মিয়ানমারের জেনারেলদের ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা

সেনা অভ্যুত্থানে যুক্ত মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তাদের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাজ্য। নতুন এই পদক্ষেপের আওতায় সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং ছাড়াও রয়েছেন সেনা সরকার গঠিত স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কাউন্সিলের আরও পাঁচ সদস্য। এ ছাড়া মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্রিটিশ কোম্পানিগুলো আর ব্যবসা করবে না বলেও জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।

১ ফেব্রুয়ারির অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে প্রতিবাদ-সমাবেশ-বিক্ষোভ চলছে। ওই দিনই অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে তাকে গৃহবন্দি করা হয়। তিন সপ্তাহ ধরে মিয়ানমারের বিভিন্ন শহরে প্রতিদিনই সেনাশাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ-ধর্মঘট চলছে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে গত বৃহস্পতিবারও ইয়াঙ্গুনের রাস্তায় বিক্ষোভের প্রস্তুতি নেয় শিক্ষার্থীরা। তবে বিক্ষোভকারীদের সবাই সমবেত হওয়ার আগেই সেনাবাহিনীর প্রায় এক হাজার সমর্থক সমাবেশ শুরু করে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি গুরুতর রূপ ধারণ করে এবং শহরের বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।

মিয়ানমারে বিক্ষোভের মধ্যে সেনা কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ ছাড়াও দেশটির সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য আবারও পর্যালোচনা করে দেখার ঘোষণা দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আজকের প্যাকেজ পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে মিয়ানমারের সেনা শাসকদের পরিষ্কার বার্তা দেওয়া হয়েছে যে যারা মানবাধিকার লঙ্ঘনে দায়ী, তাদের জবাবদিহি করতে হবে আর মিয়ানমারের জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে সরকারি দায়িত্ব অবশ্যই হস্তান্তর করতে হবে।’

যুক্তরাজ্যের নতুন এই নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে কার্যকর হবে। এর আওতায় পড়া ব্যক্তিরা যুক্তরাজ্য সফরের অনুমতি পাবেন না আর দেশটিতে থাকা তাদের সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত হবে। এ ছাড়া যুক্তরাজ্যের কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাণিজ্যও করতে পারবেন না তারা। এর আগে মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একই ধরনের পদক্ষেপ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নও।