ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বন্দি লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। ওই ঘটনার দ্রুত স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংস্থাটির মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাসেলেট। একই সঙ্গে আইনটির প্রয়োগ স্থগিত করে এর পর্যালোচনা করারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কারাগারে ছিলেন মুশতাক আহমেদ। সেখানেই তার মৃত্যু হয়েছে। এ আইনের প্রয়োগ স্থগিত করা প্রয়োজন। যারা এ আইনের কারণে কারাগারে তাদের ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। অবশ্যই সবাইকে নিজের স্বাধীন মতামত তুলে ধরার সুযোগ দিতে হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় সরকারকে সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। সেই সঙ্গে কারাগারে বন্দিদের নানা ভোগান্তির অভিযোগ পরিষ্কার হওয়া জরুরি। সরকারের সমালোচনার শাস্তি দিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের দুর্বলভাবে সংজ্ঞায়িত বিধানগুলোর বিষয়ে জাতিসংঘের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থাগুলো উদ্বেগ জানিয়ে আসছে দীর্ঘদিন। জরুরি ভিত্তিতে আইনটির প্রয়োগ স্থগিত করা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে এর বিধানগুলো পর্যালোচনা করা দরকার।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি কারাগারেই মারা যান মুশতাক। একই অভিযোগে এখন আটক রয়েছেন কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর। তার ওপর নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে হাইকমিশনার মিশেল ব্যাসেলেট উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, অভিযোগের তাৎক্ষণিক ও কার্যকর তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে কিশোরের নিরাপত্তা এবং সুস্থতা নিশ্চিত করতে হবে।