ই-বুকের বিরুদ্ধে একডজন একটি পয়েন্ট

ই-বুক হচ্ছে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র। বিশেষ করে উই এই ষড়যন্ত্রের প্রধান বলি। কাগজে ছাপা বই-ই যদি না থাকল, তবে উই খাবে কী? ধর্মনিরপেক্ষ, দলনিরপেক্ষ, লিঙ্গনিরপেক্ষ, চেতনানিরপেক্ষ এই পোকা খিদের সময় বাছ-বিচার করে না রবীন্দ্রনাথ খায়, নজরুল খায়, কোটপ্যান্ট খায়, সায়া-ব্লাউজ খায়, বক্ষবন্ধনী পেলে তা-ও খায়; বিএনপির গঠনতন্ত্র খায়, আওয়ামী লীগের মেনিফেস্টো খায়; অ্যাডাম স্মিথের ওয়েলথ অব ন্যাশনস খায়, কার্ল মার্ক্সের দাস ক্যাপিটাল খায়।

সম্ভ্রান্ত নারী উম্মে সামি সৌদি আরবের বিয়ের ঘটকনেত্রী, ই-বুককে গাল-মন্দ করতে আমাকে উৎসাহিত করেছেন। জেদ্দার প্রতিষ্ঠিত ঘটকালি এজেন্সির প্রধান তিনি। সে দেশের অনলাইন ঘটকালির ওপর ভীষণ চটেছেন। সামাজিক ইলেকট্রনিক মাধ্যম ব্যবহার করে পাত্রপাত্রীর সন্ধান শুরু হয়েছে, বিয়েও হচ্ছে, এমনকি হালাল ডেটিং নামের অনলাইন যোগসূত্র প্রতিষ্ঠাকারী সংগঠনও গড়ে উঠেছে। উম্মে সামি সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়ে দিয়েছেন : ক) অনলাইন ঘটকালি নাজায়েজ। খ) অনলাইন ঘটকালির মাধ্যমে সম্পাদিত বিয়ের পরিণতি তালাক। গ) অনলাইন ঘটকালি বে-শরিয়তি এবং প্রতারণাপূর্ণ। ঘ) অনলাইন ঘটকালি সংঘটিত পতিতাবৃত্তির আরেক নাম।

উম্মে সামি কেন চটলেন? অনলাইন ঘটকালির কারণে তার সনাতন ঘটকালি ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিটি সফল ঘটকালির জন্য বরপক্ষ এবং কনেপক্ষ উভয়েই ২০০০ রিয়েল করে ৪০০০ রিয়েল ফি দিয়ে থাকে; খুশি হয়ে তারপর যথেষ্ট উপরিও প্রদান করে। শুধু উম্মে সামির প্রতিষ্ঠান নয়, অন্যান্য ঘটকের সনাতন প্রতিষ্ঠানও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। তারাও মনে করেন বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা ডিজিটাল জগতে প্রবেশ করে মর্যাদা হারিয়েছে। তৃতীয় বা চতুর্থ বিয়ে করতে আগ্রহী একাধিক পুরুষ অনলাইন ঘটকের প্রতারণার শিকার হয়েছেন। প্রতারিত পুরুষদের কেউ কেউ এখন উম্মে সামিকে সমর্থন করে বক্তব্য দিচ্ছেন। বলছেন, অনলাইন ঘটকালি ইবলিসের কাজ। ‘ই’যুক্ত শব্দ ইবলিসের ব্যাপারে অ্যালার্জিক না হওয়ার কারণ নেই, ‘ই’যুক্ত ইন্তেকাল-ভীতিও অমূলক নয়, আমিও ‘ই’বুককে নাজায়েজ ঘোষণা দেব কি না ভাবছি।

‘ই-ঘটকালি’ উম্মে সামির সনাতন ঘটকালির বাড়া ভাতে ছাই দিয়েছে, আমার ছাপা বইয়ের ব্যবসা নেই, কিন্তু যাদের আছে তাদের অনেকের সঙ্গেই সুসম্পর্ক রয়েছে। তাদের স্বার্থে দু-চারটে ই-বুকবিরোধী কথা তো বলতেই পারি। সনাতন ঘটকালির মতো ছাপা বইয়ের অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে। আমরা যদি ছাপা বইয়ের পাশে না দাঁড়াই তাহলে কে দাঁড়াবে? ডি এল রায়ের ‘নন্দলাল’ কবিতার দুটো পঙ্ক্তি উদ্ধৃত করতেই হয়। দেশোদ্ধারের কঠিন ব্রত নিয়ে নন্দলাল বললেন :

“আমি যদি না করি তাহলে কে করিবে উদ্ধার এই দেশ

তখন সকলে বলিল, ‘বাহবা বাহবা বাহবা বেশ।”

সুতরাং ই-বুকের মুন্ডু পাত করতে আমিও কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট বের করেছি, ই-বুকবিরোধী বক্তব্য দেওয়ার সময় এই পয়েন্টগুলো কাজে লাগানো যাবে।

প্রথম পয়েন্ট : আমার মতো আরও যারা জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে দু-একটি বই চুরি করার থ্রিল ও আনন্দ উপভোগ করেছেন (ধরা পড়ে কেউ কেউ মারও খেয়েছেন), তখন ই-বুকের যুগ থাকলে এই দুর্লভ থ্রিল ও আনন্দ থেকে (মার থেকেও) আমরা বঞ্চিত হতাম। এটা মানতেই হবে কেউ কেউ অবৈধভাবে ইন্টারনেট উৎস থেকে বই ডাউনলোডও করে থাকেন। কিন্তু তাতে চুরির ঝুঁকি ও থ্রিল থাকে না। ই-বুক চুরি করে ‘চোর’ ‘চোর’ ধাওয়ায় অলিগলি দিয়ে ছুটতে ছুটতে পচা পুকুরে কচুরিপানার ঝোপে কেউ লুকিয়েছেন এ যাবৎ শুনিনি। তার মানে বই চুরির সংস্কৃতির বারোটা বাজতে যাচ্ছে।

দ্বিতীয় পয়েন্ট : ই-বুক হচ্ছে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র। বিশেষ করে উই এই ষড়যন্ত্রের প্রধান বলি। কাগজে ছাপা বই-ই যদি না থাকল, তবে উই খাবে কী? ধর্মনিরপেক্ষ, দলনিরপেক্ষ, লিঙ্গনিরপেক্ষ, চেতনানিরপেক্ষ এই পোকা খিদের সময় বাছ-বিচার করে না রবীন্দ্রনাথ খায়, নজরুল খায়, কোটপ্যান্ট খায়, সায়া-ব্লাউজ খায়, বক্ষবন্ধনী পেলে তা-ও খায়; বিএনপির গঠনতন্ত্র খায়, আওয়ামী লীগের মেনিফেস্টো খায়; অ্যাডাম স্মিথের ওয়েলথ অব ন্যাশনস খায়, কার্ল মার্ক্সের দাস ক্যাপিটাল খায়। কিন্তু ই-বুক খাবে কেমন করে? ছড়াটি স্মরণ করুন :

‘‘শিল্পীর মাথায়/পিলপিল করে/আইডিয়া/শিল্পী লিখেন/

তাই দিয়া/উইপোকা কয়, চল/খাই গিয়া।’’

ভার্চুয়াল খাবারে আর যাই হোক পেট ভরবে না। উইপোকাকে লেখকবৈরী মনে করা হতে পারে, উইপোকা যে লেখকবান্ধবও, এটা বিবেচনায় আনা হয় না। যেসব লেখকের প্রাণান্তকর প্রচেষ্টায় বইটি বাজারে কাটে না, উই তাদেরটা কেটে দেয়। একেবারে নিঃশেষ করে দেয় সংস্করণের সব কটি বই। কাজেই ডিজিটাল ষড়যন্ত্র রুখতেই হবে।

তৃতীয় পয়েন্ট : সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘একা এবং কয়েকজন’ নামের থান ইট আকারের উপন্যাসটা কেবল বেরিয়েছে। সদ্য ছাপাখানা থেকে বের হওয়া একটি বই নিয়ে তিনি ছুটলেন ঔপন্যাসিক কমলকুমার মজুমদারের বাড়ি। তাকে উপহার দেবেন। গিয়ে দেখলেন কমলকুমারের সামনে একটা খানিকটা পা-ভাঙা চেয়ার। সুনীল তাকে বললেন, ‘এই চেয়ারটার পায়ের তলায় ঠেক দেওয়ার জন্য একটি বই নিয়ে এসেছি! জ্যেষ্ঠের প্রতি কনিষ্ঠের যে দায়িত্ব সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তা যথার্থই পালন করেছেন। কিন্তু ‘একা এবং কয়েকজন’ যদি ই-বুক হতো সুনীল কী করতেন? কাগুজে বই ভাঙা চেয়ার-টেবিল-চৌকির ভাঙা পায়ায় ঠেক দিতে কাজে লাগানো যায়। গার্হস্থ্য কাজে ই-বুকের কোনো ব্যবহার নেই। যার বহুবিধ ব্যবহার নেই, তার বহুল প্রচার কামনা করতে যাব কোন দুঃখে।

চতুর্থ পয়েন্ট : ই-বুক স্কুল-কলেজপড়–য়া ছাত্রছাত্রীর প্রেমের সুযোগ হরণ করে। আমাদের আমলে ছেলেটি যখন মেয়েটির হাতে ‘একের ভেতর পাঁচ’ কিংবা ‘ফাংশনাল ইংলিশ’ বইটি দিত, তখন বইয়ের সঙ্গে দিত আরও গুরুত্বপূর্ণ কিছু একটি প্রেমপত্র। যে কথা মুখে বলা যায়নি, বই তা বহন করে নিয়ে গেছে, সংগোপনে। আবার বইটি যখন ফিরেছে পাতার ফাঁকে ফাঁকে গোলাপের শুকনো পাপড়ি, হয়তো চিঠির উত্তরও। ই-বুক পারবে নর-নারীর অন্তরের আদান-প্রদান নিশ্চিত করতে? এমন প্রেমহরা বইয়ের জন্য আমার বয়েই গেছে।

পঞ্চম পয়েন্ট : ই-বুক থাকলে শেরেবাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক সৃষ্টি হতেন না। আদালত থেকে বাড়ি ফিরেই ওয়াজেদ উকিল শুনলেন তার ছেলে নিজের সব বই ছিঁড়ে ফেলেছে। রেগেমেগে বই ছেঁড়ার কারণ যখন জিজ্ঞেস করলেন, ফজলুল হক বললেন, বইয়ের সব পড়া শেখা হয়ে গেছে। এসব বইয়ের আর দরকার নেই। সত্যিই শেখা হয়েছে কি না জানতে ওয়াজেদ উকিল ছেলেকে জিজ্ঞেস করলেন, বইয়ের ৩৫ পৃষ্ঠায় কী আছে? আর কয়েকটি পাতার কথাও বললেন। ছেলে মুখস্থ সব শুনিয়ে দিলেন। তিনি বুঝতে পারলেন, এই ছেলে এক দিন বড় কিছু হবে। ছেলে শেষ পর্যন্ত শেরেবাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক হয়েছেন। যদি সে সময় কাগজের বইয়ের বদলে ভার্চুয়াল বই থাকত, মানে ই-বুক, তাহলে তিনি কেমন করে ছিঁড়তেন। কাগজের বই ছিল বলেই তিনি তা ছিঁড়তে পেরেছেন। আমার শৈশবে বাবার মুখে শুনেছি, বই ছিঁড়লেই শেরেবাংলা হওয়া যায় না। তার আগে বইটি মুখস্থ করতে হবে। ই-বুক যতই কেউ মুখস্থ করুন না কেন, লাভ নেই, ছিঁড়তে না পারলে বড় কিছু হওয়া সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী বলা সম্ভব নয়।

ষষ্ঠ পয়েন্ট : তলস্তয়ের ‘ওয়ার অ্যান্ড পিস’ যদি কাগজে ছাপা থান ইট আকৃতির বই না হতো, তাহলে আয়ান ফ্লেমিং তার জেমস বন্ড সিরিজের ‘ফ্রম রাশিয়া উইথ লাভ’ লিখতে গিয়ে ভীষণ সংকটে পড়ে যেতেন। এই কাহিনীর খলনায়ক রেড গ্রান্ট তার পিস্তলটা বের করেন ‘ওয়ার অ্যান্ড পিস’-এর ভেতর থেকে। ভেতরে পিস্তল আকৃতির গর্ত করে তাতে যন্ত্রটা লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। এটি যদি ই-বুক হতো তাহলে কী হতো ভাবুন তো।

‘এসকেপ ফ্রম আলকাট্রেজ’ সিনেমায় ফ্রাঙ্ক মরিস বাইবেলের ভেতর নেইল কাটার লুকিয়ে রেখেছিলেন। হাই-সিকিউরিটি প্রিজন আলকাট্রেজ থেকে পালাতে সবচেয়ে বেশি কাজে লেগেছে এই নেইল কাটার। ভাগ্যিস বাইবেলও কাগজের। ‘দ্য গেইম’ সিনেমায় মাইকেল ডগলাস যে বই থেকে তার বন্দুকটা তুলে আনেন, সেই বইয়ের নাম ‘টু কিল অ্যা মকিংবার্ড’। রবার্ট লুডলামের ‘দ্য জ্যানসেন ডিরেক্টিভ’ উপন্যাসে পয়েন্ট ২২ বোরের পিস্তল বের হয় স্যামুয়েল জনসনের ‘অ্যা ডিকশনারি অব দ্য ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ’ থেকে। এমনকি বইয়ের ভেতর থেকে পিস্তল বের করে উড়োজাহাজ হাইজ্যাক করার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কাজে ই-বুক কোনো ভূমিকা রাখতে পারবে? ইম্পসিবল, পারবে না।

সপ্তম পয়েন্ট : পাবলো নেরুদার প্রেমের কবিতার বই উপহার দিয়ে আপনি যে নারীর সঙ্গে প্রেম শুরু করেছিলেন, এখন তার হাত থেকে রেহাই পেতে চান, কিন্তু কেমন করে? খুব সহজ, বই দিয়ে। ভ্যালেন্টাইন ডে তে তাকে চার্লস ডারউইনের ‘দ্য অরিজিন অব স্পিসিস’ এবং ‘মরণের পর আত্মা কোথায় যায়’ উপহার দিন। দুটিই কাগুজে বই। চিন্তা করবেন না, পরবর্তী ভ্যালেন্টাইন ডে’র আগেই রেহাই পেয়ে যাবেন। ভাববে, আপনি পাগল হয়ে গেছেন।

অষ্টম পয়েন্ট : ই-বুক কমোড সহায়ক নয়। দুটো বড় কাগুজে অভিধানের ওপর পা রেখে বাড়ির সর্বকনিষ্ঠ সন্তানটি কমোডে বসত। কিন্তু ই-বুক? সাড়ে তিন হাজার হার্ড কভার বইয়ের ওজন ২ টন। এর জন্য জায়গা লাগে ৪ গিগাবাইটেরও কম এক গ্রামের বিলিয়ন ভাগের এক ভাগ। তো পা রাখবে কোথায়? কমোডবান্ধব হার্ড কভার বই চাই।

নবম পয়েন্ট : বিভিন্ন যুগে যারা কাট অ্যান্ড পেস্ট পদ্ধতিতে বঙ্গবন্ধু এবং জিয়াউর রহমানকে নিয়ে বই লিখে, ছেপে, সরকারের কাছে বেচে জীবনধারণ করেন এবং তকমাপ্রাপ্ত হন, ই-বুক তাদের ভীষণ বঞ্চিত করবে, তারা বিদ্রোহী হয়ে উঠবেন এবং রাষ্ট্রে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃিষ্ট করবেন। স্থিতিশীলতার জন্য চাই হার্ড কভার বই।

দশম পয়েন্ট : লেখকের স্ত্রী বিভিন্ন কারণে স্বামীর ওপর অসন্তুষ্ট থাকবেন, এটাই স্বাভাবিক। খুব বেশি রেগে গেলে এত দিন শেলফ থেকে স্বামীর লেখা কিছু বই নামিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে রাগ মেটাতেন। ই-বুক আমল লেখকের জন্য অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কাগজে বই না পেলে যদি লেখককে চুলোতে ঠেলে দেন!

একাদশ পয়েন্ট : ছাপা বই হটিয়ে দিলে পেশাদার মোড়ক-উন্মোচনকারীদের মধ্যে ভীষণ হতাশা দেখা দেবে। তাদের হতাশা করোনাভাইরাসের মতো তাদের বুদ্ধিজীবী ভক্তদের সংক্রমিত করবে। তাতে জাতীয় বুদ্ধিসংকট সৃষ্টি হবে।

দ্বাদশ পয়েন্ট : সরকারি গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে বসে যারা বই প্রকাশ করেন এবং অধস্তন কর্মচারীদের সেসব বই কিনতে বাধ্য করেন। ছাপা বই না থাকলে বই প্রকাশনার সৃজনশীল উপখাতে তাদের বাড়তি কামাইয়ের সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাবে। সৃজনশীল আয় বন্ধ হয়ে গেলে তারা বিষন্ন হয়ে পড়বেন, তাদের উৎপাদন ক্ষমতা কমে যাবে, রাষ্ট্র বঞ্চিত হবে তাদের পূর্ণসেবা থেকে।

ত্রয়োদশ পয়েন্ট : যখন চেয়ারে দাঁড়িয়েও সিলিং কিংবা ফ্যান থেকে ঝোলানো ফাঁসের ভেতর মাথা ঢোকানো যায় না, তখন সহজ উপায় চেয়ারের ওপর মোটা মোটা দুটো বই রেখে তার ওপর দাঁড়ালেই মাথা ঢুকে পড়বে। ই-বই দিয়ে তা কি কখনো সম্ভব? খাটো বুদ্ধিজীবীদের (বুদ্ধিতে নয় লম্বায়) বেলায় দু-চারটে বই বেশি লাগবে।

আরও পয়েন্ট বের করা যাবে। তবে এই তেরোটি তো কম গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট নয়। ছাপা বইয়ের ডুমসডে বা কেয়ামত ঠেকাতে হবে। অনলাইন ঘটকালির মতো ই-বুকও শরিয়তসিদ্ধ নয়।

লেখক : কথাসাহিত্যিক ও অনুবাদক