২০২৫ সালের মধ্যে বর্তমানে কর্মক্ষম জনশক্তির প্রায় ৫০ ভাগকেই পুনঃদক্ষ করে তুলতে হবে। এ জন্য দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে বিশ^বিদ্যালয়গুলো ও বেসরকারি খাতকে একযোগে কাজ করা উচিত। বাণিজ্যিকভাবে গ্রহণযোগ্য টেকসই গবেষণা কার্যক্রমে শিল্প খাতকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। এ ধরনের কার্যক্রমে বেসরকারি বিনিয়োগ একান্ত অপরিহার্য।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘শিল্প-শিক্ষা খাতের সমন্বয় : নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত’ শীর্ষক ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। গতকাল শনিবার শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি প্রধান অতিথি এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. কাজী শহীদুল্লাহ বিশেষ অতিথি হিসেবে ওয়েবিনারে যোগদান করেন।
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, বৈশি^ক প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকার জন্য শিক্ষা ও শিল্প খাতের বিদ্যমান মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। একই সঙ্গে নতুন পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিজেদের দক্ষ করে তুলতে হবে। তিনি বলেন, বাণিজ্যিকভাবে গ্রহণযোগ্য টেকসই গবেষণা কার্যক্রমে শিল্প খাতকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। এ ধরনের কার্যক্রমে বেসরকারি বিনিয়োগ একান্ত অপরিহার্য, যার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ শিল্প খাতের প্রয়োজনীয় মাফিক শিক্ষা কারিকুলাম প্রস্তুতের পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে সক্ষম হবে। তিনি দুটি খাতের বিদ্যমান দূরত্ব কমিয়ে আনার ওপর জোরারোপ করেন। শিল্প খাতের দক্ষ মানবসম্পদের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে একটি ম্যাপিং করা খুবই জরুরি। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব আমাদের সামনে নতুন সম্ভাবনার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে এবং এই সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য আমাদের ‘শিক্ষা, শিল্প ও গবেষণা’ ত্রিপক্ষীয় সমন্বয় বাড়ানো একান্ত অপরিহার্য। তিনি দেশের কারিগরি ও প্রযুক্তিভিক্তিক শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন জরুরি।
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের কারণে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অভাবনীয় উন্নতি ও এসডিজিভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের পরিবর্তন বাংলাদেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি সর্বোপরি সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার সূচনা হয়েছে। রিজওয়ান রাহমান বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজারে প্রায় ৬৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন লোক নিয়োজিত রয়েছে। প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ নতুন জনবল শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। প্রথাগত শিক্ষাব্যবস্থায় একজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি লাভের পরও শিল্প খাতে প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাবে চাকরি পেতে বেশ প্রতিকূলতার মুখোমুখি হন। বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ থেকে শিক্ষাজীবন শেষ করার পর প্রায় ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষিত তরুণ কর্মহীন হয়ে পড়েন, যা কিনা শিল্প খাতের প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাবকেই প্রমাণ করে।
তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে শিল্প ও শিক্ষা খাতের সমন্বয়ের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। ২০২৫ সালের মধ্যে বতমানে কর্মক্ষম জনশক্তির প্রায় ৫০ ভাগকেই পুনঃদক্ষ করে তুলতে হবে। দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এবং বেসরকারি খাতকে একযোগে কাজ করা জরুরি।