দুবাইয়ের অন্তরীণ রাজকন্যা লতিফা

রাজকীয় জীবন ছেড়ে বন্ধুর সঙ্গে পালানোর সময় ২০১৮ সালে নিখোঁজ হন দুবাইয়ের প্রিন্সেস লতিফা। দীর্ঘদিন পর বন্ধু তার খোঁজ পেলে ভিডিওবার্তার মাধ্যমে নিজের বন্দিজীবনের দুর্দশার কথা জানান তিনি। পরে লতিফার আর কোনো খবর না পাওয়ায় বন্ধু সিদ্ধান্ত নেন গোপনে ধারণ করা ভিডিওগুলো বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরবেন। লিখেছেন মুমিতুল মিম্মা

প্রিন্সেস লতিফা

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল-মাকতুম। ৭১ বয়সী শেখ মোহাম্মদ দুবাইয়ের একজন কোটিপতি শাসকও। তার কন্যা ৩৫ বছর বয়সী শেখ লতিফা বিনতে মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম। শেখের স্ত্রী সংখ্যা ৬ জন এবং ৩০ সন্তানের পিতা তিনি। লতিফার মায়ের নাম হুরিয়াহ আহমেদ আল মাসাহ। ১৯৮৫ সালে এই রাজপরিবারে জন্ম হয় তার। মাকতুমের ২৩ সন্তানের মধ্যে হুরিয়ার ঘরে মোট চার সন্তান, যাদের মধ্যে লতিফা তৃতীয়। তিনি দুবাইয়ের রাজকীয় প্রাসাদে বাস করতেন। প্রাসাদের ভেতরে ছিল সুইমিং পুল, স্পা, অ্যাথলেটিক কম্পাউন্ডসহ ভোগবিলাসের বিপুল আয়োজন। রাজপরিবারের সন্তান হলেও প্রিন্সেস লতিফা সারা জীবন স্বাধীনতা চেয়েছেন। রাজপ্রাসাদে নিয়মের বেড়াজালে বন্দি থেকে মাত্র ১৬ বছর বয়সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন পালিয়ে যাওয়ার। বিলাসী জীবনে বড় হওয়া লতিফা লেখাপড়া করেছেন ইংরেজি মাধ্যমে। দক্ষ স্কাই ডাইভার হিসেবেও লতিফার পরিচিতি ছিল। তাকে প্রায়ই দেখা যেত আরব আমিরাতের জাতীয় পতাকা গায়ে জড়িয়ে প্লেন থেকে প্যারাসুট নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন। কিন্তু স্বাধীনচেতা লতিফা নিখোঁজ হওয়ার আগে রেকর্ড করে যাওয়া এক ভিডিওতে জানিয়েছিলেন, এ সবই ছিল লোক দেখানো স্টান্টবাজি। তার বন্দিজীবন শুরু হয়েছিল বড় বোন শামসা ইংল্যান্ডের প্রাসাদ থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে। যদিও শামসা খুব বেশিদিন আড়ালে থাকতে পারেননি। দুই বছরের মধ্যেই তাকে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর লতিফার জীবনে শুরু হয় দুর্দশা।

পালানোর চেষ্টা

বোন পালিয়ে যাওয়ার পর লতিফা ভেবেছিলেন লোক দেখানো আলো ঝলকানো এই দুনিয়া থেকে তাকে আগে বের হতে হবে। মাত্র ১৬ বছর বয়সে সিদ্ধান্ত নেন প্রাসাদ ছেড়ে পালানোর। প্রথমবার এই চেষ্টায় পুরোপুরি ব্যর্থ হন। এরপর প্রায় তিন বছর তাকে সম্পূর্ণ বন্দি অবস্থায় কাটাতে হয়। ২০১১ সালে লতিফা আবারও পালানোর পরিকল্পনা করেন। তবে এবার কাজ শুরু করেন একটু গুছিয়ে। প্রথমেই যোগাযোগ করেন আরব আমিরাতে ব্যবসায়ী পরিচয়ে বাস করা ফরাসি নৌ কর্মকর্তা হার্ভে জুঁবের সঙ্গে। কিন্তু কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে আরব আমিরাত থেকে পালিয়ে যান তিনি। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় লতিফা জুঁবেকে বিশ্বাস করাতে সক্ষম হন যে, তিনি সত্যিই পালাতে চান। জুঁবের পরামর্শে লতিফা পালানোর প্রস্তুতি হিসেবে প্রায় ৪ লাখ ডলারের সমপরিমাণ অর্থ জোগাড় করেন।

২০১৪ সালে লতিফার পালানোর পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত হন ফিনল্যান্ডের নাগরিক টিনা জুহাইনেন। দুবাইয়ে মার্শাল আর্ট শেখাতে এসে তিনি হয়ে ওঠেন লতিফার সার্বক্ষণিক সঙ্গী। টিনাই লতিফাকে সাঁতার, স্কুবা ডাইভিং, জেট স্কি চালনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন। অবশেষে ২০১৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঘনিয়ে আসে লতিফার পালিয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত মুহূর্ত। পালানোর এই পরিকল্পনায় পাসপোর্ট বানাননি লতিফা। কারণ তিনি সরকারি নজরদারিতে ছিলেন। ফ্লাইটে চড়ে পালালে ধরা পড়তে খুব বেশি সময় লাগবে না। তাই দুবাই থেকে সরে গিয়ে ওমান উপকূল দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যান। উপকূলে গাড়ি থামিয়ে ডিঙি এবং জেট স্কি দিয়ে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা থেকে বের হতে অনেক সময় লেগে যায় তাদের। সন্ধ্যা নাগাদ তারা ইয়টে পৌঁছান। স্বাধীনতার হাতছানিতে মুগ্ধ দুই বন্ধুর কাছে ইয়টটি ছিল মুক্তির সনদের মতো।

তাদের দুজনের পরিকল্পনা ছিল ভারত মহাসাগর দিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করবেন। কিন্তু ততক্ষণে আরব আমিরাতের একটি হ্যাকার বাহিনী ফোন ট্র্যাক করে তাদের অবস্থান জেনে যায়। আটদিন পর ভারত মহাসাগর উপকূলের কাছাকাছি এসে তারা জানতে পারলেন তাদের সম্পূর্ণ পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে বসেছে। কারণ ততক্ষণে তাদের ইয়টে চেপে বসেছে সশস্ত্র বাহিনীর কয়েকজন ব্যক্তি। দুই বান্ধবী বুঝতে পারলেন যে মুক্তির স্বাদ পেতে তারা বের হয়েছিলেন সেই মুক্তি আর অল্প সময়ের মধ্যেই হারিয়ে যাচ্ছে। তাদের আটক করার জন্যই এত আয়োজন করা হয়েছে। শেষবারের মতো নিজেদের বাঁচাতে বাথরুমে ঘাপটি মেরে বসে রইলেন দুজন। তবে এতে শেষ নিস্তার মেলেনি দুজনের। স্মোক গ্রেনেড চার্জ করে জোর করেই তাদের বের করে আনা হয়। ৪ মার্চ ভারতের গোয়া সমুদ্রবন্দর থেকে ৩০ মাইল দূরে থাকা অবস্থায় ভারতীয় কোস্টগার্ড তাদের ঘিরে ফেলে এবং ইয়টকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই হেলিকপ্টারে করে সেখানে পৌঁছে বেশ কয়েকজন আমিরাতি সৈন্য। পরে ভারতীয় কোস্টগার্ডের সহায়তায় লতিফা, টিনা, জুঁবে এবং অন্য ক্রুদের ইয়টে করেই আমিরাতের নেভাল বেইজ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাটি এতটাই গোপন ছিল যে, পাঁচ দিন পর ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড ডেইলি মেইল তাদের অপহরণের সংবাদটি প্রকাশ করে।

অপহরণের পর

২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসের পর থেকে লতিফা নয় মাস নিখোঁজ ছিলেন। এই ঘটনার পর আরব আমিরাতকে প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়তে হয়। বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যম অপহরণ প্রসঙ্গে ধারাবাহিক অনুসন্ধান ও প্রতিবেদন প্রকাশ শুরু করলে আরব আমিরাত কর্র্তৃপক্ষ একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রিন্সেস লতিফা ও প্রিন্সেস শামসা দুজনই তাদের পরিবারের সঙ্গে অবস্থান করছেন এবং তারা ভালো আছেন। ফরাসি গোয়েন্দা হার্ভে জুঁবে এবং তার সহযোগীরা চক্রান্ত করে লতিফাকে অপহরণ করে ১০০ মিলিয়ন ডলার মুক্তিপণ দাবি করেছিল। দুবাই কর্র্তৃপক্ষকে লতিফা জীবিত আছেন কি না সেই প্রমাণ দেখানোর অনুরোধ করে জাতিসংঘ। অন্যথায় প্রিন্সেস মারা গেছেন এই খবর প্রকাশিত হবে। লতিফাকে দেখতে গিয়েছিলেন তার সৎমা প্রিন্সেস হায়া। পরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য লতিফার সৎমা প্রিন্সেস হায়ার আমন্ত্রণে আয়ারল্যান্ডের সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার সাবেক হাইকমিশনার ম্যারি রবিনসন দুবাই সফর করেন। সফর থেকে ফিরে রবিনসন দাবি করেন, প্রিন্সেস লতিফা মূলত মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। কিন্তু এখন তিনি নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণ করছেন এবং সুস্থ হয়ে উঠছেন।

সে সময় আরব আমিরাত কর্র্তৃপক্ষ তিনটি ছবি প্রকাশ করে, যেখানে প্রিন্সেস লতিফাকে ম্যারি রবিনসনের পাশে ডাইনিং টেবিলে বসে থাকতে দেখা যায়। টেবিলে লতিফার মলিন মুখ গণমাধ্যমের নজর এড়ায়নি। মানবাধিকার সংস্থাগুলো দাবি করে, লতিফাকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে অপহরণ করা হয়েছে। ওই ঘটনায় দুবাইয়ের ভাবমূর্তি রক্ষায় প্রিন্সেস হায়া তখন আইরিশ প্রেসিডেন্ট ম্যারি রবিনসনের সঙ্গে কাজ করেছিলেন। এরপর প্রিন্সেস হায়া লতিফাকে অপহরণ বিষয়ে গোপন কিছু তথ্য জানতে পারেন এমন সন্দেহে চাপ আসতে থাকে শাইখের পরিবার থেকে। ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে তিনি বুঝতে পারেন তিনি দুবাইয়ে নিরাপদ নন। একপর্যায়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করলে ১৫ এপ্রিল তিনি লন্ডনে পালিয়ে যান।

‘ফ্রি লতিফা’ ক্যাম্পেইন

লতিফাকে নিয়ে যাওয়ার পরে টিনাকে আরব আমিরাতের সেই জাহাজ কর্র্তৃপক্ষের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে তিনি দুই সপ্তাহের মতো আটক ছিলেন। মুক্তি পাওয়ার পরে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কাছে সেই সময়ের পুরো ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি লতিফার জন্য ‘ফ্রি লতিফা’ নামের একটি ক্যাম্পেইন চালু করেন। তিনি চেয়েছিলেন বিষয়টি জাতিসংঘের নজরে আসুক। কিন্তু এত চেষ্টার পরও লতিফার বিষয়ে তেমন কিছু জানতে পারছিলেন না তিনি। দীর্ঘদিন তার এ চেষ্টা আলোর মুখ দেখে ২০১৯ সালে। টিনা তখন ফিনল্যান্ডে ফিরেছেন তার পরিবারের কাছে। হুট করেই তিনি অচেনা এক মানুষের কাছ থেকে একটি বার্তা পান। বার্তাটিতে প্রথমে কিছু নিরাপত্তাজনিত প্রশ্ন ছিল। তিনি সেগুলোর উত্তর দিয়ে যান। টিনা লতিফাকে ব্রাজিলিয়ান মার্শাল আর্ট ক্যাপুয়াইরা শিখিয়েছিলেন। বার্তা চালাচালির এক পর্যায়ে অচেনা মানুষটি শর্ত আরোপ করল যদি সে প্রিন্সেস লতিফার ক্যাপুয়াইরার ডাকনামটি বলতে পারে তবেই তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ মিলবে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর সুযোগ আসে লতিফার সঙ্গে কথা বলার। দুজনেই কথা বলার সময় বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।

ভিডিওবার্তা ও পরবর্তী অবস্থা

গোপনে সংগ্রহ করা একটি ফোন দিয়ে ভিডিও ধারণ করে বন্ধু টিনাকে বন্দি জীবনের অবস্থা জানান লতিফা। ভিডিওতে তার চোখেমুখে ছিল তীব্র আতঙ্ক। ‘আমি বাথরুমে বসে এই ভিডিও করছি। কারণ একমাত্র বাথরুমের দরজায় তালা মারার অনুমতি রয়েছে আমার। আমি মুক্ত নই। এখানে আমাকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে। বন্দি দাসীর জীবন কাটছে আমার। জীবনের কোনোকিছুই এখন আর আমার নিয়ন্ত্রণে নেই। আমাকে একটি বাগানবাড়িতে রাখা হয়েছে। মূলত সেটিকে কারাগারের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ঘরের সমস্ত জানালা বন্ধ করে রাখা হয়েছে। বদ্ধ ও গুমোট এক ঘরে তাকে তিন বছর ধরে বন্দি জীবন কাটাতে হচ্ছে। একরত্তি সূর্যের আলো প্রবেশের ব্যবস্থা নেই ঘরটিতে। পাঁচজন পুলিশ ঘরের বাইরে দাঁড়ানো এবং দুজন নারী পুলিশ ঘরের ভেতরে অবস্থান করছেন। নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্যও আমার বাইরে বের হওয়ার অনুমতি নেই। প্রতিদিন আমি আমার নিরাপত্তা ও জীবন নিয়ে ভয়ের মাঝে থাকি। আমি জানি না এই পরিস্থিতির মধ্যে আমি টিকে থাকতে পারব কি না। পুলিশ আমাকে হুমকি দিয়েছে সারা জীবন আমাকে এখানে আটকে রাখবে। জীবনেও আমি সূর্যের আলো দেখতে পাব না। আমি এখানে মোটেই নিরাপদ নই। আমার খুব সহজ একটি প্রশ্নের জবাব প্রয়োজন ছিল। সেই জবাব আমি পেয়ে গিয়েছি। আমি মুক্ত নই। আমার জন্য কে কী করছে তা নিয়ে আমার আর কোনো মাথাব্যথা নেই।’

টিনা ও তার মামাত ভাই মারকাস ও ফ্রি লতিফা ক্যাম্পেইনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ডেভিড হাইয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন লতিফা। মারকাস বলেন, ‘ওর ফোনকল এলেই মনে হয় মেয়েটা বেঁচে আছে। প্রতিদিন তার কাছে একেকটি যুদ্ধ। তার কণ্ঠে ক্লান্তি টের পাওয়া যায়। তার শরীরও ভালো যাচ্ছে না।’ এরপর একদিন হুট করেই লতিফার কাছ থেকে ফোন আসা বন্ধ হয়ে যায়। কয়েক মাস পর টিনা, ডেভিড ও মারকাস সিদ্ধান্ত নেন লতিফার ভিডিওগুলো প্রকাশ করা উচিত। ভিডিও প্রকাশিত হলে আন্তর্জাতিক চাপে শাইখ তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হবে। ‘আমরা সিদ্ধান্তটাকে হালকা করে দেখিনি। বহু নির্ঘুম রাত কেটেছে সিদ্ধান্তটা নিতে গিয়ে। যখন বুঝলাম আমাদের হাল ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়, তার জন্য যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া উচিত তখনই ভিডিওগুলো প্রকাশ করলাম।’ কিন্তু ভিডিও বার্তা প্রকাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুবাই সরকার জানায় লতিফা তার পরিবারের সঙ্গে আনন্দে আছেন, নিরাপদ আছেন।

এই খবরে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কিত বোধ করছেন টিনা। ‘ধারণা করছি তার ফোনে হয়তো সমস্যা হয়েছে যার কারণে সে যোগাযোগ করতে পারছে না। আমি এখনো আশা করি সে আবার ফিরে আসবে। কোনো খারাপ কিছু ভাবতে চাই না। আমরা ভীষণ চিন্তিত তার বিষয়ে। বুঝতে পারছি এতকিছুর পর হয়তো তার ফোনটিও নিয়ে নেওয়া হয়েছে। অথবা পরিস্থিতি এর চাইতেও খারাপ যা আমরা বুঝতেও পারছি না।’ লতিফাকে নিয়ে এখনো আর কোনো খবর আসেনি। তাকে কোনো জনসম্মুখে দেখা যায়নি এমনকি দুবাই সরকারও তাকে নিয়ে কোনো কথা বলেনি। কী ঘটেছে এই প্রিন্সেসের ভাগ্যে তা কেউ জানে না।

জাতিসংঘের সংশ্লিষ্টতা

প্রিন্সেস লতিফার কোনো খবর না পাওয়ায় এতদিন পর মুখ খুলেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে আরব আমিরাত কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে তারা কথা বলবে। মূলত গোপনে রেকর্ড করা ওই ফুটেজগুলো প্রকাশিত হওয়ার পর লতিফার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে জাতিসংঘের ওপর চাপ বাড়তে থাকে। পরে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের কার্যালয় তার সঙ্গে কথা বলা হবে এ বিষয়ে ইঙ্গিত দেয়। ভিডিওগুলো দেখে জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপ অন আরবিট্রারি ডিটেনশন এ সংক্রান্ত একটি তদন্ত শুরু করতে পারে বলে জানিয়েছেন একজন মুখপাত্র। জাতিসংঘ নিখোঁজ লতিফার খবর কত দ্রুত বিশ্ববাসীকে জানাতে পারে সেটাই এখন দেখার বিষয়।