ্লিষ্টরা অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েছেন। প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় আচরণবিধি লঙ্ঘনে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরা যেন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তবে কোন কোন প্রার্থীর দাবি আচরণবিধি মেনেই গণসংযোগ চালাচ্ছেন তারা ও কর্মী সমর্থকগণ।
এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার রায়পুর বাসটার্মিনাল এলাকায় আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন রুবেল ভাটের পক্ষে পথসভা করে জেলা যুবলীগ।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা মাইনুল হোসেন নিখিলসহ জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। উক্ত সভার কারণে রায়পুর পৌর শহরে দেখা দেয় তীব্র যানজটের। এ ছাড়া ২৫টির অধিক মাইকের শব্দে স্থানীয় এলাকাবাসী হাঁপিয়ে ওঠেন।
বৃহস্পতিবার একই স্থানে পৌর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আবারও পথসভার মঞ্চ প্রস্তুতি চলাকালীন সময়ে নির্বাচন কমিশনার সভার কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করেন।
একই সময় নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আক্তার জাহান সাথী ও রিপা মণি দেবী আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে নৌকার মনোনীত মেয়র প্রার্থী রুবেল ভাটের ৫০ হাজার টাকা ও তিন কাউন্সিলর প্রার্থীকে ত্রিশ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
সভায় দলের চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহাম্মদ হোসেনসহ কেন্দ্রীয় ও জেলা, উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত রায়পুর পৌরসভার মেয়র প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন রুবেল ভাট বলেন, আমরা অত্যন্ত সুষ্ঠু পরিবেশে গণসংযোগ করছি। জনগণও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করছে। নেতা-কর্মী ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটিকে বলে দিয়েছি, তারা নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলেন।
তবে তিনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের কারণে অর্থদণ্ড বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, সব প্রার্থী ও কর্মী সমর্থকগণই আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন।
এ ব্যাপারে জেলা নির্বাচন ও রিটার্নিং কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিন জানান, রায়পুর পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অনিয়ম, আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ বেশ কিছু অভিযোগ করেছে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী এবিএম জিলানী (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মণির আহম্মদসহ দুজন, কয়েকজন সাধারণ ও সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর প্রার্থী।
তিনি আরও জানান, আচরণবিধি প্রতিপালন ভালোভাবেই হচ্ছে। দুই মেয়র ও তিনজন কাউন্সিলর প্রার্থী অভিযোগ করেছেন। আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে, অভিযোগ পাওয়ার পর পরই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আচরণবিধি কঠোরভাবে রক্ষায় ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।