ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার : টিআইবি

কারাবন্দি অবস্থায় লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুতে ‘ক্ষুব্ধ’ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একই সঙ্গে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে ‘নিবর্তনমূলক’ আখ্যা দিয়ে এটি বাতিলের দাবি জানিয়েছে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি। গতকাল শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলা হয়েছে। 

এতে বলা হয়েছে, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি করে তথাকথিত প্রভাবশালী গোষ্ঠীর হাতে ভিন্নমত দমনের মোক্ষম হাতিয়ার তুলে দেওয়া হয়েছে। মুশতাক আহমেদের মৃত্যুই প্রমাণ করে যে সমালোচনা সহ্য করার মতো সৎ সাহস সরকারের নেই। গণতন্ত্র ও সংবিধানের প্রতি ন্যূনতম দায়বদ্ধতা থাকলে এই মর্মদন্তু ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ ও ব্যক্তিকে দায়বদ্ধতার আওতায় আনতেই হবে।’

বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ‘নিবর্তনমূলক একই মামলায় অন্য অভিযুক্তরা জামিন পেলেও ছয়বার আবেদন করা সত্ত্বেও মুশতাক আহমেদের জামিন না হওয়া প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তার চেয়েও বড় বিষয় হচ্ছে, রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি রক্ষার নামে দিনের পর দিন জেলখানায় আটকে রাখা এবং রাষ্ট্রীয় হেফাজতে মৃত্যুকে সরকার আর দশটি ঘটনার মতোই বিবেচনা করছে। এ ক্ষেত্রে মৃত্যুর কারণ তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তাতে বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা ব্যক্তিবিশেষ দূরভিসন্ধিমূলকভাবে অপব্যবহার করছে কি না, সে সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাব পাওয়া যাবে, এমন আশা প্রায় অলীক। যদিও এমন মর্মান্তিক ঘটনার কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিতে এসব প্রশ্নের উত্তর জানা আজ জরুরি হয়ে পড়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও তার অপব্যবহারই যে মুশতাকের মৃত্যুর কারণ, এ কথা সরকার কীভাবে অস্বীকার করবে?’

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য উদ্ধৃত করে টিআইবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘২০২০ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে ৪৫৭ ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে ১৯৭টি মামলা হয়েছে, যেখানে ৪১টি মামলায় ৭৫ জন পেশাদার গণমাধ্যমকর্মীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই আইনে করা মামলার অধিকাংশেরই বাদী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নয়তো ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী।’

ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি যে বিরোধী মত ও সমালোচকদের কণ্ঠরোধ করতেই কার্যত ব্যবহৃত হচ্ছে, তা বলাটা অত্যুক্তি হবে না। একইভাবে আইনটি বহাল রেখে দেশে বাকস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার চর্চা অব্যাহত রয়েছে এমন দাবি অবান্তর। অবিলম্বে এই বিতর্কিত আইনটি বাতিলের দাবি জানাচ্ছি আমরা।’