অর্থ পাচার মামলায় ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ইমতিয়াজ হাসান রুবেলের ৫ হাজার ৭০৬ বিঘা জমি ক্রোকের আদেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে ওই দুই ভাইসহ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনের ৮৮টি ব্যাংক হিসাবে থাকা প্রায় ১০ কোটি টাকা ওই দুই ভায়ের মালিকানাধীন ৫৫টি বাস, ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ি ক্রোক করারও আদেশ দিয়েছে আদালত। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ এ আদেশ দেন। এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উত্তম বিশ্বাস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আদালতের এ আদেশের ব্যাপারে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, সিআইডি দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সময় অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে ৫৫টি বাস, ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ি জব্দ করে জেলার পুলিশের জিম্মায় দিয়ে যায়।
বরকত ও রুবেলের বিরুদ্ধে সিআইডির পরিদর্শক এস এম মিরাজ আল মাহমুদ বাদী হয়ে গত বছরের ২৬ জুন ঢাকার কাফরুল থানায় অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় ওই দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে দুই হাজার কোটি টাকার সম্পদ অবৈধ উপায়ে উপার্জন ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়। ২০১২ সালের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন সংশোধনী-২০১৫-এর ৪(২) ধারায় এ মামলা করা হয়।
গত বছরের ১৬ মে রাতে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহার বাড়িতে দুই দফা হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গত বছরের ১৮ মে সুবল সাহা অজ্ঞাতনামা আসামি করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন।
গত বছরের ৭ জুন রাতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে জেলা আওয়ামী লীগের বাড়িতে হামলার মামলার আসামি হিসেবে শহরের বদরপুরে আফসানা মঞ্জিলসহ শহরের বিভিন্ন মহল্লায় অভিযান চালিয়ে সাজ্জাদ হোসেন, তার ভাই ইমতিয়াজ হাসানসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে। পরে এ মামলার আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয় ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার নাজমুল ইসলাম, জেলা শ্রমিক লীগের কোষাধ্যক্ষ বিল্লাল হোসেন, শহর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসিবুর রহমান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নিশান মাহমুদকে।