সরকারের সমালোচক বা ভিন্নমতাবলম্বীদের হুমকি-ধমকি, হয়রানি বা কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্র সহ্য করবে না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন। গত শুক্রবার সৌদি আরবে ভিন্নমতাবলম্বীদের দমন-পীড়নে অভিযুক্ত ৭৬ নাগরিকের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি সংক্রান্ত এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা জানান।
এর মাত্র এক দিন আগেই গত বৃহস্পতিবার ২০১৮ সালে তুরস্কে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতর সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যার গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। চার পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে হত্যাকাণ্ডের ‘নির্দেশদাতা’ এবং এর সঙ্গে জড়িত মোট ২১ ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
জামাল খাশোগি সৌদি রাজপরিবারের অন্যতম সমালোচক ছিলেন। ওয়াশিংটন পোস্টে লেখা কলামে তিনি রাজপরিবারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করতেন। নিহত এ সাংবাদিকের নামানুসারেই ‘খাশোগি নিষেধাজ্ঞা’ চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এ বিষয়ে ব্লিনকেন তার বিবৃতিতে বলেছেন, যারা কোনো বিদেশি সরকারের পক্ষে ‘বাইরের ভিন্নমতাবলম্বীবিরোধী’ গুরুতর কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকবেন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিভাগ ওইসব ব্যক্তির ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে। সাংবাদিক, সমাজকর্মী বা অন্য ব্যক্তি যারা তাদের কাজের জন্য ভিন্নমতাবলম্বী হিসেবে বিবেচিত হন, তাদের ওপর চাপ দেওয়া, হয়রানি, নজরদারি, হুমকি বা ক্ষয়ক্ষতিও এ ধরনের অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন ইতিমধ্যে খাশোগি হত্যাকাণ্ড ছাড়াও ভিন্নমতাবলম্বীবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত ৭৬ সৌদি নাগরিকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিতে শুরু করেছে। বিবৃতিতে ব্লিনকেন বলেন, যদিও সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক রেখেছে, তবে প্রেসিডেন্ট বাইডেন এটা পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, এই অংশীদারিত্বে অবশ্যই মার্কিন মূল্যবোধের প্রতিফলন থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা এটা পুরোপুরি পরিষ্কার করেছি যে, সমাজকর্মী, ভিন্নমতাবলম্বী এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের ‘সীমান্তবহির্ভূত’ হুমকি ও হামলা অবশ্যই শেষ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র এগুলো সহ্য করবে না।