সরাইলে বিএনপির কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে উত্তপ্ত অবস্থা বিরাজ করছে। এ কমিটিকে অবৈধ দাবি করে গতকাল সোমবারও বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করেছে একাংশের নেতাকর্মীরা। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আক্তার হোসেন ও সাবেক সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে মাঠে নেমেছেন তারা।

ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বিক্ষোভে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জিল্লুর রহমানের গলায় জুতার ছবি সংবলিত ফেস্টুন ব্যবহারসহ নানা অশালীন সেøাগান দেন। টাকার বিনিময়ে কমিটি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন বক্তারা। এ কমিটি বিলুপ্ত না হওয়া পর্যন্ত দিয়েছেন আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আলটিমেটাম।

জানা যায়, সরাইল উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্তির দুই মাস পর গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে ৩১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে জেলা বিএনপি। ওই কমিটিতে আনিছুল ইসলাম ঠাকুরকে আহ্বায়ক ও নূরুজ্জামান লস্কর তপুকে করা হয় সদস্য সচিব। কমিটি প্রকাশের পরই বিক্ষোভ করে বিএনপির একাংশ। প্রতিক্রিয়ায় উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন পদত্যাগের ঘোষণা দেন। আর সাবেক কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি জহিরউদ্দিন আহমেদ বলেন, কমিটি গঠনে বিধি মানা হয়নি।

গতকাল সকাল থেকে বিভিন্ন স্তরের দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা সরাইল সদরের বিভিন্ন পয়েন্টে জড়ো হতে থাকেন। সকাল সোয়া ১০টার দিকে আনোয়ার হোসেন ও জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আক্তার হোসেনের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলে বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির ছয় সদস্য, যুবদল ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সম্পাদক, বিভিন্ন ইউনিয়নের বিএনপির নেতাকর্মীসহ কয়েকশ লোক অংশগ্রহণ করেন। তারা আহ্বায়ক কমিটিকে অবৈধ দাবি করে জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে নানা অশালীন সেøাগান দেন। প্রধান সড়ক হয়ে মিছিলটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে পথসভায় মিলিত হয়। আক্তার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় বক্তব্য রাখেন সদ্য সাবেক কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি জহিরউদ্দিন আহমেদ, সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক আজমল হোসেন ছোটন ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সম্পাদক আবদুল জব্বার। উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বলেন, মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেনের মাধ্যমে করা কমিটি আমরা মানব না। কমিটি বাতিল না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি পালন করে যাব।

নবগঠিত উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক আনিছুল ইসলাম ঠাকুর বলেন, দল থেকে নয়, পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলাম। পদত্যাগপত্রটি জেলা কমিটি গ্রহণ করেনি।

জেলা কমিটির আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান অর্থগ্রহণসহ সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বড় দল। অনেকেই বাদ ংপড়েছেন। তারা ক্ষুব্ধ হতেই পারেন।