দেশের সব মানুষের ডিজিটাল সুরক্ষার জন্যই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ‘বিশ্বের বহু দেশে এ আইন আছে এবং এর অপপ্রয়োগ রোধে সরকার সতর্ক দৃষ্টি রাখছে।’ গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে শামীম আহমেদ সম্পাদিত ‘শেখ হাসিনা : ঘুরে দাঁড়ানোর বাংলাদেশ’ সচিত্র গ্রন্থটির ৩য় সংস্করণ প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে-বিদেশে ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ অনলাইনে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। সম্প্রতি করোনা টিকা নিয়েও নানা অপপ্রচার চলেছেটিকা সময়মতো আসবে না বলার পর যখন এসে গেল, তখন বলা হলো এটি ক্ষতিকর, তারপর এখন অপপ্রচারকারীরাই গোপনে-প্রকাশ্যে টিকা নিচ্ছেন। দেশের অভ্যন্তর থেকে এবং বিদেশে বসেও ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার করে নিজের পরিচয় গোপন রেখে অন্যের চরিত্রহনন করা হচ্ছে। লেখক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, গৃহিণী, চাকরিজীবী, কৃষক, রিকশাচালক, খেটে-খাওয়া মানুষ সবার ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য এবং দেশের স্বার্থে সবাইকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য এ আইন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আইনের চোখে দোষ করলে তিনি গ্রেপ্তার হন। কিন্তু জেলখানায় কারও মৃত্যু কখনো কাম্য নয়। সেজন্য আমিও ব্যথিত। কিন্তু এ আইনের প্রয়োজন আছে। এ আইন শুধু বাংলাদেশে নয়, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়াতেও আছে। এমনকি সমগ্র ইউরোপীয় ইউনিয়নেও একটি ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় নাগরিকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা দেওয়া হয়। যেসব দেশের রাষ্ট্রদূতরা এ নিয়ে বিবৃতি দেন, তাদের দেশেও এ আইন আছে। তবে আইনের অপপ্রয়োগ হওয়া উচিত নয়। এ বিষয়েও আমরা সতর্ক দৃষ্টি রাখছি।’
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামানের সভাপতিত্বে আলোচনায় আরও অংশ নেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মালেক, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন প্রমুখ।